ইসলাম টাইমস ডেস্ক: দেশে সব সময় বড় যে কোনো ঘটনার সময় দেখা যায়, এক শ্রেণীর মানুষ স্বপ্নের মাধ্যমে সহজ সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশের মানুষ সহজ সরল হওয়ায় এ ধরণের পরিস্থিতিতে ধোঁকা খেয়ে যান। কখনো গাছের পাতায় কোনো ব্যক্তি বিশেষের নির্বাচনী মার্কা দেখা যাওয়া, কখনো চাঁদের গায়ে কারো চেহারা ভেসে ওঠা ইত্যাদি কাণ্ড বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার করোনা ভাইরাস নিয়ে একটি শ্রেণী সক্রিয় হয়েছে স্বপ্নে পাওয়া নানা সমাধান নিয়ে। কখনো থানকুনি পাতা লবন দিয়ে চিবিয়ে খাওয়ার দাওয়াই, কখনো গরম পানি কালোজিরা, কখনো করোনা ভাইরাসের সাক্ষাতকারের নামে নানা হাস্যকর উপাখ্যান পেশ করতে থাকে তারা।
স্বপ্নে পাওয়া এসব বিষয়ের এসব বিষয়ে যৌক্তিকতা কতটুকু? স্বপ্ন কি ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে এমন কোনো প্রামাণ যা আপনাকে মানতে ই হবে? এ সব বিষয়ে কথা হয়েছে বিশিষ্ট গবেষক আলেম মাওলানা আবদুর রহমানের সাথে।
মাওলানা আবদুর রহমান জানান,নবীগণের স্বপ্ন ছাড়া আর কারো স্বপ্নকে শরীয়ত দলীলের মর্যাদা দেয়নি। শরীয়ত স্বপ্নকে শুধু সুসংবাদ দানকারী ও সতর্ককারীরূপে স্বীকৃতি দিয়েছে; এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। আর সেটাও শুধু ঐ স্বপ্নের ক্ষেত্রে, যেটাকে ভালো স্বপ্ন বলা যায়; অর্থাৎ যেটা শয়তানের পক্ষ থেকেও নয় এবং কল্পনাপ্রসূতও নয়। আবার তাও সবার জন্যে নয়, বরং ঐ নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্যেই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যে সব স্বপ্ন বলে বলে মাঠ গরম করা হচ্ছে এসবের কোনো ভিত্তি শরীয়তে নেই। এসব স্বপ্নের অনেক কিছু যেমন শরীয়ত বিরোধী, তেমনি বাস্তবতার বিরোধী। ওয়াজের মাঠে এসব বলা মূলত সাধারণ মানুষের সামনে আলেম সমাজকে খাটো করার নামান্তর। তাছাড়া স্বপ্নের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের যে সব দাওয়াই পেশ করা হচ্ছে আমার জানা মতে তা নির্ভরযোগ্য কোনো ডাক্তার সমর্থন করেন না। যোগ করেন মাওলানা আবদুর রহমান।
করোনা ভাইরাস থেকে উত্তরণের জন্য এমন কিছু স্বপ্নের কথাও শোনা যাচ্ছে যাতে কুরআন হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন দোয়া দরুদের কথাই বলা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মাওলানা আবদুর রহমান জানান, স্বপ্নে পাওয়া কোনো বিষয়ে যদি শরীয়ত বিরোধী কিছু থাকে তাহলে তা প্রচার করাই উচিত নয়, আমল করাতো অনেক দূরের বিষয়। আর যদি শরীয়ত বিরোধী কিছু না থাকে তাহলেও উচিত কুরআন হাদীসে বিপদ আপদে যেসব দোয়া পড়ার কথা বলা হয়েছে সেগুলোই গুরুত্বের সাথে পড়তে থাকা। দোয়া ইস্তিগফার করতে থাকা। হ্যাঁ, এরপরও যদি কেউ মনের সান্ত্বনার জন্যে স্বপ্নের পাওয়া আমল করতে চায় ব্যক্তিগত ভাবে করতেন পারেন। তাতে দোষের কিছু নেই। যোগ করেন মাওলানা আবদুর রহমান।
মাওলানা আবদুর রহমান আরও বলেন, কেউ যদি স্বপ্নে দেখে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোনো হুকুম করছেন তাহলে সেক্ষেত্রেও বিবেচনা করতে হবে। যদি সে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আনীত) শরীয়ত সমর্থিত কোনো হুকুম পালনের কথা স্বপ্নে শুনে থাকে, তাহলে হুকুম পালন শরীয়তের বিধান মোতাবেকই হল (স্বপ্ন মোতাবেক নয়) আর যদি স্বপ্নে শরীয়ত-বিরোধী কোনো হুকুম পালনের কথা শুনে থাকে, তাহলে এ শ্রবণ অবশ্যই ভুল। কেননা এটা অসম্ভব যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইনতিকালের পর তাঁর জীবদ্দশার শাশ্বত শরীয়তকে তিনি স্বপ্নে রহিত করে দিবেন। এরূপ ধারণা (কুরআন হাদীস এবং) শরীয়তের ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাতিল। কাজেই স্বপ্নে শরীয়তের খেলাফ কোনো কিছু দেখলে কিছুতেই সে মোতাবেক আমল করা যাবে না।’
















