কোয়ারেন্টাইন: ভয়ঙ্কর সতর্কতার একটি রূপ

শরীফ মুহাম্মদ ।।

কোয়ারেন্টাইন প্রস্তুতির বিপদজনক ও ভয়ঙ্কর একটি চেহারার কথা বলছি। গত ১০ দিনের মধ্যে যখনই বাইরে বের হতে হয়েছে, এ দৃশ্যটা চোখে পড়েছেই।

ওষুধের দোকান, মুদির দোকান, এমনকি চেইন শপগুলোতেও ( স্বপ্ন/প্রিন্স) তাড়াহুড়া করে লোকজন একজনের গা ঘেঁষে আরেকজন দাঁড়িয়ে দ্রুত কেনাকাটা সেরে ফেলতে চাচ্ছে। যেন ভিড়বাট্টা করে, মানুষের গায়ের সঙ্গে গা মিশিয়ে, পাড়াপাড়ি করে হলেও দ্রুত কেনাকাটা শেষ করতে হবে এবং শিগগির বাসায় ফিরতে হবে। কোয়ারান্টাইন চলছে যে!

কেতাদুরস্ত পোশাক, শিক্ষিত ভাবভঙ্গি, টাকা-পয়সা পকেটে আছে, কিন্তু অদ্ভুত মূর্খের মতো আচরণ করছি আমরা। কোয়ারান্টাইন রক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য বাইরে বের হয়ে এই যে অপ্রয়োজনীয় গা ঘেঁষাঘেঁষি, তাড়াহুড়ার জন্য ভিড় তৈরী করা করা, এর ফলটা আসলে কী দাঁড়াচ্ছে? আমরা কোন নিরাপত্তার জন্য কত ভয়ঙ্কর অনিরাপদ পথ বেছে নিচ্ছি!

শিগগির বাসায় ফেরার জন্য গা ঘেঁষাঘেঁষি ও হুড়োহুড়ি করে পরে বাসায় ফিরে সবাইকে আক্রান্ত করছি না তো! আমাদের নিরাপত্তা চিন্তার মধ্যেও ভারসাম্য নেই। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিরাপদ দূরত্ব রক্ষা করে শান্তভাবে কাজ সেরে বাসায় ফিরতে হবে, এ কথাটা আমরা বুঝতে চাই না। অনেকেই সময়ের পরিমাণটাকে বড় গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। শান্তভাবে নিরাপদ দূরত্ব রক্ষা করে বাইরের কাজ সেরে আসাটাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না।

ধরুন, জরুরি কয়েকটি কাজের জন্য এই করোনা সংক্রমণ -সময়ে বাসার বাইরে বের হলেন। মুখে মাস্ক পরা আছে আপনার। এখন কাজগুলো করতে গিয়ে অন্যের সঙ্গে (বিক্রেতা /ক্রেতা কিংবা পথচারী যে-ই হোক) নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চললে আপনার সময় ব্যয় হবে এক ঘন্টা। অপরদিকে সব কয়টি কাজ তাড়াহুড়ো করে মানুষের সঙ্গে ঠেলা ধাক্কা দিয়ে ২০ মিনিটেও সারতে পারবেন। আপনি কোন কাজটি করবেন?
কোন কাজটি আপনার জন্য নিরাপদ? কোনটি আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য অনিরাপদ, এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে? একটু ভেবে দেখুন।

মাথায় বসানো আছে, ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। বের হলেও খুব শিগগির বাসায় ফিরে আসতে হবে। একারণে সংক্রমণের সবকয়টি ঝুঁকির মধ্যে প্রবেশ করে কাজ সেরে শিগগির বাসায় ফেরার চিন্তা প্রবল হয়ে উঠছে কি আমাদের! অথচ এর চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলো, চোখ মুখ রক্ষা করা, অপর যেকোনো মানুষের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা। তা না হলে তাড়াহুড়ো করে বাসায় ফেরার চিন্তায় অন্যের সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষির কারণে তার দ্বারা আমি আক্রান্ত হতে পারি, আমার দ্বারা সে আক্রান্ত হতে পারে। এরপর এটা ছড়িয়ে পড়তে পারে দুজনের পরিবারে।

কী প্রয়োজন এই ভয়ঙ্কর ও বিপদজনক তাড়াহুড়ার! বাসায় তো শিগগির ফিরতেই হবে। কিন্তু সব কাজ দূরত্ব বজায় রেখে নিরাপদে সম্পন্ন করে তার পরে শিগগির ফিরতে হবে। করোনার বীজ শরীরে মাখিয়ে খুব স্মার্ট ভঙ্গিতে শিগগির বাসায় ফিরে কী লাভ হবে আমার -আপনার!

করোনার ভয়ংকর বিস্তারের পদধ্বনির কালে এবং বাসায় থাকার এই নিরাপত্তা নির্দেশনার মধ্যে আমরা যেন ভারসাম্যহীন, ধ্বংসাত্মক এজাতীয় ভুলগুলোর দিকে আর পা না বাড়াই। যারা সচেতন, তারা তো ব্যাপারটা বুঝতেই পারছেন। যারা আগে খেয়াল করেননি, দয়া করে সচেতন হোন, সতর্ক হোন। এবং সম্ভব হলে অন্যকেও সতর্ক করুন।

পূর্ববর্তি সংবাদকরোনায় মৃতদের নির্ভয়ে শরয়ী নিয়মে দাফন করুন: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
পরবর্তি সংবাদক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী