দারুল উলুম দেওবন্দ : চার অনন্য বৈশিষ্ট্য

ইবনে আবদুল কুদ্দুস ।।

দারুল উলুম দেওবন্দ শুধু একটি দীনী প্রতিষ্ঠানের নাম নয়। এটি সালাফে সালেহীনের আদর্শ, চেতনা, দীনের সহিহ সমঝ ও ফিকর, দীর্ঘ চৌদ্দশ বছর ধরে অবিচ্ছিন্ন সূত্র পরম্পরায় চলে আসা ভারসাম্যপূর্ণ মেজায ও রুচি প্রকৃতির ধারক বাহক। এর মৌলিককিছু শিয়ার ও বৈশিষ্ট্যের উপর আলোকপাত করেছেন হযরত মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবি রহ.।

১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠা শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে আবুল হাসান আলি নদবি রহ.বলেন, “আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি, দারুল উলুম দেওবন্দের অন্যতম একটি গুণ ও বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি মতানৈক্যপূর্ণ বিষয় ও ফিকহি মাসায়েল থেকে তাওহিদ ও সুন্নতের উপর নিজের সর্বোচ্চ শ্রম ও মনযোগ নিবিষ্ট করে। আর এটি হযরত শাহ অলিউল্লাহ দেহলবি রহ. থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া আমানত। একথা আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি দারুল উলুম এটি পেয়েছে হযরত শাহ ইসমাইল শহীদ রহ. ও হযরত সায়্যেদ আহমদ শহীদ রহ. এর মাধ্যমে এবং এটি আজও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গুণ।”

এরপর তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, দেওবন্দের আন্যতম বৈশিষ্ট্য চারটি। এক. খাঁটি তাওহিদ। দুই. সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুসরণ। তিন. আল্লাহর সাথে দৃঢ় সম্পর্ক। চার. ইলায়ে কালিমাতুল্লাহ- আল্লাহর দীনকে সমুন্নত করার প্রেরণা। এই চারটি গুণে মানুষ মুসলমান হয়। আমি বলি, এই চার গুণ কারো মাঝে থাকলে সে দেওবন্দি হয়।

তারপর তিনি এই মূলমন্ত্র চারটির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “সাফ সাফ বলছি,

  • প্রথম গুণ এমন আকিদায়ে তাওহীদ বা একত্ববাদের বিশ্বাস, যাতে শিরকের কোন ধরণের সংমিশ্রণ নেই। দারুল উলুম এর ফারেগ তলাবায়ে কেরাম, একথা অন্তরে গেঁথে রাখুন।
  • দ্বিতীয় গুণ সুন্নতের অনুসরণের প্রচণ্ড স্পৃহা ও ভাবনা।
  • তৃতীয় গুণ আল্লাহর সাথে প্রগাঢ় সম্পর্ক ও বন্ধন তৈরির চেষ্টা মেহনত করা। যিকর ও আল্লাহর ধ্যান লাভ করা এবং পরকালের চিন্তা সব সময় মাথায় রাখা। আর ঈমান ও ইসতেসাবের জযবা কখনও যেন ছুটে না যায়, সে দিকে খেয়াল রাখা। যে আমলই করবেন তা যেন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে হয়।
  • চতুর্থ গুণ ইল্লায়ে কালিমাতুল্লাহর প্রেরণা। যেভাবেই হোক, যে পথ ও পদ্ধতিতেই হোক,খোদার দীনকে উড্ডীন করার চেষ্টা প্রচেষ্টা করা।

যে কেউ এই চারটি গুণ ধারণ করলে সে হবে দেওবন্দি। কারো মাঝে কোন একটি গুণ না থাকলে তার দেওবন্দি হওয়া ত্রুটিপূর্ণ। ব্যস, এচারটি দারুল উলুমের শিয়ার ও আদর্শবাণী। দারুল উলুমের ফারেগ তলাবায়ে কেরামের শিয়ার হল এই চারমন্ত্র আঁকড়ে ধরে রাখা।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ মুসলমানদের উদ্দেশ্যে মাওলানা নদবি বলেছিলেন, “ভারতীয় মুসলমানরা তাদের বৈশিষ্ট্য ও জাতীয়ঐতিহ্যেরর সঙ্গে এদেশে টিকে থাকবে। তারা কুরআন ও সুন্নাহকে বুকে আগলে রাখবে। বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে টানা হেঁচড়া করার পরিবর্তে তাওহীদ ও সুন্নতের উপর জোর দিবে । দেওবন্দের এটিই বার্তা এবং এটিই তার বৈশিষ্ট্য যে সে জাতির মূল পুঁজিটিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

আমি পূর্ণ আস্থার সঙ্গে বলছি, মাওলানা কাসেম নানুতবি ও তার আত্মার পয়গাম এটি।  শাইখুল হিন্দ এই ভাবনায় বিভোর ছিলেন। হাকীমুল উম্মত থানবি ও মাওলানা মাদানি নিজ নিজ পথ ও পন্থায় সব সময় এভাবনায়ই অস্থির  ছিলেন।”

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই চিন্তা চেতনাগুলো ধারন ও লালন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

পূর্ববর্তি সংবাদ​২ হাজার চিকিৎসক ৫ হাজার নার্স নিয়োগের সুপারিশ চূড়ান্ত করছে কর্মকমিশন
পরবর্তি সংবাদদাম্পত্য কলহ : সিরাজগঞ্জে শিশুকে গলাকেটে হত্যা