ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গভীর রাতে ঘুমন্ত ইমামকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। সজিব (১৮) নামে মসজিদের এক ইমামকে রাকিব শেখ (১৮) নামে এক কিশোরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইমাম গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের রমজান মাতুব্বর পাড়ার মো: সিরাজ সরদারের ছেলে। রাকিবুল একই এলাকার মৃত আ: কুদ্দুস শেখের ছেলে।
জানা যায়, সজিব গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া মাদ্রাসাতুল সাবি-ইল হাসানের দশম শ্রেণীর ছাত্র। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি উপজেলার নবুওসিমদ্দিন পাড়া আঞ্জুমান-ই- কাদেরিয়া মসজিদে ইমামতি করেন।
মসজিদের পাশেই তৈরি একটি টিনের ছাপড়া ঘরে তিনি থাকেন। প্রতিদিনের ন্যায় রোববার রাতে এশার নামাজ শেষে খাবার খেয়ে ওই ঘরেই ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। রাত ২টার দিকে রাকিবুল টিনের বেড়া কেটে ইমাম সাহেবের রুমে ঢুকে ধরালো দা দিয়ে মাথা-ঘাড়-কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে।
এক পর্যায় তাকে মৃত ভেবে রাকিবুল পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ইমাম সাহেবের গোঙানী শুনে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাৎক্ষনিক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।
ইমাম সাহেবকে কুপিয়ে জখম করার কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ইমাম সাহেবের মামা রইচ উদ্দিন জানান, কয়েকদিন আগে সজিবের ৭ম শ্রেনীতে পড়ুয়া বোনকে বিবাহ করার জন্য সজিবের কাছে প্রস্তাব দেয় রাকিব। সজিব সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বরং তার নাবালিকা বোনকে বিয়ে করার প্রস্তাব না দেয়ার জন্য রাকিবকে সাবধান করেন। এ কারণে তার সাথে দ্বন্দ্ব হতে পারে বা আক্রোশ থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।
ইমাম সাহেবের পিতা সিরাজ সরদার বাদী হয়ে রাকিব শেখ এবং তার দুই চাচা ফিরোজ শেখ ও করিম শেখসহ আরো অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আসিকুর রহমান পিপিএম জানান, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে।
















