কোভিড-১৯: নিরলসভাবে দাফনের কাজ করে যাচ্ছে আলেমদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো

আবু দারদা ।।

করোনাভাইরাস পুরো বিশ্বকে বিপন্ন করে তুলেছে। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় বদলে গেছে মানুষের স্বাভাবিক চিত্র। করোনা আক্রান্তের সংবাদে আপনজন ও প্রতিবেশীরা কাছ থেকে সরে যায়। অচ্ছুৎ মনে করে আশপাশের সবাই। মৃত্যুবরণ করলে এই চিত্র হয় আরও ভয়াবহ নির্মম ও হৃদয়বিদারক। জানাযা তো দূরের কথা দাফনেও মরদেহের কাছেই আসছে না স্বজন প্রতিবেশিদের কেউই। এরকম দৃশ্য কি কেউ কখনো কল্পনায়ও এনেছিলো?

করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সন্তানরা মাকে ফেলে রেখে চলে যায়। বাবার মৃত্যুর পর শেষযাত্রায় নেই সন্তান, নেই প্রতিবেশিদের কেউ। এই অবস্থায় কেউ কেউ একথা বলার চেষ্টা করেন, লাশ দাফন ছাড়া থাকে। লাশের জানাযা হয় না৷ আলেমদের লাশের কাছে পাওয়া না৷ কিন্তু কোন কোন জানাযায় তারা ভীড় করেন। এমন অভিযোগকারীরা হলো ‘মতলববাজ’।

আমাদের অনুসন্ধান বলছে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় আলেমরা স্ব প্রণোদিত হয়ে কাজ করছেন৷ জেলায় ও উপজেলায় সেচ্ছাসেবীদের তালিকাসহ নোটিশ দিয়েছেন। সঙ্কটের সময় আলেমদের এগিয়ে আসার দিকে ‘মতলববাজদের’ চোখে পড়ে না কেন? আর কবে তাদের বিশ্বাস হবে আলেমরা দুর্যোগের মুহূর্তে মানুষের পাশে আছেন। নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

চলমান সঙ্কটে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া তিনটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় তারা ঢাকা ও ঢাকার বাহিরের জেলা-উপজেলায় করোনায় মৃতদের দাফনের কাজ করছেন। এছাড়াও তাদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

করোনা সংক্রমণে দেশে প্রথম মৃত্যু ঘটে ১৮ মার্চ। করোনায় মারা যাওয়া সংক্রমণের ভয়ে লাশের কাছে অনেকেই যেতে চান না। সেখানে প্রথম থেকেই এই লাশ দাফনের কাজ করে আসছেন ‘আল-মারকাজুল ইসলামী বাংলাদেশ’। তাদের ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১২৬ টি লাশ দাফনের কাজ করেছেন। এরমধ্যে ১৪ জন সনাতনধর্মী রয়েছে বলে ইসলাম টাইমসকে জানিয়েছেন আল মারকাজুল ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাওলানা হামজা শহিদুল ইসলাম।

করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লে ‘তাকওয়া ফাউন্ডেশন’ ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে। যা এখন অবধি অব্যাহত আছে। আসন্ন রমজান উপলক্ষে তাদের ‘রমজান ফুড প্যাকেজ’ বিতরণ করবে বলে ইসলাম টাইমসকে জানিয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান মাওলানা গাজী ইয়াকুব। এছাড়া এপ্রিল মাসের শুরু থেকে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে সারাদেশে লাশ দাফনের কাজ শুরু হয়। স্বেচ্ছাসেবীদের নিরাপত্তা পোশাকসহ কাফনের কাপড় সংস্থা থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত তাকওয়া ফাউন্ডেশন ও এহসান পরিবারের সমন্বয়ে ২৮টি লাশের দাফন- কাফনের কাজ সম্পন্ন করেছেন৷ এর মধ্যে করোনা পজিটিভ, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং সাধারণভাবে মৃত্যুবরণকারীরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মাওলানা গাজী ইয়াকুব।

মাওলানা গাজী ইয়াকুব আরও জানান, আমাদের কর্মীরা ঢাকার বাহিরে মোট ৩৭ জেলায় প্রশাসনের অনুমতিতে করোনায় মৃতদের কাফন-দাফনের কাজ করলেও ঢাকার ভেতরে আমরা কাজের অনুমতি পাই নি। গত ১৬ এপ্রিল করোনায় মৃতদের দাফনের অনুমতির আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোন উত্তর আসে নি। একারণে সব আয়োজন প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও আমরা ঢাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ছাড়া দাফনের কাজ করতে পারছি না।

ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশনের প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইহসান সিরাজ ইসলাম টাইমসকে বলেন, দেশের ৬৪ জেলায় একজন নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে আমাদের টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় আমাদের টিম প্রস্তুতি রয়েছে। প্রশাসন যদি আমাদের ডাকে আমরা কাজ করবো।

তিনি আরও জানান, গত ১৪ এপ্রিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয় বরাবর করোনায় মৃতদের লাশ দাফনের অনুমতির জন্য আবেদন করে রেখেছি। এখনো অনুমতি পাই নি। অনুমতি পেলে ঢাকাসহ বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় আমাদের কার্যক্রম শুরু হবে। আপাতত, প্রশাসনের তরফ থেকে আমাদের কর্মীদের ডাকা না হলে নানান সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা দাফন কাজে শরীক হতে পারছি না৷ তবে, প্রতি জেলার সিভিল সার্জেনের কাছে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ইকরামুল মুসলিমীনের স্বেচ্ছাসেবীদের দাফন সংখ্যা একজন৷ যা ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে তারা করেছেন।

পূর্ববর্তি সংবাদচেন্নাই থেকে ১৬৮ এবং সিঙ্গাপুর থেকে ১৮৫ দেশে ফিরলেন
পরবর্তি সংবাদএখন সব দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার রাজনীতি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী