ইসলাম টাইমস ডেস্ক: করোনাভাইরাসের দুর্যোগে দেশের বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতের ১০টি বড় ও আলোচিত প্রকল্প থমকে আছে। ৫টির কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, ৫টির কাজ ঝিমিয়ে পড়েছে। ফলে প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ হওয়ার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এই ১০টি বড় প্রকল্প সেতু, সড়ক, রেল আর বিদ্যুৎ খাতের। এগুলোর মোট ব্যয় ৩ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এসব প্রকল্প নেওয়া হয়। এমনিতেই নানা কারণে প্রায় সব প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা অনুসারে গতি পায়নি। ফলে সময় ও ব্যয় বেড়েছে। এখন নতুন যোগ হলো করোনা-অনিশ্চয়তা।
১০ প্রকল্পের ৩টি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। এগুলো হচ্ছে—মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প। প্রথমটির কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি দুটির কাজ কিছুটা কমে গেছে। এই তিন প্রকল্পের মোট ব্যয় ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
আরও তিনটি বড় প্রকল্প রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। এগুলো হচ্ছে—পদ্মা সেতুর দুই পারে রেললাইন নির্মাণ, চট্টগ্রামের দোহাজারী-কক্সবাজার নতুন রেললাইন নির্মাণ এবং আখাউড়া-লাকসাম মিশ্রগেজ ডবল লাইন নির্মাণ। প্রথমটির কাজ সীমিতভাবে চলছে, বাকি দুটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই তিন প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা।
১০ বড় প্রকল্পের বাকি চারটি বিদ্যুৎ খাতের। এগুলো হচ্ছে—পায়রা, রামপাল, মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক এবং রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প। প্রথম দুটির কাজ বন্ধ আছে। চার প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা, যার দুই-তৃতীয়াংশ রূপপুরের জন্য
বড় প্রকল্পগুলো অনেকটাই বহুজাতিক। প্রকল্পের অর্থায়ন, বেশির ভাগ মালামাল, ঠিকাদার, পরামর্শক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশলীরা বিদেশি। বিদেশিরা না থাকলে কাজ চলে না। আবার দেশীয় কর্মী ছাড়া বিদেশিরা বেকার। মালামাল না এলেও কাজ বন্ধ থাকে।
করোনার কারণে বিদেশি কর্মী ও কর্মকর্তাদের একাংশ বাংলাদেশ ছেড়েছেন। অধিকাংশ দেশি কর্মী বাড়ি চলে গেছেন। মালামালে টান পড়েছে।
সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চীনা কর্মী ও প্রকৌশলীদের বড় অংশই বাংলাদেশে আছেন। চীন থেকে এখন মালামালও আসছে। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কোরিয়াসহ অন্য বিদেশিদের অনেকেই চলে গেছেন। অনেক দেশ থেকে মালামাল আসছে না। ফলে আটকে গেছে কাজ।
















