রাষ্ট্রপতির নির্দেশে ক্ষমা পাওয়া আসলামকে নতুন হত্যা মামলা থেকেও বাঁচানোর চেষ্টা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির নির্দেশে ক্ষমা পাওয়া ফাঁসীর আসামী আসলাম ফকিরকে নতুন হত্যা মামলা থেকেও বাঁচিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সাংসদ কাজী জাফরউল্যাহ আবারও আসলাম ফকিরকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

এর আগে অন্য এক হত্যা মামলায় আসলামের ফাঁসির আদেশ হলেও তিনি রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় রক্ষা পান। পরে বিশেষ বিবেচনায় কারাগার থেকে মুক্তিও পান। আর পুরো এই প্রক্রিয়ার পেছনে ছিলেন কাজী জাফরউল্যাহ।

এদিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের শহীদ মাতুব্বর হত্যার পর দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এই মামলার প্রধান আসামি আসলাম ফকিরকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আটক সাত আসামি শহীদ মাতুব্বরকে খুন করার জন্য আসলাম ফকিরকে দায়ী করেছেন।

পুলিশের দাবি, যেকোনো সময় তারা আসলামকে ধরে ফেলবে। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সাংসদ কাজী জাফরউল্যাহ আবারও আসলাম ফকিরকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

এদিকে শহীদ মাতুব্বর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছেন, আসলাম ফকিরই এই হামলার নেতৃত্ব দেন। এই মারামারিতে অংশ নিতে তাদের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান এবং ভাঙচুর করার নির্দেশ দেন। তারা রামদা, রড, লাঠি, দিয়ে ভাঙচুর করতে গেলে শহীদ বাধা দিতে আসেন। এরপর তার ওপর আক্রমণ করলে তিনি নিহত হন। পুরো ঘটনায় আসলাম ফকিরই হুকুমদাতা ও অপরাধী।

ঘটনার দুই সপ্তাহ পরেও স্বামীর খুনের মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শহীদ মাতুব্বরের স্ত্রী সাজেদা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। আসলাম ফকির খুন করবে আর এভাবে বেঁচে যাবে! কেউ তাকে কিছু বলছে না। আমি শুনেছি, এই খুনের আসামি দিনের বেলায় গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবাই তাকে দেখেছে। কিন্তু পুলিশ তাকে ধরছে না।’ সাজেদা আরও বলেন, ‘এখন আমার সংসার কে চালাবে? কে আমার তিন সন্তানকে দেখবে? আমার তো মাথার ছাদটাই নেই। গরিব মানুষ বলে কি আমাদের প্রাণের কোনো দাম নেই?’

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান অবশ্য প্রথম আলোকে বলেছেন, আসলামকে তারা যেকোনো মুহূর্তে ধরে ফেলবেন। মামলা হয়েছে, তাই পালিয়েছেন।

পূর্ববর্তি সংবাদলকডাউন শিথিল হতেই মদের দোকানে ভিড়, মুম্বাইয়ে জারি হলো ১৪৪ ধারা
পরবর্তি সংবাদদ্বাদশ তারাবি: দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচার উপায়