মানসিক চাপ কমাতে টিভিতে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বেশি প্রচারের পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী!

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের এই সংক্রমণের সময়ে ঘরবন্দি অবস্থায় নাগরিকদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক টিভি চ্যানেলগুলোতে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বেশি করে প্রচারের পরামর্শ দেন।

মন্ত্রী বলেন, “তাহলে তাদের মানসিক চাপ কমবে বলে আশা করি,”।

দেশে নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে তিনি এসব  কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, “করোনা আক্রান্তের ৮০ পারসেন্টের বেশি কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। অন্যদের অক্সিজেন সাপোর্ট ও কিছু ওষুধ লাগতে পারে।”

মন্ত্রীর এই কথায় সায় দিয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, “আক্রান্তদের শতকরা ৩২ ভাগের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল না। বিভিন্ন কারণে তাদের হাসপাতালে যেতে হয়। সামাজিক কারণে তারা বাড়িতে থাকতে পারেন না বলে হাসপাতালে যেতে হয়েছে…

“একজন রোগী যদি বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে পারেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তাতে উৎসাহ প্রদান করেছে। ওই রোগী হোম আইসোলেশনে থাকবেন স্ট্রিকটলি, উনি একটি ঘরের মধ্যে থাকবেন, তার সাথে অন্য কারও যাতে মেলামেশা না হয়, সে বিষয়টি তিনি নিশ্চিৎ করবেন। রোগীর আইসোলেশনে যদি প্রতিবেশী ও বন্ধুরা সহযোগিতা করি তাহলে কিন্তু ওই রোগীর জন্য ভালো।”

‘হোম আইসোলেশনে’ থাকা রোগীদের স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করে চিকিৎসা বিষয়ে করণীয় জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন আইইডিসিআর পরিচালক।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক মঈন উদ্দিন যখন বেশি অসুস্থ হয়েছিলেন, তখন সিলেট ভেন্টিলেটর সাপোর্টসহ করোনা কেয়ার ইউনিট ও আইসোলেশন সেন্টার না থাকার বিষয়টি সামনে চলে আসে এবং বিস্তর সমালোচনা হয়। এ প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, “আইসিইউ, ভেন্টিলেটর নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। প্রস্তুতি নিয়ে হচ্ছে। এ ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে। ভেন্টিলেটর দেওয়া হয় মুমূর্ষু রোগীদের। ইউরোপে আইসিইউর গড় প্রায় ৪ পারসেন্ট বা তারও অধিক। তাদের বয়স্ক জনসংখ্যা বাংলাদেশের তুলনায় বেশি।”

“নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৭৫ জন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৮ জন।
বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৭৫ জন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৮ জন।” পরিসংখ্যান দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এতে দেখা যায়, এই ভাইরাসে বাংলাদেশে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৩৮ জন। বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেওয়া করোনাভাইরাস বাংলাদেশে কেড়ে নিয়েছে ৭৫ জনের প্রাণ, যেখানে আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মাত্র ৫৮ জন।

মন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সারা দেশে সব সরকারি হাসপাতালে এখন আইসোলেশন শয্যা রয়েছে নয় হাজার, আইসোলেশন সেন্টার রয়েছে ৫০০টি।

চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম-পিপিই নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “পিপিইর সঙ্কট নেই। পিপিই তৈরি করতে সময় লেগেছে কারণ পিপিইর কাঁচামাল দেশে ছিল না, রপ্তানি বন্ধ ছিল এবং প্রস্ততকারকও তেমন ছিল না।

“আমরা আস্তে আস্তে প্রস্তুতকারক তৈরি করেছি। আমরা প্রায় ১ লক্ষ পিপিই সারা বাংলাদেশে প্রতিদিন দিচ্ছি। এই সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি।”

তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে এখন ৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৫২টি পিপিই মজুদ রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় এরইমধ্যে করোনাভাইরাস টেস্টের ২০টি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান জাহিদ মালেক।

তিনি আরো বলেন, “এই ২০টি ল্যাব এত সহজে স্থাপিত হয় নাই। আমাদের জানা ছিল না কতগুলো ল্যাব লাগতে পারে। এই ল্যাবগুলো অন্য দেশ থেকে আমদানি করে আনতে হয়। যেখানে আমদানি বন্ধ ছিল, আমরা বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন উপায়ে ল্যাবগুলো স্থাপন করেছি।”

তিনি মন্ত্রী যোগ করেন, “সমস্যা হলো- রোগীরা টেস্ট করতে আগ্রহ প্রকাশ করে না, গোপন করে যায়। ফলে অনেক চিকিৎসক এতে আক্রান্ত হয়েছে। এই আচরণ আশঙ্কাজনক। আমি আহ্বান করব, বেশি করে টেস্ট করুন। নিজে সুস্থ থাকুন এবং করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ দিন।”

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দেশে প্রায় অর্ধশতাধিক জেলা ‘লকডাউন’ করা হলেও তাতে জনগণের সায় মিলছে না বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বেশি সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন, যার মাধ্যমে লকডাউনকে আরও কার্যকর করা যায়। বিভিন্ন স্থান বিশেষ করে হাটবাজার, দোকানে ঘোরাফেরা করে সংক্রমণ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন অবাধে চলাচল করছে। ত্রাণ বিতরণেও জনগণ আক্রান্ত হচ্ছে। এ সমস্ত কারণে ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”

রাজধানীর উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট, ফুলবাড়িয়া এলাকার রেলওয়ে হাসপাতাল ও নয়াবাজারের মহানগর জেনারেল হাসপাতালে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে।

এছাড়াও মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ এবং মিরপুরের লালকুটি হাসপাতালকেও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সব বিভাগীয় হাসপাতালে আইসিইউসহ ২০০ শয্যা কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর জেলা শহরে হাসপাতালের ৫০ থেকে ১০০ শয্যা ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে।

এছাড়াও  ঢাকার বেসরকারি ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০০ শয্যা এবং আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০০ শয্যা তৈরি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পূর্ববর্তি সংবাদদেশে করোনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ২১-৩০ বছর বয়সীরা!
পরবর্তি সংবাদকরোনায় মৃতের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়াল