প্রতিনিয়ত ভেসে আসছে ক্ষুধার্তের কান্না, অসহায়ের আর্তনাদ

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে ২৫শে মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা হয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো, তারও আগে বন্ধ হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপর থেকেই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন জেলায় ঘোষণা করা হচ্ছে লকডাউন।রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় সবার। এমন পরিস্থিতিতে দেশের উচ্চ-মধ্যবিত্তরা মোটামুটিভাবে দিন কাটিয়ে দিলেও দুর্ভোগ নেমে এসেছে সমাজের খেয়ে খাওয়া নিম্নবিত্তদের জীবনে।

মানবিকতার আহবানে সাড়া দিয়ে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন দুঃখী-অনাহারীদের পাশে। নিয়েছেন বিভিন্ন উদ্যোগ। এতোসব উদ্যোগের পরেও মোছেনি দিন মজুরদের ক্ষুধার্ত চেহারার মলিনতা, অনেক জায়গায় এখনো পৌছেনি ত্রাণ সামগ্রী, ক্ষুধার্তের কান্না আর অসহায় আর্তনাদ  প্রতিদিন ভেসে আসছে খবরের কাগজে ।

‘এক্ষেত্রে সরকারি – বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে কাজ করা সংগঠনগুলোর  একক উদ্যোগের বিপরীতে সম্মিলিত  প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঘুচতে পারে করোনার প্রভাবে জীবিকা সংকীর্ণ হয়ে আসা মানুষের দুঃখ-দুর্দশা’ -বলে জানিয়েছেন গবেষক লেখক ও অনুবাদক চট্টগ্রাম ওমরগণি কলেজের ইসলামি ইতিহাসের সাবেক অধ্যাপক  মাওলানা ড. আফম খালিদ হোসেন।

তিনি আরো বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণের ঘোষণা দিয়ে কোন এলাকায় গিয়ে ত্রাণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে গরিবদের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব নয়। এভাবে ত্রাণ দেওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত অভাবীদের জায়গায় অন্যরা সুযোগ সন্ধানী হয়ে  ত্রাণ  গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে ত্রাণ বিতরণের জায়গায় অভাবী ব্যক্তি উপস্থিত নাও থাকতে পারেন, তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের থেকে প্রকৃত অভাবীর তালিকা সংগ্রহ করে আসল হকদারদের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তার উদ্দেশ্য সফল হতে পারে।

বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে গরীবের মুখের খাবার কেড়ে নিয়ে সরকার নির্ধারিত ত্রাণ চুরির অভিযোগ ও ঘরের মেঝে খুঁড়ে চাল উদ্ধার প্রসঙ্গে ড. আফম খালিদ হোসাইন বলেন, দেশের সংকটকালীন সময়ে যখন অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের খাবার অনাহারীর মুখে তুলে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন ও আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ এসেছে তখন এমন গর্হিত কাজ দেশের জন্য লজ্জাকর এবং মানসিকতার চরম বিকৃতির পরিচয় বহন করে। সমাজপতিদের কতটা অধঃপতন হয়েছে এ যেন তারই খন্ড চিত্র।

এ প্রসঙ্গে তিনি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের ৬ ডাক্তারকে বরখাস্তের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, সরকার প্রধান ও প্রশাসনকে কঠোর হয়ে তাৎক্ষণিক জনপ্রতিনিধি নামের দেশের এসব কলঙ্কদের বরখাস্ত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির আওতায় আনলে অপরাধ অনেকাংশেই কমে আসবে।

পূর্ববর্তি সংবাদচাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০০ বস্তা সরকারি চালসহ দুইজন আটক
পরবর্তি সংবাদসমন্বিত উদ্যোগ ও জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণার দাবি বাম গণতান্ত্রিক জোটের