পঞ্চগড় ছাড়া রংপুর বিভাগের সব জেলায় করোনার প্রভাব!

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: প্রতিদিন কোনো না কোনো উপায়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ গার্মেন্টস শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলো থেকে রংপুর বিভাগে ফিরছে দলে দলে মানুষ। তাদের নিয়ন্ত্রণহীন বিচরণে দিন দিন বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এখন রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যে শুধু পঞ্চগড় ছাড়া বাকি সব জেলাতেই ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস।

এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি ও বিস্তার এড়াতে ইতোমধ্যে বিভাগের পাঁচটি জেলাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ (লকডাউন) ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় প্রবেশ ও বহির্গমন।

প্রশাসনের কড়াকড়ি বিধিনিষেধের পরও রাতের আঁধারে প্রতিদিন ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনে কম বেশি বাইরে থেকে লোকজন গ্রামে গ্রামে ফিরছেন। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। একটি মাত্র জেলা বাদে পুরো রংপুর বিভাগে ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের সাত জেলায় বুধবার (১৫ এপ্রিল) পর্যন্ত ৩৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পঞ্চগড়ে কাউকে এ ভাইরাসে শনাক্ত হিসাবে পাওয়া যায়নি। শুধু আজকেই নতুন করে তিনজন করোনা শনাক্ত হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আমিন আহমেদ খান জানান, রংপুর বিভাগের আট জেলা প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। গেল ১৩ দিনে (১৪ এপ্রিল পর্যন্ত) রমেকের পিসিআর ল্যাবে ৮৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩১ জন করোনা আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও আরও ৬ জন ঢাকায় আইইডিসিআর এর মাধ্যমে শনাক্ত হয়েছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে গাইবান্ধায় ১৩, দিনাজপুরে ৮, নীলফামারীতে ৬, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩, রংপুরে ৩, লালমনিরহাটে ২ এবং কুড়িগ্রাম জেলায় ২ জন রয়েছেন।

এদিকে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা মিলে মোট ৭৮৭টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গুরুত্বর আক্রান্তদের রংপুর শিশু হাসপাতালে আলাদাভাবে ৫০টি আইসিইউ বেড তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।

রংপুরে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রস্তুতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, সরকারিভাবে জেলায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর শিশু হাসপাতাল, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হারাগাছ হাসপাতাল, রংপুর যুব উন্নয়ন কেন্দ্রসহ ১১টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ৪১৫টি বেড থাকবে। তবে এখন পর্যন্ত ১৩৭টি বেড প্রস্তুত রয়েছে ।

এই জেলায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবার জন্য ৯০ জন চিকিৎসক ও ৯৫ জনকে নার্সকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মজুদকৃত ৬৬৯৭টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) থেকে ইতোমধ্যে ৮৫৩টি বিতরণ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তি সংবাদগাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং কেরানীগঞ্জে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদ২০ লাখ ছাড়াল আক্রান্তের সংখ্যা, মৃত্যু ১ লাখ ২৮ হাজার