ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বাংলাদেশের ইতিহাসে দিক পরিবর্তনকারী একটি ঘটনা ২০১৩ সনের ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অভিমুখে ঐতিহাসিক লং মার্চ। এদিন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঈমানী জযবায় উজ্জীবিত হয়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান রক্ষার দাবিতে দেশের লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলমান পায়ে হেঁটে ঢাকা অভিমুখে লং মার্চ করেন।
হেফাজতের দাবিগুলো ছিল একবারে স্পষ্ট, যা যে কোনো মুসলমানেরই হৃদয়ের দাবি। ইসলামের নবী কিংবা ইসলামের কোনো নিদর্শন সম্পর্কে কটূক্তিকারী, আল্লাহর বিধানের অবজ্ঞা ও বিদ্রুপ কারী নি:সন্দেহে কাফের ও খোদাদ্রোহী দুশমন, চাই সে মুসলিম পরিবারের সন্তান এবং মুখে কালিমা পাঠকারী হোক না কেন। এ বিষয়ে ইসলাম ধর্মবিদগণ কোনো সন্দেহ পোষণ করেন না।
সমাজের এ শ্রেণীর লোকদের কর্মকাণ্ড থেকে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করা নিজের ঈমান রক্ষার জন্য অপরিহার্য । বস্তুত এ শ্রেণী থেকে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করার প্রেরণা থেকেই হেফাজতে ইসলামের এ বিশাল আন্দোলন।
নারায়ণগঞ্জ এলাকায় হেফাজত ইসলামের অন্যতম নেতা, মাদানী নগর মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি বশীরুল্লাহর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, হেফাজতের যে দাবিগুলো ছিল সেগুলো এ কয় বছরে কতটা অর্জিত হয়েছে? দাবির বিচারে হেফাজতকে কতটা সফল বলা চলে?
জবাবে মাওলানা বশীরুল্লাহ জানান, ৬ এপ্রিল লংমার্চ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৫ মে শাপলা চত্বরে ঐতিহাসিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমাদের কিছু ভুলের কারণে আশানুরুপ ফলাফল যদিও আসেনি কিন্তু তারপরও বিষয়টাকে আমি ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাই। আমি মনে করি, হেফাজতের আন্দোলন অনেকাংশেই সফল।
কারণ হিসাবে তিনি বলেন, আমাদের দাবি ছিল, হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম রক্ষার্থে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু আমাদের দাবি মেনে না নিলেও সরকার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন, মুসলমান হিসাবে নবীকে কটূক্তি করলে তার নিজের গায়েও লাগে।
আমাদের দাবি পুরোপুরি না মানা হলেও কোটিকোটি টাকা ব্যয় করে সরকার শিক্ষা সিলেবাসে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তি আমাদের দাবি মোতাবেক না দিলেও তাদের শাস্তির একটা ব্যবস্থা করা হয়েছে। আন্দেোলনের ফলে দেশের গণমানুষের ভেতরে নাস্তিক মুরতাদদের প্রতি এই পরিমাণ ঘৃণা সৃষ্টি হয়েছে নাস্তিকরা প্রকাশ্যে আসতে ভয় পায়। যোগ করেন মুফতি বশীরুল্লাহ।
এই আন্দোলনের ফলে আলেম সমাজ জনসাধারণ এবং সরকারের আস্থার পাত্রে পরিণত হয়েছে । মানুষ এখনও ভাবে, যদি কিছু হয় তো এই আলেম সমাজের মাধ্যমে হতে পারে। এখনও আবার গণ জোয়ার তৈরি হতে পারে। এবং সেজন্য দেশের বড় ধরণের সবকিছুতে সরকারও এখন কওমী আলেমদের সাথে রাখার চেষ্টা করে।
যার সাম্প্রতিক প্রমাণ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি সরকারের আলেমদের শরণাপন্ন হওয়া। গুটিকতক অন্য ঘরানার আলেম ছাড়া সরকার এ বিষয়ে দেশের কওমী আলেমদের দিক নির্দেশনাকেই প্রাধান্য দিয়েছে। এবং দেশের সাধারণ মানুষও এ বৈশ্বিক মহামারি থেকে উত্তরণের জন্য আলেমদের দিকনির্শেনাকেই অনুসরণ করছে।
















