ইসলাম টাইমস: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার প্রতিরোধে জুমা এবং জামাত বিষয়ক জরুরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সৌদি আলমদের শীর্ষ পরিষদ। আক্রান্ত ব্যক্তি ও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন ব্যক্তিদের জুমা এবং জামাতে শরিক হতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
তবে কুয়েতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য জুমা-জামাত স্থগিত করে দেওয়া হলেও সৌদি আরবের আলেমগণ জুমা-জামাত স্থগিত করে দেওয়াকে সঠিক মনে করেননি।
অবশ্য করোনা প্রতিরোধে জুমা ও জামাত বিষয়ক জরুরী ৩ টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে সৌদি সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের বৈঠকে।
গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ‘করোনা প্রতিরোধে জুমা স্থগিত করা যাবে কি না’ শীর্ষক বৈঠকে এ সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়।
সৌদি উলামা পরিষদের গৃহিত ৩ টি সিদ্ধান্ত হল
১. করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য জামাতে অংশ নিবে না এবং জুমার পরিবর্তে বাড়িতে যোহরের নামায আদায় করবে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বলেছেন, لا يورد ممرض علي مصحح অর্থাৎ, মহামারিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ ব্যক্তিদের মাঝে রোগ ছড়াবে না। ( বুখারী, মুসলিম)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম আরও বলেছেন, (অর্থ) কোনো এলাকায় যখন মহামারি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে বাইরের লোকেরা সে এলাকায় যাবে না এবং ভেতরের লোকেরা সে এলাকা ত্যাগ করবে না। (বুখারি, মুসলিম)
২. কর্তৃপক্ষ যদি কাউকে কোয়ারান্টাইনে থাকার নির্দেশ দেন, সেও জুমা-জামাতে শামিল হবে না। বরং তার কোয়ারান্টাইনে থাকার জায়গায়ই নামায পড়ে নিবে। এ প্রসঙ্গে শারিদ ইবনে সুওয়াইদ রাযি.-এর হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে, বনু সাকীফ গোত্রের এক কুষ্টরোগী রাসূলের কাছে বাইয়াত করতে আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম তাকে মদিনায় প্রবেশ করতে বাধা দেন। রাসূল বরং তাকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, তুমি ফিরে যাও। তোমার বাইয়াত গ্রহণ হয়ে গেছে। ( মুসলিম)
৩. কেউ যদি মসজিদে গেলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করে তার জন্য বাড়িতে নামায পড়ার সুযোগ রয়েছে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বলেছেন, لا ضرر ولا ضرار
উল্লেখ্য, বিশ্বের অনেক জায়গায় করোনা প্রতিরোধে জুমা এবং জামাতে নামায আদায় স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ কুয়েত ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে গতকাল স্থগিত করা হয়েছে জুমা এবং জামাতে নামায আদায়। এ ছাড়াও গতকাল শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুমার নামায পড়া হয়নি।
মহামারী আকার ধারণ করেছ করোনা ভাইরাস। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখের মতো। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা। এ অবস্থায় ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।
আল আরাবিয়া থেকে অনুবাদ: তারিক মুজিব
















