পর্যুদস্ত আফ্রিকা : করোনার পাশাপাশি পঙ্গপালের হানা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক :  মধ্য আফ্রিকায় দ্বিতীয়বারের মতো হানা দিয়েছে পঙ্গপাল। এবারের ছোট পোকাগুলো আরও অনেক বেশি আগ্রাসী। ছোট ছোট ক্ষতিকর পতঙ্গগুলো করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পর্যুদস্ত মহাদেশটির এখানে–সেখানে অবাধে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রোগাসে শস্য সাবাড় করে দেওয়া পঙ্গপালকে দমন রীতিমতো দুরূহ হয়ে উঠেছে। এর ২০১৯ সালের শেষের দিকের ওই অঞ্চলে পঙ্গপালের উৎপাত দেখা যায়।

এই মুহূর্তে আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ ইথিওপিয়ার পাশাপাশি ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক শক্তি কেনিয়া আর রাজনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত সোমালিয়া পঙ্গপালের আক্রমণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় দফায় হানা দেওয়া পতঙ্গগুলোর পাল প্রথমবারের চেয়ে ২০ গুণ বড়। জুন নাগাদ এগুলো চার শ গুণ বড় হয়ে যাবে।

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আমহারা এলাকায় পঙ্গপাল কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে কাজ করছেন সরকারি কর্মকর্তা মেসেরেট হাইলু। তিনি বলছেন, বন, চারণভূমি, আবাদি জমি, এমনকি জঙ্গলেও দেখা মিলেছে পঙ্গপালের।

২০১৯ সালের শেষ দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে এই পোকার বিস্তার চোখে পড়ে ইথিওপিয়া, তার প্রতিবেশী ইরত্রিয়া ও জিবুতিতে। সংখ্যায় কম হলেও একসময় তা ছড়িয়ে পড়ে সোমালিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান আর তানজানিয়ায়।

গত ২৫ বছরে এত ব্যাপক আকারে পোকার আক্রমণ সামাল দেয়নি, এমন সরকারগুলো এই পরিস্থিতিতে যে হিমশিম খাবে—এটাই স্বাভাবিক। তাই পোকাগুলো মেরে ফেলতে পেস্টিসাইড, সুরক্ষামূলক জাপাকাপড়, ধোঁয়ার সাহায্যে আর উড়োজাহাজ থেকে জীবাণুনাশক ছড়ানোর জন্য রীতিমতো হুড়োহুড়ি শুরু করে দেয় আফ্রিকার দেশগুলো।

তবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) কর্মকর্তা সিরিল ফেরান্ড মনে করেন, পঙ্গপাল দমনের জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ জোরদার করাটাই কঠিন।

পঙ্গপালের প্রথম দলটি মাটিতে যে ডিম রেখে গেছে, তা থেকে এরই মধ্যে বংশবিস্তার হচ্ছে। ছোট ছোট এই পোকা অনেক বেশি আগ্রাসী ভঙ্গিতে সাবাড় করে দিচ্ছে গাছপালা। এই পোকাগুলোই এখন ছড়িয়ে পড়ছে কেনিয়া, সোমালিয়া আর ইথিওপিয়ায়। এপ্রিলের শুরুতে পোকাগুলো আবার উগান্ডার পাঁচ বর্গকিলোমিটারে ছড়িয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আঞ্চলিক মুখপাত্র জুডিথ মুলিংসে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে সুরক্ষাসামগ্রীর মজুত পর্যাপ্ত। তবে সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে যেভাবে দেরি হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে সংকট দেখা দেবে।

এফএও কর্মকর্তা সিরিল ফেরান্ড বলছেন, আবাদি জমিতে ধানসহ অন্যান্য গাছগুলো যখন বাড়তে থাকে, পঙ্গপাল ঝাঁক বেঁধে হামলা চালাচ্ছে এতে। সব শস্যই এরা সাবাড় করে দিচ্ছে। এমনটা চলতে থাকলে শস্য উৎপাদন চলে যাবে শূন্যের কোঠায়।

এ পর্যন্ত এফএওর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পঙ্গপালের হানায় চরমভাবে পর্যুদস্ত হয়েছে ইথিওপিয়া। দেশটির দুই লাখ হেক্টর জমির ফসল চলে গেছে পোকার পেটে। আর শেষ করে ফেলেছে ১০ লাখ হেক্টরের বেশি চারণভূমির ঘাস। জাতিসংঘের সংস্থাটির আশঙ্কা, পঙ্গপালের কারণে দেশটির অন্তত লাখ দশেক মানুষ খাবারের সংকটে পড়বে।

পূর্ববর্তি সংবাদকরোনা ভাইরাস : আত্মোপলব্ধির কয়েকটি দিক
পরবর্তি সংবাদলকডাউনের মধ্যেই কাশ্মীরে সেনা অভিযান, অন্তত ২১ স্বাধীনতাকামী নিহত