করোনায় রমযান: মক্কা ও মদিনায় ঘরে ঘরে ইফতার পৌঁছে দিচ্ছে হারামাইন কর্তৃপক্ষ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: মদীনার মেহমানদারির ব্যাপারটি প্রবাদতুল্য। ইসলামের চূড়ান্ত সঙ্কটের মুহূর্তে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম এবং মুহাজিরদের আশ্রয়দানের মাধ্যমে আরও চৌদ্দশত বছর আগেই মদীনাবাসী আথিতেয়তার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছিল। চৌদ্দশ বছরের সিলসিলা মদীনাবাসী জারি রেখেছে যুগ যুগ ধরে।

বরকতের মাস রমযান মাসে মদীনাবাসীর আথিতেয়তার পরিমাণ স্বভাবতই বেড়ে যায়। রমযানে রাসূলের শহরে ইফতারের সময় আল্লাহর কোনো বান্দা সাধারণত অভূক্ত থাকে না। মসজিদে নববীতে মদীনার দূর দূরান্তের লোকেরা মুসাফিরদের জন্য ইফতার নিয়ে আসে। আল্লাহর নবীর শহরের ছোট ছোট বালকদের রমযানে রোযাদারদের ইফতারের দস্তরখানে মেহমান বানানোর প্রতিযোগিতা একটা উপভোগ্য দৃশ্য।

মক্কার চিত্রও ভিন্ন কিছু নয়। আল্লাহর ঘরের যারা মেহমান তাদের মেহমানদারি তো করেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। রমযানে মুসাফির, অথিতিদের খেদমতে মসজিদুল হারামেও বিছানো হয় রকমারি খাবারের দস্তরখান। বিশেষ করে যমযম তো আছেই আল্লাহর শহরের মেহমানদের মেহমানদারির জন্য। যমযম তো একই সাথে পানি, পানীয় এবং খাদ্যও।

কিন্তু এবছর করোনায় সব চিত্রই পাল্টে গেছে। এখন কাবা চত্বরে তওয়াফকারীদের তেমন সমাগম নেই। যমযমের পাড়ে কোনো ভিড় নেই। মসজিদে নববীতে বিশাল বড় দস্তরখানা পাতা হয় না এখন। মেহমানদারী করার সুযোগ বঞ্চিত হয়ে হারামাইনবাসীর মনে এবছর প্রচুর কষ্ট জমে আছে। হারামাইনের অধিবাসী অভাবগ্রস্ত লোকদের জন্য তাদের দিল ব্যথিত।

তবে করোনার কারণে এবছর হারামাইনে ব্যক্তি উদ্যোগে আপ্যায়ন বন্ধ থাকলেও চলতি করোনার বছরে মেহমানদারির এ ‘গুরুদায়িত্ব’ পালন করছেন হারামাইন কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা বিষয়ক অধিদফতরের প্রেসিডেন্ট শাইখ আব্দুর রহমান সুদাইসের নির্দেশে এবং মক্কা ও মদিনাবাসীর সহযোগিতায় এবছর ‘রমজান ইফতার প্যাক’ নামে এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। মক্কায় এ কার্যক্রমটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিররান বি মাক্কাহ্’ বা ‘মক্কার অধিবাসীরে প্রতি সদয় আচরণ’। আর মদিনায় ‘খাইরুল মদিনা’ নামে চলছে এ কার্যক্রম।

অভাবগ্রস্ত এবং মুসাফিরদের সহায়তার জন্য এ কার্যক্রম চালু হওয়ার পর হারামাইনবাসীর মনে যেন কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। মসজিদে হারাম, মসজিদে নববীসহ মক্কা মদীনার অন্যান্য মসজিদে ইফতারের দস্তরখান বিছানো না হলেও প্রয়োজনগ্রস্তদের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে প্যাকেটজাত খাবার।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, পবিত্র ও বরকতময় দুই শহরে স্বাভাবিক সময়ের মতোই সবার ঘরে খাবার পৌঁছে যাচ্ছে। কেউ অভূক্ত নেই। কেউ খাবারের কষ্টে নেই।

উকাজ পত্রিকা অবলম্বনে

পূর্ববর্তি সংবাদসৌদি আরবে ২২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কল করলেই পাবেন স্বাস্থ্য সেবা
পরবর্তি সংবাদকরোনা সংকটে আশা জাগানিয়া সংবাদ প্রকাশ করুন: তথ্যমন্ত্রী