মসজিদে মুসল্লি নিয়ন্ত্রণ না করাসহ সাংবাদিক সম্মেলনে আরো যা বলেছেন আল্লামা তাকি উসমানি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: মসজিদে জামাতের ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশিত তিন বা পাঁচজন মুসল্লির বাধ্যবাধকতার ওপর আমলের সম্ভাব্যতা প্রমাণিত হচ্ছে না দাবি করে সতর্কতামুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবিলম্বে পাকিস্তানে সব মসজিদ খুলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়, জুমা ও মাহে রমজানে তারাবি চালু রাখার ব্যাপারে আহ্বান জানিয়েছেন আল্লামা তাকি উসমানী।

১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে সব ঘরনার শতাধিক আলেমদের নিয়ে করাচীতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মুফতী তাকি উসমানি ও পাকিস্তানের চাঁদ দেখা কমিটির চেয়ারম্যান মুফতী মুনিবুর রহমান।

এসময় তারা বলেন লকডাউনের সাথে মসজিদ বন্ধের কোন সম্পর্ক নেই।

মাওলানা মুনিবুর রহমান বলেন, মসজিদ লকডাউন হবে না, জামাতে নামাজ তারাবি ও এতেকাফ চালু থাকবে।এর সাথে যুক্ত করে মুফতি তাকি উসমানি বলেন, একজন মুসলমানের রমজানে রোজা ও জামাতে নামাজ পড়া আবশ্যক। তাই সরকার নির্দেশিত সতর্কতা অবলম্বন করে মসজিদ খোলা থাকবে।

মুফতি তাকি উসমানি আরো বলেন, অসুস্থরা ঘরে নামাজ পড়বেন।এবং মসজিদে নামাজ পড়তে আসা ব্যক্তিরা নামাজ শেষে কোথাও আড্ডা না জমিয়ে নিজ ঘরে চলে যাবেন। এছাড়াও মুফতি তাকি উসমানি পাকিস্তান সরকারকে ইমাম-খতীবদের গ্রেফতার না করার আহ্বান জানান এবং গত জুমায় গ্রেফতারকৃত ইমামদের মুক্ত করতে বলেন।

এসময় সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত আলেমরা বলেন,বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস মানুষের জন্য আল্লাহ তায়ালার পরীক্ষা তাই এসময় নিজের কৃত গুণাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে তার সামনে নিজের অপারগতা প্রকাশ করা আবশ্যক ।

তারা আরো বলেন, মুসলমানের জন্য মসজিদে জামাতে নামাজ পড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর রমজানে মসজিদে শুধু জামাতের প্রয়োজনে উপস্থিত হওয়া জরুরি নয় বরং হতে পারে এই বিশেষ মাসে আল্লাহ তায়ালার দিকে ফেরার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বিশ্ববাসীকে এই মহামারি থেকে রক্ষা করতে পারেন। তাই সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে যথা সম্ভব মসজিদ চালু রাখা আবশ্যক।

সাংবাদিক সম্মেলনে শাইখুল ইসলাম তাকি উসমানির নেতৃত্বে পাক আলেমদের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হল:

১. সতর্কতামুলক ব্যবস্থা মেনে মসজিদসমূহ খোলা থাকবে। তাতে জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায এবং জুমআ জারি থাকবে। তিন বা পাঁচজন মুসল্লির বাধ্যবাধকতার ওপর আমলের সম্ভাব্যতা প্রমাণিত হচ্ছে না।
২. অসুস্থ, ভাইরাসে আক্রান্ত বা তাদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা মসজিদে আসবেন না। ঘরে নামায পড়লেই জামাতের সওয়াব পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।
৩. বয়স্ক হযরতরা মসজিদে আসার ক্ষেত্রে নিজেকে মাযুর(অপারগ) মনে করবেন।
৪. প্রত্যেক নামাযের পর মসজিদের কার্পেট উঠিয়ে যথাসম্ভব জীবাণুনাশক ওষুধ দিয়ে ধৌত করবেন।
৫. মসজিদের দরজায় সাধ্যমত সেনিটাইজার লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. গুরুত্বের সাথে দুই কাতারের মাঝখানে এক কাতার পরিমাণ ফাঁকা রাখতে হবে। এক কাতারে মুক্তাদীরা মুনাসিব দূরত্বে থাকবে। সাধারণ অবস্থায় যদিও এমনটি মাকরূহে তাহরিমী, কিন্তু ওযরের কারণে কারাহাত হবে না, ইনশাআল্লাহ।
৭. সবাই ঘর হতে ওযু করে আসবেন।
৮. মুক্তাদীরা গুরুত্বের সাথে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে যথাসম্ভব মাস্ক পরে আসবেন।
৯. সুন্নত ঘর থেকে পড়ে আসবেন, পরের সুন্নত, নফলও ঘরে গিয়ে পড়বেন।
১০. জুমআর পূর্বের বয়ান বন্ধ রাখুন। একান্ত প্রয়োজনে পাঁচ মিনিটে সতর্কতামুলক ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন করুন।
১১. জুমআর খুতবা প্রয়োজনীয় হামদ-সালাত, তাকওয়ার একটি আয়াত এবং মুসলমানদের জন্য বিপদ থেকে নাজাতের দুআর মাধ্যমে সংক্ষিপ্তভাবে শেষ করবেন।
১২. নামাযের পর ভিড় না করে সবাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাড়ি যাবেন।
১৩. মসজিদের ইমামগণ জনসাধারণকে সতর্কতামুলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করবেন। তবে এগুলো কার্যকর করার দায়িত্ব প্রশাসনের। তাই এসবের জন্য ইমামদেরকে যিম্মাদার বানানো যাবে না।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জিওয়াই সিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল আল্লামা রাশেদ মাহমুদ, মাওলানা আয়িস নুরানি, মুফতী ডা. আদেল, মাওলানা মুহাম্মাদ সালাফি, ডা. আসরার প্রমুখ ।

এছাড়াও এতে টেলিফোনে সংযুক্ত হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (এফ) সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমীর সিনেটর সিরাজুল হক ও সিনেটর সাজেদ মীর প্রমুখ।

পূর্ববর্তি সংবাদদেশের মোট পোশাক শ্রমিকের অর্ধেকেরও বেশি মার্চ মাসের বেতন পাননি: বিজিএমইএ
পরবর্তি সংবাদদক্ষিণ এশিয়ায় করোনার টেস্ট সবচেয়ে কম বাংলাদেশে, মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি