করোনা সতর্কতায় মাদরাসাগুলোর ছুটিসহ নানা পদক্ষেপ

ওলিউর রহমান ।।

গতকাল অনুষ্ঠিত কওমি মাদরাসা সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড হাইআতুল উলয়ার বৈঠকে মাদরাসাসমূহ বন্ধ দেওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসার প্রেক্ষিতে আলাদা আলাদাভাবে নানা রকম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক মাদরাসা নানা মেয়াদে ছুটি ঘোষণা করেছে। কোথাও অল্পবয়স্ক ছাত্রদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও সতর্কতাবশত ছাত্রদেরকে মাদরাসা থেকে বের হওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনে প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদেরকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, মাদরাসায় থাকার বা বাড়িতে চলে যাওয়ার।

এ বিষয়ে হাইআতুল উলয়ার একাধিক দায়িত্বশীলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছেন, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে এখতিয়ার রয়েছে। যেকোনো সিদ্ধান্ত তারা আলাদা আলাদা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে পরীক্ষা যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

রাজধানীর জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, মুসলিম বাজার মাদরাসা, আম্বরশাহ মাদরাসা, কিশোরগঞ্জের জামিয়া ইমদাদিয়া, ঝিনাইদহের জামিআতুস সুন্নাহ, নিলফামারির জামিয়া ইসলামিয়া রিয়াজিয়া সহ অনেক প্রতিষ্ঠান সাধারণভাবে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর দারুর রাশাদ মাদরাসাসহ আরও কিছু মাদরাসায় যোগাযোগ করে জানা গেছে, সেখানে ছোট ছাত্রদেরকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গাজীপুরের জামিয়া রশিদিয়া সহ বেশ কিছু মাদরাসায় ছাত্রদেরকে মাদরাসার বাইরে বের হওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ করা দেওয়া হয়েছে। সতর্কতামূলক এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সে মাদরাসায় দাওরায়ে হাদীসে অধ্যয়নরত নাহিদ খান।

এদিকে রাজধানী মুহাম্মদপুরের জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা তাহমিদুল মাওলার সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মাদরাসা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলাম টাইমসকে তিনি বলেন, সাধারণভাবে মাদরাসা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্ররা অনেকেই চলে গেছে। তবে বেফাক এবং হাইআতুল উলয়ার পরীক্ষার্থীদের কেউ কেউ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মাদরাসায় থেকেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ছাত্রদেরে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ে অভিভাবকরা বেশ উদ্বিগ্ন ছিল জানিয়ে মাওলানা তাহমিদুল মাওলা বলেন, সতর্কতাবশত: ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ আক্রান্ত হলে এর দায় প্রতিষ্ঠান নিবে না। ছাত্ররা বাড়িতে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবে। ৩১ তারীখের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হলে পূর্বরুটিন অনুযায়ী সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অন্যথায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে।

জামিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জের শিক্ষক মাওলানা ওমর আহমদ জানান, সতর্কতাবশত, মাদরাসা ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ মাদরাসায় রয়ে গেছে। অনেক বাড়ি গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৩১ তারিখের পরে অবস্থার উন্নতি হলে সবকিছু সাধারণ রুটিন অনুযায়ীই পরিচালিত হবে।

এদিকে মিরপুরের দারুর রাশাদ মাদরাসার ছাত্র নুরূদ্দীন তাসলিম ইসলাম টাইমসকে জানিয়েছেন, তাদের মাদরাসায় অল্পবয়স্ক ছাত্রদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বড় ছাত্রদেরকেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে বলা হচ্ছে।

তবে কিছ কিছু মাদরাসায় এখন পর্যন্ত করোনা বিষয়ক কোনো বাহ্যিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরাও কিছুটা উদ্বিগ্ন। এসব শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের পক্ষ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই করোনা বিষয়ক আত্মরক্ষা ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তি সংবাদপৈশাচিক ধান্ধা: হাসপাতালে ব্যবহৃত মাস্ক-গ্লাভস ধুয়ে বিক্রি!
পরবর্তি সংবাদকক্সবাজার ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করল প্রশাসন