দিল্লির রক্তপাত নিয়ে লাগাতার দ্বিতীয় দিনেও উত্তাল ভারতের সংসদ, ধাক্কাধাক্কি ও অচলাবস্থা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: দিল্লির ‘হিংসা’ নিয়ে লোকসভায় অশান্তি চরমে উঠল। লাগাতার দ্বিতীয় দিন লোকসভার ভিতর নজিরবিহীন বিরোধে জড়িয়ে পড়লেন ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী সাংসদরা। তাদের মধ্যে আবার চিৎকার, চেঁচামিচি এবং ধাক্কাধাক্কি হল।

সোমবারের ঘটনা থেকেও আজকের পরিস্থিতির তীব্রতা সম্ভবত বেশি ছিল। সঙ্গে ছিল ওয়েলে নেমে দুই পক্ষের প্রবল চিৎকার, তর্ক-বিতর্ক। যার মধ্যে সামিল হলেন মন্ত্রীরাও। ফলে মঙ্গলবারও অচল থাকল লোকসভা।

দিল্লির ‘হিংসা’র দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইস্তফার দাবি সোমবার থেকেই করছে কংগ্রেস। এর সঙ্গে মঙ্গলবার যুক্ত হয়েছিল আরেকটি দাবি। অবিলম্বে লোকসভায় ‘হিংসা’ নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এই দাবি পুরোপুরি মানতে চায়নি সরকারপক্ষ।

স্পিকার ওম বিড়লা জানিয়ে দেন, সরকার আলোচনা চায়, কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির হিংসা নিয়ে আলোচনা ঠিক হবে না। হোলি বা দোলের পরেই তা হওয়া ভাল। আগামী ১০ মার্চ হোলি। তারপরে এই আলোচনার সিদ্ধান্ত বিরোধীরা মানতে চাননি। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বিএসপি, এনসিপি সহ সব বিরোধী দলের সাংসদরা ওয়েলে নেমে আসেন। তৃমমূল সাংসদরা অবশ্য ওয়েলে নামেননি। তারা নিজেদের জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন।

এই সময় স্পিকার ওম বিড়লা ব্যাঙ্কিং রেগুলেশন বিল পাস করাতে উদ্যোগী হন। তখন লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীর চৌধুরী নিজের আসন ছেড়ে দিয়ে সোজা হাজির হয়ে যান প্রধানমন্ত্রী যেখানে বসেন তার সামনে, স্পিকারের আসনের ডান দিকে।

ভারতে লোকসভা ও রাজ্যসভা কক্ষ হল প্রায় গোলাকার। স্পিকার যেখানে বসেন, তার ডানদিকে বসেন সরকারপক্ষ, বাঁদিকে বিরোধীরা। সামনে সচিবালয়ের কর্মীদের জন্য একটু জায়গা বরাদ্দ। তারপর সাংসদদের চলাচলের জন্য অর্ধচন্দ্রাকার জায়গাকে বলে ওয়েল। এ দিন সকালেই স্পিকার সর্বদলীয় বৈঠকের পর রায় দিয়েছিলেন, বিরোধীরা সরকারপক্ষের দিকে আসবেন না। সরকারপক্ষ বিরোধীদের দিকে যাবে না।

বিরোধী সাংসদরা নিজেদের দিকেই ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে আলোচনা না করে বিল পাস করানো হচ্ছে দেখে প্রবল উত্তেজিত হয়ে অধীর উল্টোদিকে চলে যান। তাকে থামাবার জন্য নেমে আসেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। বাধা অতিক্রম করে স্পিকারের পাশে পৌঁছে গিয়ে অধীর জানতে চান, কেন বিল পাস করা হচ্ছে? কেন আলোচনা হচ্ছে না? এরপরই শুরু হয় গোলমাল। বিজেপির সাংসদরা নেমে আসেন ওয়েলে। বিরোধীরাও চলে আসেন। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। কিছু মন্ত্রীকেও দেখা য়ায় উত্তেজিত তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে। সব মিলিয়ে আবার সেই চূড়ান্ত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। স্পিকার তখন অধিবেশন আজকের দিনের মতো মুলতবি করে দেন।

বিরোধীদের দাবি, দিল্লিতে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তাতে অবিলম্বে আলোচনা হওয়া দরকার। তারা আক্রান্তদের কথা তুলে ধরতে চান, যারা এখনও গৃহহীন। তারা সেই সব মানুষের কথা তুলে ধরতে চান, যারা সর্বস্ব খুইয়েছেন। সেই সঙ্গে যারা এই দাঙ্গা করেছে, তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান। অমিত শাহের ইস্তফার দাবিতে এ দিনও সোচ্চার ছিলেন তারা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দিল্লি রক্তপাত নিয়ে সামনের দিনগুলিতে লোকসভা আরও উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সূত্র: ডি ডাব্লিও

পূর্ববর্তি সংবাদভারতের সাথে সম্পর্ক যত ভাল হবে ততই আমাদের লাভ: জিএম কাদের
পরবর্তি সংবাদউইগুর মুসলমানদের জোরপূর্বক কাজ করাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্রান্ড