করোনা : সময়-অসময়

মুহাম্মাদ আদম আলী ।।

সময়টা অসময়। সময় থেমে থাকে না। ভালো না লাগলেও সময় ‎চলে যায়। জীবনের আয়ু কমতেই থাকে। আর কতটুকু বাকি, ‎এটিই এখন দেখার বিষয়। মরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এর শেষ ‎‎বোঝা যায় না। কিছু মানুষ এর মধ্যে চলে গেছে। বিশ্বাস হতে ‎চায় না। তারা আর কখনোই ফিরবে না এ কোলাহলে!

‎ এখন সময় জীবন-মৃত্যুর। কে কখন চলে যাবে, এরই যেন ‎হিসেব-নিকেশ চলছে। সবাই ভয়ে ভয়ে আছে। তবু মনে হয়, ‎আমি বেঁচে যাব। পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে কোয়ারেন্টাইন ‎‎থেকে বাঁচলেও জীবন বাঁচাতে পারেনি। ডাক এসেছিল তখনই। ‎বুঝতে পারেনি। আমরাও বুঝতে চাইছি না।

এই হোম ‎‎কোয়ারেন্টাইন আমাদের আর কতদিন বাঁচিয়ে রাখবে! ‎ নামাযে তালগোল পেকে গেছে। মসজিদে লোক কমলেও ‎ফটোগ্রাফার কমে না। ফটো তুলে তুলে জীবন শেষ। মরা ‎লাশের ছবিটাও তুলতে বাকি রাখে না। নিজে লাশ হয়ে গেলে ‎‎কে তুলবে তার ছবি?

প্রিয়জনরা পাশের ঘরে লাশ রেখে অন্য ‎কারও জন্য অপেক্ষা করছে! ‎ সভ্যতায় এখন উল্টো স্রোত। বাড়ির পর বাড়ি বিরান হচ্ছে। ‎রাস্তা-ঘাট জনশূন্য। এম্বুলেন্সের সাইরেন ছাড়া আর কিছুই কানে ‎আসে না। যারা মানুষ মেরে অভ্যস্ত, তারাও এখন মরার ভয়ে ‎লুকিয়ে গেছে। ভাইরাস যদি দৈত্য-দানব হতো, এটম বোমা ‎দিয়ে উড়িয়ে দিত! শত শত নগর ধ্বংস করেছে যারা, তারাও ‎এখন নিজেদের নগর বাঁচাতে ব্যস্ত। নিজে না বাঁচলে নগর দিয়ে ‎কি হবে? এজন্য রাজারা প্যালেসে থেকেও শান্তি পাচ্ছে না। ‎পালিয়ে যাচ্ছে নগর থেকে আরও দূরে; নির্জন দ্বীপে―স্বেচ্ছা ‎নির্বাসনে!

‎ অদৃশ্যের ইশারা বড় অদ্ভুত! যারা অদৃশ্য জগতের খবর রাখে ‎না, তারা এখন অনেকটাই দিশেহারা। ভোগবিলাসের এ ‎জীবনটাও ধরে রাখতে পারছে না। একটা সামান্য ভাইরাস ‎‎স্থবির করে দিয়েছে তাদের জীবন! এর কি অন্য কোনো রহস্য ‎আছে? বায়োকেমিক্যাল অস্ত্র বলেই বা কি লাভ হচ্ছে? তির বের ‎হয়ে গেলে তা আর ফেরে না তনীতে। সুতরাং ক্ষতি যা হওয়ার ‎তা হচ্ছেই।

কাফের-মুশরিকরা মরছে দেখে প্রথমে অনেকে খুশি ‎ছিল। মুসলিম মরতে দেখে কিছুটা কমেছে। এখন যখন নিজের ‎প্রিয়জনই মরে যাচ্ছে, তখন পুরোপুরি নিশ্চুপ হয়ে গেছে। এ ‎‎তো এক মহাবিপদ! কোনো কিছুই বাদ রাখছে না। তবে কি ‎পুরো মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যাবে? ‎

এই অসময়ে পুরো মানবজাতি ধ্বংস হবে না। আমরা অনেকেই ‎হয়তো বেঁচে যাব। বাঁচা-মরা এ পৃথিবীর জন্য কখনো সমস্যা ‎হয়ে ওঠেনি। বরং এর ওপর বেঁচে থাকা মানুষগুলোই সমস্যা। ‎অদৃশ্যকে না চিনে অনেকে সমস্যা তৈরি করছে, আবার অনেকে ‎চিনতে পেরেও সমস্যার জাল বিস্তার করছে। সম্ভবত বিধর্মীদের ‎ইসলামের মহত্ত্ব উপলব্ধি করার এটি শ্রেষ্ঠ সময়; আর ‎মুসলিমদের ঈমান ফিরে পাওয়ার পরম সুযোগ। ঈমান পরিপক্ক ‎হলে অসময়ও সুসময় হয়ে উঠবে।

পূর্ববর্তি সংবাদপঞ্চগড়ে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার
পরবর্তি সংবাদচাল চোরদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড চান কর্নেল অলি