ওলিউর রহমান ।।
মহামারী করোনা সব হিসেব পাল্টে দিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যক্তিগত অনেকদিনের নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ ও প্রোগ্রামের শিডিউল বদলে দিয়েছে। পুরো বিশ্ব স্থবির। কল কারখানা বন্ধ। আয় উৎপাদন বন্ধ। বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। জনজীবন নির্দিষ্ট ছকে আবদ্ধ হয়ে আছে।
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করার জন্য আস্তে আস্তে সীমিত পরিসরে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত কবে নাগাদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হতে পারে তার কোনো সন্ধান জানা যায়নি। উপরন্তু প্রধানমন্ত্রীর এক ভাষণ থেকে বুঝা যায়, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ সেপটেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এ অবস্থায় চলতি শিক্ষা বছর নিয়ে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ছুটির ভেতরে বেসরকারি এবং দেশের কওমি মাদরাসাগুলোও পড়বে কি না; এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা সংশয় সন্দেহ। এদিকে অপূর্ণাঙ্গভাবে একটি শিক্ষাবর্ষ সমাপ্ত করা কওমি মাদরাসার নতুন শিক্ষাবর্ষ দোরগোড়ায়। শিক্ষার্থীদের মনেও হাজারো প্রশ্ন। কবে খুলবে মাদরাসা? গত বছরের রয়ে যাওয়া পরীক্ষা, নতুন বছরের ভর্তি, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ-এর কী তরিকা হবে? গত বছরের দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষার্থীদের সামনে প্রশ্নগুলো আরও বড় আকারে দেখা দিয়েছে।
সামগ্রিক বিষয়েই অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহকারি মহাসচিব ও জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, আমরা তো এখন আসলে পরিস্থিতির শিকার। নিশ্চিতভাবে কোনো ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত জানানো এখন কঠিন।
তবে দেশের করোনা পরিস্থিতির সামগ্রিক বিষয় দায়িত্বশীল উলামায়ে কেরাম এবং মুরুব্বিদের বিবেচনায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অবশ্য রমযানের মাঝামাঝি পর্যায়ে গত বছরের পরীক্ষা, নতুন শিক্ষাবর্ষের আনুষ্ঠানিকতা ইত্যাদি বিষয়ে বেফাকের একটি বৈঠক হবে বলেও জানান মাওলানা মাহফুজুল হক।
এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নিজের কষ্টের কথা জানান আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তালিমের মহাসচিব এবং হাইআতুল উলয়ার সদস্য মাওলানা আবদুল বাছীর। তিনি বলেন, অপূর্ণাঙ্গভাবে একটি বছর শেষ হওয়ায় আমাদের শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তাই আমাদের সবারই আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করা উচিত তিনি যেন দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দেন।
পরিস্থিতির উন্নতি হলে কত দ্রুত আযাদ দ্বীনী এদারা বোর্ড অন্তর্ভূক্ত মাদরাসাগুলো খুলে দেওয়া যায় এ বিষয়ে তৎপর রয়েছেন বোর্ডটির মহাসচিব মাওলানা আবদুল বাছীর। তিনি জানালেন, আগামী ৯ মে এদারা বোর্ডের মিটিং ডাকা হয়েছে। সে মিটিং -এ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা রয়েছে।
এদিকে বেফাকের সহকারি মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, আস্তে আস্তে বিভিন্ন কারখানা এবং অফসি খুলতে দেখা যাচ্ছে। রাস্তাঘাটেও মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। এভাবে যদি পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যায় তাহলে রোযার পরে বেফাকভূক্ত প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা হতে পারে। তবে বেফাক যেকোনো সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নিবে বলে জানান তিনি।
মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, “এখন পর্যন্ত রমযানের ঈদের পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গত বছরের স্থগিত করা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এটাই বেফাকের নেওয়া সর্বশেষ সিদ্ধান্ত”।
করোনায় স্থবির হয়ে যাওয়া পৃথিবী কবে আবার সচল হবে তার কোনো ঠিক নেই। আজকেই দেশে সাধারণ ছুটি আরও দশদিন বাড়িয়ে ১৫ মে পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়। মানুষের জীবন-জীবীকা এখন চরম অনিশ্চয়তায়। তাই শিক্ষা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক অনিশ্চয়তার বাইরে নেই। এই অবস্থায় দেশের সবারই কামনা এবং প্রার্থণা- দ্রুত আল্লাহ তাআলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দিন।
















