এক এমপি আক্রান্ত: কোয়ারান্টিনে নওগাঁর আরও দুই এমপি, ডিসি, সিভিল সার্জন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান সরকার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ জানাজানি হওয়ার পর হোম কোয়ারেন্টিনে গেছেন সম্প্রতি তার সঙ্গে সরকারি কাজে অংশ নেওয়া নওগাঁর দুই সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন।

গত ২৭ এপ্রিল এই সংসদ সদস্যের পাশে বসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন স্থানীয় আরও দুই সংসদ সদস্য, নওগাঁর জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়াও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান সরকারের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা অংশ নেওয়ায় তারাও স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে গেছেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আখতারুজ্জামান আলাল  বলেন, আমরা যারা সংসদ সদস্যের (শহিদুজ্জামান সরকার) সঙ্গে ছিলাম তারা কোয়ারেন্টিনে আছি। আগামী ৪ মে (সোমবার) আমাদের নমুনা নেওয়া হবে। আগামী ৫ মে মঙ্গলবার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম বলেন, আমি আমার নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করছি।  আমার নেতা-কর্মীদের কথা চিন্তা করে, হোম কোয়ারেন্টিনে আছি। তবে আমার কোনও উপসর্গ নাই। আমি ভালো আছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদও বলেন, আমরা সাবধানতা অবলম্বন করে হোম কোয়ারেন্টিনে আছি। আগামী ৪ মে করোনা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান সরকার করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর তার নির্বাচনি এলাকায় নেতাকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল শহিদুজ্জামান সরকার নওগাঁয় এসেছিলেন। সেখানে তিনি শহরের ডাকবাংলোতে রাতযাপন করেন। দিনে তার নির্বাচনি এলাকায় যান। প্রায় এক সপ্তাহ তিনি তার নির্বাচনি এলাকা নওগাঁ-২ (ধামইরহাট ও পত্নীতলা) উপজেলায় ছিলেন। যেখানে করোনাভাইরাসে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায়দের ত্রাণ দিয়ে সহযোগিতা করাসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশেছেন।

এরপর গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তিনি নিজ নির্বাচনি এলাকা থেকে ঢাকায় আসেন। এসে সরকারি ন্যাম ভবনে (সংসদ সদস্য ভবন) ওঠেন। এরপর তার জ্বর দেখা দেয় এবং সঙ্গে হালকা কাশি হচ্ছিল। তখন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) তার নমুনা সংগ্রহ পরীক্ষা করানো হয়। শুক্রবার বিকাল ৫টায় আইইডিসিআর থেকে রিপোর্টে তিনি করোনা পজিটিভ হিসেবে জানানো হয়।

এমপির গাড়ি চালক রফিকুল ইসলাম রঞ্জু বলেন, গত ২১ এপ্রিল আমরা নওগাঁয় গিয়েছিলাম। এরপর গত মঙ্গলবার ঢাকায় আসি। ঢাকায় আসার পর থেকে স্যারের জ্বর ও কাশি হচ্ছিল। এরপর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরে শুনলাম স্যারের করোনা পজিটিভ। এখন অনেকটা ভালো।

ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গণপতি রায় বলেন, উপজেলা প্রশাসন এবং নেতাকর্মীসহ যারা এমপি স্যারের আশেপাশে ছিলেন তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনও সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

পূর্ববর্তি সংবাদপ্রায় ৩ হাজার বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে সরকার
পরবর্তি সংবাদকোরআনের পাখিরা কে কোথায়