ওরিয়েন্টালিস্টদের গবেষণা : ইসলাম নিয়ে সংশয়বাদীদের আপত্তির মূল উৎস

মাওলানা জাহিদুল আলম ।। 

ওরিয়েন্টালিস্ট বা প্রাচ্যের ধর্মবিষয়ক পশ্চিমা গবেষকদের লক্ষ্য থাকে ইসলামের বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানদের মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্ন ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়া। ইসলাম নিয়ে সংশয়বাদীদের যে এতো প্রশ্ন ও আপত্তি সেগুলোর মুল উৎস কিন্তু ওরিয়েন্টালিস্টদের গবেষণা কর্মগুলো।

হাদীস শরীফের প্রামাণ্যতা ও বিশুদ্ধতা নিয়ে তারা নানা প্রশ্ন তোলে। তেমনই একটা প্রশ্ন হলো-ইমাম আহমাদ,বুখারী, মুসলিম,তিরমিযী প্রমুখ তাঁরা তো রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)যুগের অনেক পরের মানুষ। তাঁরা যেসকল হাদিস সংকলন করলেন সেগুলোর ভিত্তি কী?এর আগে তো এই হাদীসগুলো লিখিত আকারে সংরক্ষণ হয়নি।

তার মানে আসলে এগুলো ইমামদের নিজস্ব মতামত যেগুলো তাঁরা নবীজীর নামে চালিয়ে দিয়েছেন। আমাদের যুগের মানুষরা এই যুক্তি সহজেই মেনে নেবে। আসলেই তো! লিখিত ডকুমেন্ট ছাড়া তো কোন কিছুই যথাযথ সংরক্ষণ হয় না। তাহলে ইমামগণ এই হাদীসগুলো কোথায় পেলেন? এর উত্তর পেতে হলে আমাদের একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে।

জাহেলী যুগে আরবদের অভাবনীয় মুখস্থ ও স্মৃতিশক্তি ছিল। (এর কিছুটা রেশ এখনো আছে)হাজার হাজার কবিতা মুখস্থ বলতে পারত।কম-বেশি সবাই নিজেদের তো বটেই,উট-ঘোড়ার বংশলতিকা পর্যন্ত মুখস্থ রাখত।

কথিত আছে,আরবী কবিতার রাবী(বর্ণনাকারী) হাম্মাদের তিনহাজার লম্বা লম্বা কবিতা মুখস্থ ছিল। তাদের এই অতুলনীয় মুখস্থশক্তির দরুন যেকোন কিছু সংরক্ষণের জন্য লিখে রাখার চাইতে স্মৃতিশক্তির উপরই তারা বেশি নির্ভর করতো। বরং লেখাটা তাদের জন্য অপমানজনক বিষয় ছিল।কেননা তাতে লোকেরা ধরে নিত এই লেখকের স্মৃতিশক্তি দুর্বল। তো হাদীস শরীফ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এর ব্যতয় ঘটেনি।

সাহাবায়ে কেরাম হাদীস মুখস্থের পেছনে জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করতেন।”আসহাবে সুফফা” নামে পরিচিত সাহাবীদের একটি দল তো ঘরবাড়ি ছেড়ে দিনরাত মসজিদে নববীতে পড়ে থাকতেন এই উদ্দেশ্যে,যেন নবীজীর একটি বাণীও ছুটে না যায়। এভাবে বড় সংখ্যক মানুষের স্মৃতিতে সংরক্ষণই ছিল হাদীস হেফাজতের প্রথম ও প্রধানপদ্ধতি।

এছাড়া আরো তিনটিসহ মোট চার পদ্ধতিতে হাদীস সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ১.স্মৃতিশক্তির মাধ্যমে। ২.পারষ্পরিক আলোচনা বা ডিসকাসের মাধ্যমে। ৩.হাদীসকে বাস্তব জীবনে আমলে আনার মাধ্যমে। ৪.লিখিতরূপে সংরক্ষণের মাধ্যমে। (হুজ্জিয়াতে হাদীস,১০৯-১১২) মানুষ সাধারণত নিজের সাথে অন্যকে তুলনা করে থাকে।জাতি,যুগ ও সমাজের বৈশিষ্ট্যগুলো না জেনে তৎকালীন আরবসমাজকে নিজেদের সাথে তুলনা করলে এমন বিভ্রান্তি হওয়াটা স্বাভাবিক।আর এই সুযোগটাই ওরিয়েন্টালিস্টরা নিয়ে থাকে।

লেখক : শিক্ষক, মাদরাসা তারবিয়তুল উম্মাহ

পূর্ববর্তি সংবাদখতম তারাবীর ইমামতি করে বিনিময় বা হাদিয়া নেওয়া জায়েয হবে কি?
পরবর্তি সংবাদপ্রযুক্তিবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী মারা গেছেন