হিজড়াদের সঙ্গে পর্দা : ইসলামী শরীয়তের দিকনির্দেশনা কী

ইসলাম টাইমস ডেস্ক :  সম্প্রতি কিছু সমাজ সেবক তরুণ আলেমের ‘হিজড়াদের মাঝে দ্বীনী মেহনতের’ এক ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। গত ২৭-২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি কিছু তরুণ আলেম হিজড়া ভাই-বোনদের মাঝে দ্বীনি কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।

তাদের উদ্যোগকে প্রশংসা করে ইসলাম টাইমসে খবরও প্রকাশ করা হয়েছে। তখন পাঠকদের কারো কারো প্রশ্ন এসেছিল, হিজড়াদের মাঝে দাওয়াতী কাজ চালাতে পর্দার বিষয়টি লক্ষ রাখা হয় কিনা। পাঠকদের এমন প্রশ্ন আমরা মারকাযুদ দাওয়াহর ইফতা বিভাগের একজন আলেম মাওলানা আবু সায়েমের কাছে পাঠিয়েছিলাম।

এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা আবু সায়েম জানিয়েছেন, হিজড়াদের শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ধর্মীয় বিধি-বিধান পালন করা অন্যদের মতাে তাদের জন্যও জরুরী। তবে অন্যদের মতাে তাদের ক্ষেত্রেও পর্দার বিধান লঙ্ঘন করার সুযােগ নেই।

মাওলানা আবু সায়েম বলেন, হিজড়াদের মধ্যে যাদের বাহ্যিক আকার আকৃতি এবং শারীরিক গঠন নারীদের মতাে হবে তাদের ক্ষেত্রে নরীদের বিধি-বিধান প্রযােজ্য হবে। পুরুষদেরকে তাদের সাথে পর্দা করতে হবে। এবং তারাও অন্যান্য নারীদের মতাে পর্দাবৃত হয়ে চলাচল করবে।

“আর যারা আকার আকৃতি ও শারীরিক গঠন প্রকৃতির  দিক থেকে পুরুষের সাথে বেশী সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাহ্যিক অবয়বও পুরুষের মতােই তাদের সাথে পুরুষদের পর্দার প্রয়ােজন নেই। শুধুমাত্র এ ধরণের হিজড়াদের শিক্ষা কার্যক্রমই পর্দা ছাড়া সরাসরি পরিচালনা করা যাবে।” যোগ করেন মাওলানা আবু সায়েম।

প্রসঙ্গত, হিজড়াদের পুনর্বাসনের জন্য তার কর্মসংস্থান করে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন তখনই হবে, যখন তাকে তার পরিবার ও সমাজের সাথে যুক্ত করে জীবন যাপনের স্বাভাবিক ধারায় নিয়ে আসা যাবে। এর জন্য চাই সুচিন্তিত ও দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা। এর সাথে দরকার দাওয়াতী মেহনত। একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে সেও শরীয়তের আওতাধীন। শরীআত তাকে সমাজের গলগ্রহ নয়, বরং সামাজিক ভারবহনের মহিমা দান করেছে।

পূর্ববর্তি সংবাদসৌদি রাজপরিবারে ধরপাকড় চলছেই, অন্তত ২০ যুবরাজ আটক
পরবর্তি সংবাদসৌদিতে করোনা আতঙ্ক : মসজিদুল হারাম খুলে দেওয়া হলেও ওমরা নিষেধাজ্ঞা বহাল