ইসলাম টাইমস ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পরিচ্ছন্ন ও সতর্ক থাকা অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বারবার হাত ধুতে। এবং প্রতিবার ২০ সেকেন্ড সময় নিতে বলছেন তারা।তবে হাত ধুতে গিয়ে পানি অপচয়ের ব্যাপারে পূর্ণ সচেতন থাকতে হবে আমাদের।
পানি আল্লাহর একটি বিশেষ নেয়ামত। আল্লাহ তাঁর নেয়ামতগুলো অপচয় করতে নিষেধ করেছেন। আমাদের দেশ এবং বর্তমান পৃথিবীর গবেষকরা সুপেয় পানির ক্রমবর্ধমান অভাব এবং দূষিত পানির পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কিত, অথচ এসবের মূলে রয়েছে দৈনন্দিন জীবনে পানি ব্যবহারে আমাদের অপচয় এবং উদাসীনতা।
আধুনিক পৃথিবীতে পানির জন্য এ হাহাকার তো আমাদেরই কর্মফল। অপ্রয়োজনে পানি নষ্ট করা যেমন পানির অপচয়, তেমনি প্রয়োজন পূরণের সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি খরচ করাও পানির অপচয়। এমনকি সাগরপাড়ে দাঁড়িয়ে সরাসরি সাগর থেকে অজু করলেও বেশি পানি অজুতে খরচ করার অনুমতি ইসলাম দেয়নি।
ইসলাম অপব্যয় ও অপচয় নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলে ঘোষণা করেছেন। অপচয় ও অপব্যয়ের কারণে মানুষের জীবন থেকে বরকতও হ্রাস পায়। এর ফলে মানুষের ধন-সম্পদ ক্রমে হ্রাস পায়। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আহার করো ও পান করো; কিন্তু অপব্যয় করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)
হজরত ইবনে ওমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, একদা রাসুল (সা.) সা’দ (রা.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সা’দ (রা.) অজু করছিলেন। তাঁর অজুতে পানি বেশি খরচ হচ্ছিল। রাসুল (সা.) তা দেখে বললেন, কেন এই অপচয়? সা’দ (রা.) আরজ করলেন, অজুতেও কি অপচয় হয়? রাসুল (সা.) বললেন, হ্যাঁ, এমনকি বহমান নদীতে অজু করলেও। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হা. ৪২৫)
এদিকে বলা হচ্ছে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে পুরো সময় নল কূপ চালু রাখলে এতে ‘দেড়’ থেকে ‘দুই লিটার’ পানি অপচয় হয় ।
সেই হিসেবে দিনে ১০ বার হাত ধুলে, দৈনিক ১৫ থেকে ২০ লিটার পানির অপচয় হয়। আর পরিবারের পাঁচজন যদি এভাবে হাত ধোয় তাহলে প্রত্যেকদিন ১০০ লিটারের বেশি পানি অপচয়ের সম্ভবনা থাকে। তাই করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে হাত ধোয়ার সময় পানি অপচয় না হওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই সজাগ থাকুন।
















