ইসলাম টাইমস ডেস্ক: সারা বিশ্বে ভীতি ছড়ানো করোনাভাইরাস নিয়ে অভয় দিলেন ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজির (এআইজি) চেয়ারম্যান ও পদ্মভূষণপ্রাপ্ত জি পি নাগেশ্বর রেড্ডি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই চিকিৎসক করোনা থেকে বাঁচার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের উপর জোর বেশ জোর দিয়েছেন।
ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ ভাইরাসকে ঘিরে নানা কাহিনি আর মিথ্যা সংবাদ তৈরি হয়েছে। প্রথম কথা হলো, আমাদের ভীত হওয়া যাবে না একেবারেই। এমন কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়নি যে আমাদের ভীত হতে হবে। আমাদের এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে ইতালি ও ফ্রান্সে যা হয়েছে, এখানে তা হবে। দ্বিতীয় কথা হলো, এই ভাইরাস ১০ বছরের কম বয়সীদের আক্রান্ত করে না। দু-একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। তবে এর সংখ্যা খুব বেশি নয়।
এখন আসি বয়স্কদের বেলায়। এখানে জৈবিক বয়সের চেয়ে শারীরিক বয়সটি বেশি তাৎপর্য বহন করে। সাধারণভাবে যাঁদের বয়স সত্তেরর বেশি এবং যাঁদের ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন বা ক্যানসার আছে, তাঁদের এই ভাইরাস মারাত্মকভাবে ঘায়েল করতে পারে। কিন্তু এমন শারীরিক সমস্যা না থাকলে ৬০-৬৫ বছর বয়সীদেরও ভয়ের কারণ নেই। শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান যে কারও জন্য এই ভাইরাস বড় কোনো সমস্যা তৈরি করবে না। দেখুন, ভারতে এখনো এমনকি বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর হার ইতালির মতো না। তাই আমার কথা, ভয় দূর করতে হবে।
যে বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে না, তা হলো মানসিক স্বাস্থ্য। এই ভীতির কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ, যারা মানসিকভাবে শক্ত ও সুখী, তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি। আমরা হতাশ হয়ে গেলে ভালো থাকব না।
মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা যাওয়া উচিত। ভয় পাবেন না।
আসি তাপমাত্রার বিষয়ে। এটা নিয়ে এখনো বিস্তর বিতর্ক আছে। কিন্তু এমআইটির যে গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে এই ভাইরাসের তাপ-সহনশীলতার বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ৩২ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে এটি দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারবে না।
এখানে ভারতের ক্ষেত্রে বলা যায়, মে মাসে যখন তাপ আরও বাড়বে, তখন ভাইরাসের সংক্রমণের হার কমে যেতে পারে। তাপমাত্রার একটা ভূমিকা থাকতে পারে। কিন্তু তা হবে মে মাসের পর।
















