নতুন চাঁদ দেখে রমজান মাসকে বরণ করতেন রাসুল সা.

মুহাম্মদ ইমদাদুল হক ফয়েজী।।

আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ, করুণা আর তাকওয়া অর্জনের শাশ্বত পয়গাম নিয়ে আমাদের দোরগোড়ায় বছর ঘুরে আবারও হাজির হচ্ছে মহিমান্বিত মাস রমাজানুল মোবারক।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের জন্য সিয়াম সাধনের বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারো।’ (সুরা বাকারাহ : ১৮৩) রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারী, মুসলিম)

অপার বরকতের এ মাসে মুমিন বান্দাগণ দৈনন্দিন সালাত আদায় ও তাকওয়ার সোপান সিয়াম সাধনার পাশাপাশি সালাতুত তারাবিহ, তাহাজ্জুদ, কোরআন কারিম তিলাওয়াত, দান-সদকাহ ইত্যাদি ইবাদতে অধিক মনযোগী হয়ে নিজেদেরকে মহান প্রভুর কাছে সপে দেবেন, তাঁর প্রিয় হতে আত্মনিয়োগ করবেন।

নিজেকে পরিশুদ্ধ করে মহান আল্লাহর প্রেম ও নৈকট্য লাভ, অবারিত পুণ্য চাষের উর্বর এ মওসুম শুরু হয় শা’বান মাসের বিদায়ান্তে, রমজান মাসের সূচনা ক্ষণ থেকেই। ২৯ বা ৩০ শা’বান সন্ধ্যার আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ উদিত হলে রাসুল সা. নির্দিষ্ট দোয়া পড়ে এ মাসকে বরণ করতেন। উৎসব-আমেজের এ আমলটি আজ বিলুপ্তির পথে।

একসময় গ্রামে গ্রামে ছোট-বড় প্রায় সকল মুসল্লি, বছর ঘুরে আসা রমজান আর ঈদের চাঁদ দেখার কোশেশ করতেন। মাগরিবের নামাজ আদায় করেই মসজিদ থেকে বের হয়ে পশ্চিম আকাশপানে বার বার তাকাতেন। সহসা নজরে না এলে উঁকিঝুঁকি দিয়ে হলেও দেখার চেষ্টা করতেন। চাঁদ দেখা গেলে সকলের মাঝে এক অন্যরকম আনন্দ-খুশি কাজ করতো। এখন আর এগুলো দেখা যায়না বললেই চলে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় চাঁদ দেখা কমিটি আর সংবাদ মাধ্যমের ঘোষণার অপেক্ষাতেই আমরা বসে থাকি। সুন্নত এ আমলটি জিইয়ে রাখতে আমাদের সকলকে আগ্রহ নিয়ে চাঁদ দেখতে সচেষ্ট হবে। এটিকে সার্বজনীন করে তুলতে একে অপরকে উৎসাহিত করতে হবে।

রাসুল সা. বলেন- ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখো এবং চাঁদ দেখে ভঙ্গ করো (ঈদ করো)।'(সহিহ মুসলিম) রাসুল সা. নতুন চাঁদ দেখে এ দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-য়ুমনি ওয়াল ঈমান, ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।’ অর্থাৎ: হে আল্লাহ, আপনি আমাদের জন্য এ চাঁদকে সৌভাগ্য ও ঈমান এবং শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন। আল্লাহই আমার ও তোমার রব। (জামে’ তিরমিজি)

আসুন, আমরা রাসুল সা. এর সুন্নতের অনুসরণ করি। চাঁদ দেখার মাধ্যমে মহিমান্বিত রমজান মাসকে বরণ করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সিয়াম সাধনসহ যাবতীয় ইবাদত নিষ্ঠা ও পরিপূর্ণ শুদ্ধতার সাথে অধিক হারে করার তাওফিক দান করুন। বরকতময় এ মাসের যাবতীয় কল্যাণ ও বরকত দিয়ে আমাদের জীবনকে উদ্ভাসিত করুন। আমিন।।

পূর্ববর্তি সংবাদকরোনা: ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া, ইয়েমেনে
পরবর্তি সংবাদকরোনায় বিশ্বব্যাপী সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ