রমযান এসে গেছে হে আল্লাহ!

মুহাম্মাদ তাওহীদুল ইসলাম তায়্যিব ।।

রমযান আসে যেন হে মালিক, ডাক আসে তোমার  ঘরের।

রওযায়ে আতহারে হাযিরির, ডাক আসে এ জীবন বদলের।

রমযান আসে যেন হে মালিক…

 

অনেকদিন     রমযানও উমরা বিষয়ক একটি নাশীদ শুনেছিলাম।তাতে বাইতুল্লাহর প্রতি ব্যাকুল মনের আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে এভাবে যে, হেআল্লাহ! এবার রমযান আসার সাথে সাথে যেন তোমার ঘরের ডাকও আসে।যেন ডাক আসে মসজিদে নববীও রওযায়ে আতহারে হাযির হওয়ার।

 

রমযান মাস মুমিনের হৃদয়-জগত আমোদিত হওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময়ে পুরো হৃদয়-প্রকৃতি জুড়ে যেন বসন্ত বিরাজ করে। ইবাদতের আগ্রহ, গোনাহ বর্জনের প্রেরণা,নিজেকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করার চেতনা,মুসজিদমুখী হওয়ার আবেগ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সঙ্গে সঙ্গে তারাবীরজামাতে শরিক হওয়ার প্রতিযোগিতা ইত্যাদি মুমিন মাত্রই উপলব্ধি করে। আল্লাহর হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে রোযা রেখে, ক্লান্ত দেহে সতেজ হৃদয়ের যে কি আবেদন তা রোযাদার ব্যক্তিমাত্রই অনুভব করে। সেইসঙ্গে রমযানের ভরপুর খাইর ও বরকত লাভ করে পুরো চরাচর।

 

রমযানে রোযা ও সাহরী-ইফতারের সাথে সাথে আবেগ-আনন্দের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো কোরআন তিলাওয়াত। নিজে তিলাওয়াত করা, অন্যের তিলাওয়াত শোনা, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোরআন খতমেরপ্রতিযোগিতা করা। সেইসঙ্গে তারাবী ও তাহাজ্জুদেরখতমেও অঘোষিত প্রতিযোগিতা থাকা। এসব আনন্দ উচ্ছ্বাসের বিবরণ তুলে ধরা অসম্ভব। সেই সাথে ধীরে ধীরে এবং অকৃত্রিম সুন্দর সুরে তিলাওয়াত হয় যে মসজিদে, সেখানে তারাবী পড়ার আনন্দও কম নয়।

রমযানের স্বপ্নময় একটি আনন্দ হলো হিজাযের সফর। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও উমরা পালন। মসজিদে নববীর হাযিরী ও রওযায়ে আতহার যিয়ারাত। এই মহা সৌভাগ্যের জন্যবাস্তবিক অর্থেই আল্লাহর দরবারে নির্বাচিত হতে হয়। আল্লাহর কাছে আকুতি ভরে চাইতে হয়। সে চাওয়ার মাঝেও থাকে আবেগময় কতো উপাখ্যান।

রমযানের শেষ দশকে মসজিদে মসজিদে আল্লাহ প্রেমীদের যে সাধনা, কেবল দৃশ্য দেখেও সে স্বাদ কিছুটা অনুভব করা যায়।পবিত্র সে দৃশ্যের প্রভাবে মুর্দাদিলে ও জোয়ার আসে।জোয়ার আসে যেন পুরো প্রকৃতিতে। তাতে ঢেউ উঠে জীবন বদলের।

এই মহিমান্বিত মাসটি আগমনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি।মুমিন হৃদয়গুলো যার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সেই কবে থেকে। প্রস্তুতি নিচ্ছে পুরো চরাচর। কিন্তু…

এই কিন্তুটাই আজ বেদনার। চাপা কষ্টের। নিদারুণ আক্ষেপের। অনুতাপ ও অনুশোচনার।

মসজিদের কাছেই বাড়ি। সারাদিন যার প্রতি হৃদয়ের টান। যার সাথে মন বাধা পড়ে থাকে সারাক্ষণ। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠেই যার সঙ্গে সাক্ষাৎ, একে একে দিনে কমপক্ষে পাঁচবার,এবংরাতের বেলা ঘুমুতে যাওয়ার আগেও সাক্ষাৎ। সেই মসজিদে এখন যাওয়া হয় না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযেও না।দিনে একবারও না। সপ্তাহেও না…। চিরপ্রশান্তির যে জায়গা, হৃদয়-মনের যে কেন্দ্র,নীরবে অশ্রু বিসর্জনের যে স্থান, হাজারো পেরেশানীর যে সান্ত্বনা, যেখানে সিজদার স্বাদ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্বাদগুলোর অন্যতম। আজ সেই মসজিদে যাওয়া হয় না।

রমযানে যেখানে দীর্ঘ সময় থাকা হয়। প্রতি ওয়াক্তে নামাযের অনেক আগে হাজির হয়ে তিলাওয়াত করা হয়। নফল নামায পড়া হয়। দীর্ঘ মুনাজাত করা হয়। রাতে তারাবীর দীর্ঘ নামাযে আত্মসমাহিত হয়ে থাকা হয়। আজ সেই রমযান উপস্থিত। অথচ…মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতি নেই। প্রাণের সেই কেন্দ্রভূমিতে যাওয়ার সুযোগ নেই।কী হবে তারাবীর, কী হবে সেহরী শেষে মসজিদের জামাতে শরিক হওয়ার, কী হবে ইফতার সেরে মসজিদ অভিমুখে ছুটে যাওয়ার, এখনও তার কিছুই জানা নেই। কষ্টে বুকটা হু হু করে। মসজিদের ভালোবাসা বুঝি অশ্রকাতর করবে এবার! স্মৃতির স্বপ্নীল ছায়াগুলো আবেগমথিত করবে বুঝি!

সম্পূর্ণ অকল্পনীয়ভাবে যেমন তৈরি হয়েছে এই পরিস্থিতি, তেমনি অকল্পনীয়ভাবে কি কেটে যেতে পারে না! নিদারুণভাবে কোটি মুমিন হৃদয়কে যেমন আহত করেছে এই অবস্থা, তেমনি কি অশ্রুবানে সব ধুয়ে যেতে পারে না! দূর হতে পারে না কি এই মুসিবত! লাখো ফোঁটা অশ্রুর নযরানা কি পেশ করতে পারি না আমরা!

 

পূর্ববর্তি সংবাদকরোনাভাইরাস নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ : চীনের বিরুদ্ধে মামলা
পরবর্তি সংবাদ‘মুসলমানদের দমন বাড়াতে করোনাকে ব্যবহার করছে ভারত’