ইসলাম টাইমস ডেস্ক : গত ১৬ই মার্চ ইসলাম টাইমসের সম্পাদকীয় লাইভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইসলাম টাইমস সম্পাদক মওলানা শরীফ মুহাম্মদ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা পেশ করেছেন। বিশেষভাবে করোনা ভাইরাস উপলক্ষে ছুটিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি বলেন, “আমরা অতি আতঙ্কিত না হয়ে সর্তকতা অবলম্বন করি। দ্বীনি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে সতর্ক পদক্ষেপ নেই। ছুটির পরে মাদ্রাসার ছাত্র হোক কিংবা স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটির ছাত্র আমরা যেন কোন ভুল আচরণ না করি।
তিনি আরও বলেন, “এই ছুটিকে আমরা এই আমরা অন্যান্য বছরের মত আনন্দের ছুটি, গ্রীষ্মের আম কাঠালের ছুটি মনে না করি। ছুটিতে আমরা অন্যের বাড়িতে বেড়াতে চলে যাব, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাব, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দেব- এই ছুটিতে যেন এমন না হয়। ছুটিটাকে যদি একটা বাড়তি অপ্রত্যশিত ছুটি মনে করে এসব কাজে কাটাই তাহলে এটা আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ছুটিটা আমাদের জন্য হয়ে যাবে আত্মঘাতী ছুটি। অথচ ছুটি দেওয়া হয়েছিল আমাদের উপকারের জন্য।
ছুটিতে এসব বিষয়ে যেন শিক্ষার্থীরা লক্ষ্য রাখে এজন্য অভিভাবকদেরকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। ছুটি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই অভিভাবকদের কি এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। নয়তো এর পরিণতি ছাত্র ও অভিভাবক সহ সবাইকে ভোগ করতে হবে, যোগ করেন মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ।
ছুটিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে ইসলাম টাইমস সম্পাদক বলেন, এই সময়ে আমরা ধর্মীয় বিভিন্ন জিনিস শেখার কাজে কাটানোর চেষ্টা করি। ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করি। কোরআন শরীফের বিভিন্ন সুরা শিখি। কুরআন তেলাওয়াত শিখি। সূরার তরজমা তরজমা শিখি। তাফসীর শিখি। দৈনন্দিন জীবনে রাসুলের সুন্নত শিখি। জরুরী মাসআলা মাসায়েল শিখি।
এসব বিষয়ে জানার জন্যে এখন সম্মিলিতভাবে ক্লাসের আয়োজন করার পরামর্শ দিচ্ছি না। আমি পরামর্শ দিচ্ছি এসব বিষয়ে ছোট ছোট বই পাওয়া যায় সেগুলো আমরা স্কুল-কলেজের ছেলেদেরকে দিতে পারি। এবং স্কুল-কলেজের ছাত্ররা এগুলো আলেমদের সাথে পরামর্শ করে কিনতে পারেন। সংগ্রহ করতে পারেন। আকিদার উপরে সুন্দর বই আছে। ইসলামী জীবন বিধানের উপর সুন্দর বই আছে। মাওলানা মনযুর নোমানী, মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রহ. এর বই আপনারা সংগ্রহ করতে পারেন।
বিশেষভাবে মাদরাসার তালিবুল ইলমদের উদ্দেশে মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী যারা আছেন তাদেরকে আমি বলব, এমনও হতে পারে যে, মাদ্রাসার পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। করোনা ভাইরাস এর আশঙ্কা পরীক্ষা দিন তারিখ আসার আগেই শেষ হয়ে যাবে। সেজন্য এই সময়টাতে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাক।
তাছাড়া পরীক্ষা হোক বা না হোক যেই বিষয়গুলো আমরা সারা বছর পড়েছি সেই কিতাবগুলো যদি আমরা ঘরে বসে যথাযথভাবে পড়তে থাকি তাহলে পরীক্ষা হোক বা না হোক পরীক্ষার দ্বারা যে উপকার অর্জিত হতো পরীক্ষার যে উদ্দেশ্য ছিল তা তো ঠিকই অর্জিত হবে। ইনশাল্লাহ। সময়টাকে কাজে লাগানো সময়টাকে উপকারী বানানো এবং সময়টাকে অসতর্কতায় অবহেলায় নষ্ট না করা আমি আজকের সম্পাদকীয় লাইভ থেকে এ কথাটাই বলতে চাই।
















