হে আল্লাহ! পেয়ে হারানোর বেদনায় কাতর আমরা !

মুহাম্মাদ তাওহীদুল ইসলাম তায়্যিব ।।

বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান অঞ্চল। মসজিদময় শ্যামল ভূখণ্ড। এ আমাদের সৌভাগ্য। এ আমাদের কৃতজ্ঞ হওয়ার বিষয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর পরিচয় লাভ করার তাওফীক দান করেছেন। তাঁকে চেনার, তাঁর সম্পর্কে জানার এবং তাঁর ইবাদত করার তাওফীক দান করেছেন। নিশ্চয় এটা অনেক বড় নেয়ামত। দুনিয়াতে কতো মানুষ আছে যারা তাদের রবকে চিনে না। তাদের সৃষ্টিকর্তা কে? জানে না। তারা দুনিয়াকেই সবকিছুর শেষ মনে করে। আখিরাত ও আখিরাতের প্রতিদান সম্পর্কে কিছুই বিশ্বাস করে না। তাই আমাদের উচিৎ এই নেয়ামত উপলদ্ধি করে নিবিষ্ট চিত্তে আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা। যেমন জান্নাতীগণ জান্নাতে যাওয়ার পর শোকরিয়া আদায় করে বলবে-

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَ مَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ

সমস্ত শোকর আল্লাহর যিনি আমাদেরকে এই স্থানে পৌঁছিয়েছেন। আল্লাহ আমাদেরকে না পৌঁছালে আমরা কখনোই এ স্থলে পৌঁছতে পারতাম না।-সূরা আরাফ (৭) : ৪৩

এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। আল্লাহকে ভয় করে। গোনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর ভয়ে তাওবা করে। কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেললে অনুতপ্ত হয়। কারো কোনো হক নষ্ট হয়ে গেলে ক্ষমা চায়। পরকাল বিশ্বাস করে। বিচার দিবসকে ভয় পায়। যারা নামায পড়ে না, ধর্মের সব বিধি বিধান মেনে চলে না তারাও আল্লাহকে ভালোবাসে। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে মনে প্রাণে কামনা করে। আল্লাহর অসন্তুষ্টিকে ভয় পায়। সহজে এমন কাজ করতে চায় না যার পরিণামে তাকে জবাবদিহি করতে হবে আল্লাহর সামনে।

জুমার দিন এসব মানুষের এক ঝলক পরিচয় মিলে। পরিষ্কার কাপড় পরে, খুশবু মেখে, পরিচ্ছন্ন জায়নামায হাতে করে, কলিজার টুকরো সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে যায়। ধ্যানমগ্ন হয়ে বয়ান শুনে। বিগলিত হয়। অঝোরে অশ্রুপাত করে। ভালো হয়ে যাওয়ার সংকল্প করে। ভালোভাবে চলার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। উত্তম আচরণে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা শুরু করে। বিপদে পড়লে, সংকট এলে, যে কোনো মুসিবতের মুখোমুখি হলে বিনীত হয়, বিগলিত হয়। মসজিদে ছুটে যায়। নামাযে মগ্ন হয়। মুনাজাতে কাঁদতে শুরু করে। অশ্রু ঢালে। আপন রবের কাছে সবকিছু খুলে বলে। তাঁর রহমত চায়। তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে।

নামায ও মসজিদ মুসলমানদের হৃদয়ের সজীবতা। প্রাণের কেন্দ্র। ওখানে ঝুলে থাকে তার যত স্বপ্ন ও সুপ্ত কথা।

কিন্তু আজ…

আজ কী যে হয়ে গেল! কোথায় যেন বাধা পড়ে গেল সবকিছু। অসহায় দৃষ্টিতে সব দেখা ছাড়া যেন কিছুই করতে পারছে না কেউ। না সয়েও সয়ে যাওয়ার কী এক পরিস্থিতি যেন ঘিরে রেখেছে আমাদের। কী যেন হারিয়ে ফেলেছি আমরা। পেয়ে হারানোর সে বেদনায় আজ আমরা কাতর।

অসীম গোনাহর ভয়ানক শাস্তি এসেছে আজ আমাদের উপর। শাস্তির বড় শিরোনাম হলো মসজিদ বিমুখিতা। আহা মুসলমান! প্রাণের কেন্দ্রভূমি থেকে বঞ্চিত। হৃদয় সুষমা থেকে মাহরূম। হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! আমাদেরকে এ আযাব থেকে হেফাযত করুন। আমাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করুন। তওবা কবুল করুন। এই পরিস্থিতি থেকে মেহেরবানী করে উদ্ধার করুন। আবার সেই স্মৃতিময় জুমাগুলো ফিরিয়ে দিন। মসজিদময় ভরা বসন্ত দান করুন। এ আযাব থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণের তাওফীক দান করুন। আমীন।

পূর্ববর্তি সংবাদনাফ নদ থেকে ৯০ হাজার ইয়াবা পিস উদ্ধার
পরবর্তি সংবাদমুন্সীগঞ্জে দুই নারীসহ সাত করোনা রোগী শনাক্ত