সামাজিক নির্মমতা বাড়িয়ে দিচ্ছে করোনা সংকট!

রায়হান মুহাম্মদ।।

বিশ্বব্যাপী ছড়িযে পড়া করোনা ভাইরাসে দিন দিন অপরিচিত হয়ে উঠছে আমাদের জানাশোনা পৃথিবী। দূরে সরে যাচ্ছেন একান্ত আপনজনেরা। নির্মমতায় ভরে উঠছে সমাজ।

এইতো চলতি সপ্তাহে  করোনায় মৃত লাশ নিয়ে ঘটে গেল কত সব নির্মমতা। মিডিয়ায় বড় শিরোনামে ভেসে এলো সুনামগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া সন্তানের লাশ কাঁধে এক অসহায় বাবার কলিজা ফাঁটা চিৎকার। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ,  দাফনে মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করতে না দেওয়া সমাজ , কী বিভৎস এক নির্মমতা!

নির্মমতার চিত্র এখানেই শেষ নয়, নারায়নগঞ্জে করোনা উপসর্গ  নিয়ে মারা মাওয়া গৃহবধূর লাশ শশুর বাড়িতে দাফন করতে না দেওয়া লাশ নিয়ে নদী ঘাটে বসে থাকা  এক বাবার কান্না,ফেনীতে স্বাভাবিক অসুস্থতায় মারা যাওয়া নারীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন না হওয়া এমন অসংখ্য অমানবিক ঘটনার সাক্ষী হতে হচ্ছে আমাদের প্রতিদিন। এদিকে সব নির্মমতা ছাড়িয়ে গেছে  সখীপুরে করোনা সন্দেহে  গর্ভ ধারিণী মাকে গভীর রাতে সন্তানদের বনে ফেলে আসার ঘটনা।

ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে বাড়িওয়ালাদের দুর্ব্যবহারের ঘটনা তো আছেই!

অতিরিক্ত সতর্ক হতে গিয়ে কেমন যেন ‘হুজুগে বাঙালি’ প্রবাদের সাথে মিলিয়ে ফেলছে সবাই নিজেদের । ‘করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ থেকে ভাইরাস ছড়ায় না’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইডিসিআরের পক্ষ থেকে একথা বারবার বলা হলেও  ‘অতিরঞ্জন বাঙালির স্বভাব’ কাজ-কর্মে এমন বার্তাই দিচ্ছে সবাই। কিন্তু আজ অথবা কাল নিরব দর্শক হয়ে এসব দেখে যাওয়া কারো বাবা  এমন করুণ পরিস্থিতির শিকার হলে পচে যাওয়া  সমাজের এই চিত্র কি মেনে নিতে পারবেন সে ভূক্তভোগী?

আরো পড়ুন: রোগ গোপন ও রোগীকে হয়রানির পাল্টা অভিযোগ: সুরাহা কোন পথে!

নিজেদের প্রতিনিয়ত  সভ্য যুগের বাসিন্দা দাবি করা  মানুষগুলো হরহামেশা জন্ম দিচ্ছি অসভ্য সব ঘটনার। ক্রমশই বাড়ছে অমানবিকতা। রক্ত মাংস আর চামড়ার মুখোসের আড়ালে সমাজে একদল হিংস্র অমানুষের ছায়া দেখছে বিপদে পড়া অসহায়েরা।

অন্যের বিপদে নিজেকে মানবিক হিসেবে তুলে ধরার মোক্ষম সময় এখন।  চলমান এ সংকটে সমাজ এমন অপ্রীতিকর ঘটনার সাক্ষী হওয়ার পেছনে  মানুষের কুরআন সুন্নাহের মূল শিক্ষা থেকে দূরে সরে আসাকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন ইসলামি চিন্তাবীদ মারকাযুদ্দাওয়ায় আল ইসলামিয়ার উস্তায, ও মাসিক আল কাউসারের সহ-সম্পাদক  মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ্।

তিনি বলছেন,মানুষের ভাল-খারাপ থাকা আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছেতেই হয়ে থাকে। বিপদের মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট রাখা ও তার দয়া কামনা করা মানুষের একান্ত কর্তব্য।  বাবা-মাকে খুশি রাখা ও অসহায়ের প্রতি অনুগ্রহ  আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি – দয়া লাভের অন্যতম মাধ্যম। বর্তমান সংকটকালে মানুষ আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ লাভের জন্য কুরআন সুন্নাহের মূল শিক্ষা আকড়ে ধরতে পারলে সমাজ এ অমানবিকতা থেকে মুক্তি পাবে বলে জানাচ্ছেন এই ইসলামি চিন্তাবীদ ।

আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে সমাজে যে সব বিভৎস ঘটনা জন্ম  নিচ্ছে এক্ষেত্রে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও  মানুষের এই অমূলক ভীতি কোন ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ নয়। তার ভাষায় স্বাস্থ্যবিদদের নির্দেশিত সামাজিক দূরত্বের মর্ম বুঝতেই  যেন  অক্ষম হচ্ছে মানুষ।

ইসলামী আকিদার প্রকৃত শিক্ষা, সতর্কতা অবলম্বন ও বিশেষজ্ঞদের নির্দেশিত সঠিক পন্থা অনুসরণের মাধ্যমে দিনদিন অমানবিক হয়ে ওঠা সমাজে ফিরে আসবে মানবিকতা ও শান্তির ছোয়া , এমন কথাই বলছিলেন মারকাযুদ্দাওয়ায় আল ইসলামিয়ার উস্তায, মাসিক আল কাউসারের সহ-সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ্।

পূর্ববর্তি সংবাদ৪৩ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনা
পরবর্তি সংবাদরমযান এবং তারাবী বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের নির্দেশনা