ফরহাদ খান নাঈম।।
আল্লাহ তা’য়ালার ৯৯টি গুণবাচক নামের একটি হলো الرزاق অর্থাৎ রিজিকদাতা। এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই আল্লাহ তা’য়ালার দান। পৃথিবীতে বিচরণশীল সকল প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ তা’য়ালার।
তবে আল্লাহ তা’য়ালার কাছ থেকে বেশি বেশি রিজিক লাভ করার কিছু উপায় রয়েছে। নিম্নে এবিষয়ে আলোকপাত করা হলো-
১. তাওবা করা
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে-
“তোমরা আল্লাহ তা’য়ালার কাছে ক্ষমা চাও; কেননা তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তিনি তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন। তিনি তোমাদেরকে নদী ও (ফল-মূলের) বাগান দেবেন।” (সূরা নূহ: ১০-১২)
২. তাকওয়া অর্জন
ইরশাদ হচ্ছে-
“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে, তিনি তার জন্য (যে কোনো বিপদ থেকে উত্তরণের) পথ বের করে দেবেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”
(সূরা তালাক: ২-৩)
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি রাসুলুল্লাহ সা. কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি প্রচুর পরিমাণে রিজিক চায় ও দীর্ঘ হায়াত কামনা করে, সে যেনো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। (বুখারী ও মুসলিম)
৪. সাদাকা করা
কুরআনে কারীমে বর্ণিত হয়েছে-
“বলুন! আমার প্রভু তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা রিজিক বাড়িয়ে দেন আবার যাকে ইচ্ছা রিজিক সংকুচিত করে দেন। এবং তোমরা যা দান করো তার প্রতিদান তিনি দিয়ে দেন। এবং তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।” (সূরা সাবা: ৩৯)
৫. ইবাদাত করা
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, তোমরা আমার ইবাদাত করতে থাকো, আমি তোমাদের হৃদয়কে পরিতুষ্টি দান করবো, এবং তোমাদের দারিদ্র্য ঘুঁচিয়ে দেবো। আর যদি তোমরা তা না করো, আমি তোমাদেরকে ব্যস্ত রাখবো ঠিকই; কিন্তু এর দ্বারা তোমাদের দারিদ্র্য ঘুঁচবে না। (তিরমিযী: ২৪৬৬)
৬. হজ্ব ও উমরা পালন করা
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা বেশি বেশি হজ্ব ও উমরা করতে থাকো। নিশ্চয়ই এই দুইয়ের (হজ্ব ও উমরার) পরম্পরা দারিদ্র্য বিমোচন করে, এবং গুনাহগুলোকে এমনভাবে মুছে দেয়, যেমনিভাবে আগুন লোহা, স্বর্ণ ও রৌপ্য’র মরিচা দূর করে। (তিরমিযী ৮১০)
৭. তাওয়াক্কুল
উমর ইবনুল খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা যদি সত্যিকার অর্থেই আল্লাহ তা’য়ালার উপর ভরসা করতে, তাহলে তিনি তোমাদেরকে পাখিদের মতো রিজিক দান করতেন। পাখিরা সকালবেলায় খালি পেটে বের হয়ে যায় আর সন্ধ্যাবেলা ভরা পেটে ফিরে আসে। (ইবনে মাজাহ: ৪১৬৪)
৮. বিবাহ করা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
“তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে অবিবাহিতদের বিবাহ দিয়ে দাও; এবং তোমাদের নেককার দাস-দাসীদের মধ্যে বিবাহ দিয়ে দাও। যদি তারা দরিদ্র হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাদেরকে নিজ দয়ায় ধনী বানিয়ে দেবেন। এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালা সর্বময় পরিবেষ্টনকারী ও সবজান্তা।” (সূরা নূর: ৩২)
৯. দুয়া করা
উম্মে সালামাহ রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সা. ফজরের নামাজের সালাম ফিরিয়ে বলতেন,
اللهم إني أسألك علماً نافعا ورزقنا طيبا وعملا متقبلا
অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, উত্তম রিজিক ও মাকবুল আমল প্রার্থনা করি।” (ইবনে মাজাহ; ৯২৬)
সুতরাং উক্ত দুয়া পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহ তা’য়ালার কাছে রিজিক চাইতে হবে।
১০. শুকরিয়া আদায় করা
আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,
“যদি তোমরা আমার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করো, আমি তোমাদেরকে নেয়ামত বাড়িয়ে দেবো; কিন্তু যদি তোমরা নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করো, তাহলে জেনে রেখো, আমার শাস্তি বড় কঠিন।” (সূরা ইব্রাহীম: ৭)
১১. সন্তান নেওয়া
ইরশাদ হচ্ছে-
“তোমরা রিজিকের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না। আমিই তোমাদেরকে ও তাদেরকে রিজিক দান করবো।” (সূরা বানি ইসরাইল: ৩১)
আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে সৃষ্টির সাথে সাথে আমাদের রিজিকও নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তবে উত্তম রিজিক আল্লাহ তা’য়ালার কাছে চাইতে হয়। একজন মুসলিম রিজিকের জন্য কোনোভাবেই চাকরি কিংবা ব্যবসার উপর নির্ভরশীল নয়।
















