ইসলাম টাইমস: মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। প্রতিদিন হাজারে হাজারে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে। বিশ্ব যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন। বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগে করোনা ভাইরাস হাতে কলমে দেখিয়ে দিচ্ছে মানুষ আদতে কতটা অসহায়। পাশাপশি করোনা আমাদেরকে কিছু সবক দেয়। সামগ্রিক পরিস্থতি অন্তর দিয়ে দিয়ে উপলব্ধি করলে আমরা এ সবকগুলো পাই।
করোনা আমাদের চোঁখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে- বাধ্য হলে আমরা দিনকে দিন আমাদের দোকানপাঠ বন্ধ রাখতে পারি, অথচ রবের হুকুম পালনে নামাজের জন্য সামান্য সময় বন্ধ রাখতে পারি না।
করোনার কাছ থেকে শিখাচ্ছে- ফ্রি মিক্সিং, নাচ-গান এবং হৈ চৈ ছাড়াই পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত বিনোদন নিয়ে বেঁচে থাকা যায়। পাশে কোন মহিলা না রেখেও আলাদা অফিসে কাজ করা যায়।
করোনা আমাদেরকে শেখায়, রেস্তোঁরা, ক্যাফে, লন্ড্রি এবং হেয়ারড্রেসার হতে দূরে থেকে প্রচুর অর্থ সাশ্রয় করা যায়। ওয়েডিং হল, কমিউনিটি সেন্টারে অর্থ অপচয় না করেই অল্প সময়ের ভেতরে বিবাহ-শাদী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি ভালোভাবে আঞ্জাম দিতে পারি। পাশাপাশি এটাও শেখায়, যুবক তার বিয়ের পরে হানিমুন বাতিল করে নিজ এলাকায় থাকতে পারে।
করোনা আমাদেরকে শেখায়, পর্দা মহিলাদের জন্য বাধা বা পরাধীনতা নয়। এটি তাদের স্বাধীনতা খর্ব করে না। এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে, নারীর আগে পুরুষকে মাস্ক দিয়ে মুখমন্ডল ঢাকতে দেখে।
করোনার কাছ থেকে শিখেছি আমাদের ধর্ম আমাদেরকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সেবার অনেক আগেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও দিনে পাঁচবার হাত ধোয়াসহ প্রচুর স্বাস্থ্যকর নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে।
করোনা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, লোকদেরকে সঠিক নির্দেশনার অনুসরণ এবং নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সতর্ক করার পরামর্শ এটি সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার অন্তর্ভুক্ত। এটি কারো স্বাধীনতা খর্ব করা নয়।
করোনার আমাদের শেখায়, মা-বাবার যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে তারা সন্তানের শিক্ষাদীক্ষার সূচনা ঘর থেকেই করতে পারে।
করোনা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, মসজিদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও মানুষের ভিতরে সর্বদা কিছু কল্যাণ থাকেই।
করোনা এক গুপ্ত সৈনিক, যে দরিদ্র দেশগুলিতে প্রবেশের আগে মহা শক্তিধর দেশগুলোতে প্রবেশ করে আক্রমণ শুরু করেছে। করোনা সতর্ক করতে এসেছে। আমাদের উপেক্ষা করা সামাজিক ভুলগুলো শুধরে নেয়ার আহ্বান করছে। যা থেকে আমরা বরাবরের মতোই উদাসীন।
আরবি একটি প্রবন্ধ থেকে অনুবাদ: ফয়জুর রহমান শেখ।
















