ইসলাম টাইমস ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশী যেসব দেশ আক্রান্ত হয়েছে এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এহেন পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্পের হঠকারিতা ও উন্নাসিকতাই দায়ী।
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিযোগ করছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম-মাস্ক, প্রটেক্টিভ গিয়ার দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং আগামী দিনে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন এই নিয়ে সব ধরনের পূর্বাভাস অগ্রাহ্য করেছে। এ ধরনের বিশ্বব্যাপী মহামারি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র অপ্রস্তুত, এই কথা জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গোয়েন্দাদের এসব সতর্কবাণী গ্রাহ্য করেননি। উপরন্তু ট্রাম্প নিজে জানুয়ারি মাস থেকে এমন সব মন্তব্য করেছেন, সেগুলো দায়িত্বজ্ঞানহীন বললেও সামান্যই বলা হয়। এই প্রশাসন যে বিজ্ঞান ও তথ্যের চেয়ে নিজেদের বলা কথায় নিজেরা আস্থা রেখেছে, তার পরিণতি হয়েছে যে এখন সময়ের পেছনে পেছনে দৌড়াতে হচ্ছে। কিন্তু তাতে সাফল্য অর্জনের আগেই বড় রকমের মাশুল গুনতে হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য লকডাউন থেকে শুরু করে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সেগুলোর সাফল্যের মাত্রা কতটা, সেটা নির্ধারণ দুরূহ।
সংক্রমণ রোধে কেন্দ্রীয় সরকারের এখনকার গৃহীত ব্যবস্থা নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রতিদিনই সাংবাদিকদের জানানো হচ্ছে, তাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকছেন, সঙ্গে থাকছেন এই বিষয়ে টাস্কফোর্সের সদস্যরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস কনফারেন্স করতে অনীহ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন তিনি প্রেস কনফারেন্স করেননি। অথচ তিনি এখন প্রতিদিন কথা বলছেন। তার এই সব সংবাদ সম্মেলন গোড়াতে অনেককে আশ্বস্ত করলেও গত কয়েক দিনে তিনি স্বমূর্তি ধারণ করেছেন এবং এগুলোতে এমন সব মন্তব্য করছেন, যেগুলো তথ্যগত ভুল ও বিভ্রান্তিকর।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প ২২ জানুয়ারি বলেছিলেন যে এটি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে’। এরপর থেকে তিনি একে ছোট করে দেখিয়েছেন। এক মাস পাঁচ দিন পরে বলেছেন, ‘একদিন এটি উধাও হয়ে যাবে, একেবারে জাদুর মতো।’ ২৮ ফেব্রুয়ারি সাউথ ক্যারোলাইনাতে এক সমাবেশে তিনি করোনাভাইরাস বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়াকে সঠিক বলে দাবি করে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা এই নিয়ে রাজনীতি করছেন এবং এটি হচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের ‘ধাপ্পাবাজি’। ৯ মার্চ একে তুলনা করেছিলেন ফ্লুর সঙ্গে। তাঁর এই সব আচরণ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অবহেলা করার পরিণতি কী হয়েছে, তা এখন দেখা যাচ্ছে।
















