‘আমাদের কোরআন শেখার পিছনে মক্তবের উস্তাযজীর অনেক অবদান’

এনাম হাসান জুনাইদ ।।

আমার খালা বয়সে আমার চেয়ে বড় ছিলেন। ১৯৯৬ সনে আমার খালা আমার সাথে হজ করতে গেলেন। হজের সময় আরাফা মিনা কোনো জায়গায় তাকে কাঁদতে দেখলাম না। কিন্তু মদীনায় উহুদ পাহাড় জিয়ারতের সময় তিনি কাঁদতে শুরু করলেন।

“আমি জিজ্ঞাসা করলাম, খালা কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন,  মক্তবের হুজুরের কথা মনে পড়েছে। তার কাছে রাসূলের সীরাতের বিভিন্ন ঘটনা শুনেছি। আমাদের কোরআন শরীফ তেলাওয়াত শিখার পিছনে তার অনেক বড় অবদান।”  এক সাক্ষাতকারে  এভাবেই স্মৃতিচারণ করছিলেন বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ বজুর্গ ব্যক্তিত্ব প্রফেসর হামিদুর রহমান।

হযরত প্রফেসর হামিদুর রহমান হাকীমুল উম্মত রহমতুল্লাহি আলাইহি এর দুইজন বিশিষ্ট খলিফা হযরত হাফেজ্জী হুজুর এবং হযরত হারদুঈর বিশিষ্ট খলীফা। বাংলাদেশে বহু মানুষ তার মাধ্যমে দ্বীনের পথে এসেছেন।

হযরত তার নিজের মক্তবের কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমার জীবনে কুরআনের প্রতি ভালোবাসার সম্পদ লাভ করার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মক্তবের উস্তায হযরত কারী মকবুল হুসাইন ছাহেবের। মক্তবে ভর্তি হওয়ার আগেই শুনে শুনে তার থেকে অনেক আয়াত আমার মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল।

“যখন স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে পড়ার সময় মক্তবে ভর্তি হলাম, তখন হুজুরের কাছে কায়দা আমপারা শেষ করলাম। কুরআন শরীফের সবক নিলাম। কুরআন শরীফ থেকে কিছু আয়াত তিনি সব ছাত্রকে মুখস্ত করাতেন।এখনও ভাবতে অবাক লাগে, সেই ছোট বয়সে আমি কুরআনের এত গুলো আয়াত কিভাবে মুখস্ত করলাম… সত্যি বলতে কি এ সবই কারী ছাহেবের অবদান” যোগ করেন প্রফেসর হযরত।

হযরত প্রফেসর ছাহেব নিজে যেমন কুরআনের শিক্ষা ধারন করেছেন তেমনি জীবন ভর চেষ্টা করেছেন এবং এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছেন কুরআনের শিক্ষা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে।

মাসিক আল কাউসারে প্রকাশিত তার এক আলোচনার শিরোনাম ছিল, আলিফ বা তা পড়িয়ে হাফেজ্জী হুজুরের চুমু পেয়েছি।

যেভাবে  দিনের শুরুতে মানুষ যা খায় তার প্রভাব সারা দিন থাকে। সারা দিন খাবারের ঢেকুরে সেই খাবারের আভাস পাওয়া যায়  তেমনি  শৈশবের বাচ্চাদের কুরআনের শিক্ষা দিলে তা সারা জীবন তাদের স্মৃতিতে অঙ্কিত হয়ে থাকে- এরই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রফেসর হযরত।

[মাসিক আল কাউসারের বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত হযরতের একটি সাক্ষাতকার অবলম্বনে রচিত]

পূর্ববর্তি সংবাদসন্তানকে গলাকেটে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে
পরবর্তি সংবাদঅভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ প্রিন্স আহমেদ ও ভাতিজা মোহাম্মদের বিরুদ্ধে