ওলিউর রহমান ।।
মহামারী করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে জন দুর্ভোগ। দীর্ঘদিন ঘরে বন্দী থেকে নাকাল হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। ঘরে খাবার নেই। বাইরে নেই কাজ। তাই দুশ্চিন্তা এবং হতাশায় কাটছে তাদের জীবন।
এদিকে সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীের জন্য দুর্যোগকালীন বরাদ্দ দেওয়া হলেও ত্রাণের বন্টনে দেখা যাচ্ছে নানা অনিয়ম। ভোক্তভূগীদের পরিবর্তে অনেক জায়গায় সরকারি ত্রাণ ভোগ করতে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। চেয়ারম্যান, কাউন্সিলরের বাড়িতে, গুদামে অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি বস্তা চাল উদ্ধারের খবর সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও থেমে নেই চাল চোরদের দৌরাত্ব। করোনাকে ছাপিয়ে চাল চুরি যেন এখন পত্রিকার প্রধান খবর। জরিপে দেখা গেছে, দেশে করোনা রোগীর চেয়ে এখন চাল চোরের সংখ্যা বেশি।
চাল চুরি এবং ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের জন্য সরকারি অব্যবস্থপনাকে দায়ী করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও রাজধানীর আরজাবাদ মাদরাসার পরিচালক মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া। চরম দুর্যোগের মুহূর্তেও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে যারা কুণ্ঠিত হয় না তাদেরকে দেশ ও মানবতার শত্রু বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।
এদিকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ইসলাম টাইমসকে বলেন, সরকারি দলের লোক এবং প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাকেই দেখা যাচ্ছে চাল চুরি এবং ত্রাণ তসরুফ করতে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না। তাই তাদের মাধ্যমে এ জাতীয় কাজে বিস্ময়ের কিছু নেই।
সরকারের অসাধু আমলা এবং স্থানীয় জন প্রতিনিধিসহ তওবা করা উচিত মন্তব্য করে ইসলামি আন্দোলনের যুগ্ম মজাসচিব বলেন, দুর্যোগপূর্ণ সময়ে যারা জনগণের সম্পদ লুট করে আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারা রেহায় পাবে না। তাদের দ্রুত দল এবং প্রশাসনিক পদ থেকে বরখাস্ত করা উচিত। এছাড়া জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের উচিত সর্বদলীয় ঐক্য গড়ে তোলা।
এ বিষয়ে মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বলেন, এখন জন প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নে অর্থ এবং পেশির জোর দেখা হয়। সেকারণে স্থানীয় পর্যাযে কিছু অমানবিক এবং বর্বর ব্যক্তি জন প্রতিনিধি হয়ে বসে আছে। যারা সবসময় লুটপাঠের ধান্ধায়ই থাকে।
জমিয়তের এ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, চূড়ান্ত পর্যায়ের মহামারী এখনও বাংলাদেশে দেখা যায়নি। দেশকে এবং দেশের মানুষকে বাঁচাতে এখনও অনেক করণীয় আছে। সরকারের উচিত বৈশ্বিক এ মহামারীর সময় অন্তত দলীয় নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করা।
সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিকে সমর্থন করেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমানও। তবে তার আগে তিনি জরুরী মনে করেন সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে সর্বদলীয় জাতীয় পদক্ষেপ।
এদিকে ত্রাণ বিতরণ বিষয়ে নতুন একটি পদ্ধতি অবলম্বনের পরামর্শ দেন মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া। তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি মসজিদের ইমাম এবং স্থানীয় উলামায়ে কেরামের সহায়তা গ্রহণ করা যায়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, এদেশের উলামায়ে কেরাম অতীতে রোহিঙ্গা ইস্যু, বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিজেদের উদ্যোগে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। বর্তমাণ পরিস্থিতিতেও তাদের তৎপরতা আশাব্যঞ্জক। উলামায়ে কেরামের প্রতি মানুষের আস্থা এবং মসজিদের ইমামের এলাকাবাসীর ব্যাপারে প্রকৃত ধারণা থাকার ভিত্তিতে এ পদ্ধতিতে ত্রাণ বিতরণ খুবই কার্যকর হবে বলে আশা করেন জমিয়তের এ নেতা।
সরকার ত্রাণ বরাদ্দ করেছে দুস্থ, অসহায় মানুষদের জন্য। করোনা সঙ্কটের সবচেয়ে ভয়াবহ শিকার এসব নিম্ন আয়ের খেঁটে খাওয়া মানুষই। তাই আমাদের প্রত্যাশা থাকবে ত্রাণ যেন জায়গা মতো পৌঁছুতে পারে। দায়িত্বশীলরা যেন উপযুক্ত পদক্ষেপই গ্রহণ করে।
















