আবু মুআয আসাদুল্লাহ ।।
মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ। আমাদের কাছে তার পরিচয়- মিরপুরী হুজুর। তিনি হাফেজ্জী হুজুরের মেয়ের জামাই। মানে আমীনি সাহেব হুজুর রহ. এর ভায়রা ভাই৷ হাফেজ্জী হুজুরের দীর্ঘ সোহবত পেয়েছেন। তাঁর আরেকটি বড় পরিচয় হচ্ছে, এই সাদামাটা মানুষটি আল্লামা আতহার আলী সাহেব রাহ. এর ও সান্নিধ্য লাভে ধন্য হয়েছেন। ঢাকাস্থ মাদানীনগর মাদরাসার সাবেক মুহাদ্দিস। ঢাকার মিরপুর মুসলিম বাজার মাদরাসার সাবেক মুহতামিম। বর্তমান লক্ষ্মীপুর থানার কমলনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। ঢাকাতেই সেটেল্ড ছিলেন। কিন্তু নিজের এলাকার জনমানুষের খেদমত করার জন্য ঢাকা থেকে সব ছেড়ে চলে এসেছেন নিজের এলাকায়। মাদানীনগর ছেড়ে কমলনগর৷

নতুন আত্মীয়তার সূত্রে (আমার ভায়রা ভাইয়ের বাবা) কিছুদিন আগে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলাম তিনদিন ব্যাপী ইসলাহী জোড়কে উপলক্ষ্য করে৷ এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন জনকে জিজ্ঞেস করলাম, চেয়ারম্যান হিসেবে হুজুরকে কেমন লাগে? সবার এক কথা, অনেক চেয়ারম্যান দেখেছি;ঘরে ঘরে নিজে গিয়ে রিলিফ দিয়ে আসা এই একজনকেই দেখলাম। হেঁটে হেঁটে এলাকায় সবার খোঁজ খবর নেন সবসময়।
তবে তারা আরেকটি কথা যোগ করল, হুজুরের একটাই সমস্যা, মিথ্যা বলে না৷ তাদের কথা হল এ যুগে কি মিথ্যা না বললে হয়?!
ছবিতে তাঁকে মানুষের মাঝে চাল-ডাল বিলাতে দেখা যাচ্ছে। নিতান্তই সাদামাটা পোশাকে ঘুরছেন এলাকার চেয়ারম্যান৷ ছবি তোলা, মিডিয়ায় প্রচার করার চিন্তা নেই৷ মানুষের হক মানুষের মাঝে পৌঁছে দেয়াটাই দায়িত্ব; মনোযোগটা সেখানেই।

জন দরদী এই আলেম চলমান লক ডাউনে ঘোষণা দিয়েছেন, চর কাদিরা ইউনিয়নে অভাবের কারণে কেউ যদি না খেয়ে থাকতে হয়, আমি সাইফুল্লাহ সর্বপ্রথম না খেয়ে থাকব। কারো ঘরে ভাতের চাউল না থাকলে, কারো পকেটে সদাই করার টাকা না থাকলে, সরাসরি আমার সাথে সাক্ষাত করবেন। আমার পকেটে টাকা থাকতে, আমার ঘরে একমুঠ চাউল থাকতে, চর কাদিরায় কেউ না খেয়ে থাকবে না। ইনশাআল্লাহ।
বিদগ্ধ আলেম, বরেণ্য এই বুজুর্গ আমাদের জন্য আইডল হতে পারেন। ওলামা ও জনসাধারণ সবার জন্য উনি নমুনা। চেয়ারম্যান হলেই শো অফ করতে হয় না, চেয়ারম্যান হলেই বুজুর্গী বাদ দিতে হয় না৷ তাছাড়া শুধু আলেম হয়ে বসে থাকলে হবে না, নিজের এলাকার হক বুঝতে হবে এবং যারযার জায়গা থেকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুক। আমীন।
















