ইসলাম টাইমস ডেস্ক: পঞ্চগড় জেলা কারাগারে পঞ্চাশোর্ধ এক বন্দির নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ এসেছে। এই কারাগারে আর কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি। পজিটিভ শনাক্ত ওই বন্দিও গত দেড়মাসে কারাগারের বাইরে যাননি। এ কারণে তার টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন কারাগার সংশ্লিষ্টরা। ‘ফলস রিপোর্ট’ এসেছে কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য পুনরায় ওই বন্দির নমুনা পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
তবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, পজিটিভ শনাক্ত ওই বন্দিকে যে কারারক্ষী মেডিক্যালে নিয়ে এসেছেন, তিনি ও তার দুই সন্তান ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। নমুনা পরীক্ষায় তাদের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বন্দিকে করোনা পজিটিভ বললেও পঞ্চগড় কারাগারের জেলার শফিক আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনা পজিটিভ শনাক্ত ওই বন্দি অ্যাজমার রোগী। রংপুরে উনার নমুনা পরীক্ষা করানো পর ৫ মে তা পজিটিভ এসেছে। আমরা পুনরায় টেস্টের জন্য দিয়েছি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পঞ্চগড় কারাগারের একজন কর্মকর্তা জানান, করোনা পজিটিভ শনাক্ত ওই বন্দির বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। ঠাকুরগাঁও কারাগার থেকে তিনি পঞ্চগড় কারাগারে এসেছেন গত ৪ মার্চ। ১৮ মার্চ আদালতে তার হাজিরা ছিল। এরপর এপ্রিল ও মে মাসে আর কোনও মুভমেন্ট ছিল না তার। আগে থেকে অ্যাজমার সমস্যা থাকা এবং শ্বাসকষ্ট হওয়ায় তার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করানো হয় এবং রেজাল্ট পজিটিভ আসে।
এ ঘটনায় পঞ্চগড় কারাগারের একটি ওয়ার্ড লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া, চার কারারক্ষী, জেলা পুলিশের দুই জন সদস্য, পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের একজন নার্স, একজন ওয়ার্ডবয়সহ ১০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) কারাগারের ৫৫ জনের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
গত ৫ মে ওই বন্দি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও কারা কর্তৃপক্ষ ও সিভিল সার্জনের অফিস বিষয়টি গোপন রাখে। তবে ৭ মে সন্ধ্যায় খবরটি জানাজানি হলে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন মো. ফজলুর রহমান ওই বন্দির আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন।
পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. সিরাজউদ্দৌলা পলিন জানান, ১ মে রাতে ওই কয়েদিকে মূলত অ্যাজমা রোগী হিসেবেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে পিপিই পরেই চিকিৎসা দিয়েছিলেন। পরে তিনি কিছুক্ষণ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই রাতে মেডিসিন ওয়ার্ডটি প্রায় ফাঁকা ছিল। রংপুর মেডিক্যালে পাঠানোর পর তার করোনা পজিটিভ জানতে পেরে জরুরি বিভাগ ও মেডিসিন ওয়ার্ডটি জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্তব্যরত একজন নার্স, একজন ওয়ার্ড বয়, অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ অন্য একজনকে হোম কোয়ারেন্টিনের রাখা হয়েছে। ওই বন্দিকে কারাগার থেকে হাসপাতালে আনা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংস্পর্শে আসা প্রত্যেকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে।
কারা অধিদফতরের সর্বশেষ (৮ মে) তথ্য অনুযায়ী, দেশের কারাগারে কর্মরতদের মধ্যে বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ জন। এদের মধ্যে দুই জন বন্দি, একজন চিকিৎসক ও বাকিরা কারারক্ষী।
অধিদফতরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন জানান, করোনাভাইরাস পজিটিভ আসা দুজন বন্দির একজন কেন্দ্রীয় কারাগারের ও অপর জন পঞ্চগড় কারাগারের। ঢাকার বন্দিকে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল ও পঞ্চগড়ের বন্দিকে রংপুর মেডিক্যালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত ২২ জন কারারক্ষীর মধ্যে দুজন জিনজিরা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে, ১০ জন মিরপুর ম্যাটার্নিটিতে, ৯ জন মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ও একজন রংপুর মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আক্রান্ত চিকিৎসক ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে কারাগারে সংযুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছন মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকের করোনা পজিটিভ হওয়ার পর বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ২২ জন কারারক্ষীর মধ্যে ২১ জন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের স্টাফ। তারা ঢাকা মেডিক্যাল, বিএসএমএমইউ, বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন মেডিক্যালে দায়িত্ব পালনের সময় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বাকি একজন রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের স্টাফ।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু নূর মোহাম্মদ রেজা জানান, গত ৫ মে আমাদের একজন কারারক্ষীর করোনাভাইরাস পজিটিভ এসেছে। বাইরে থেকে তিনি ইনফেকটেড হয়েছেন বলে ধারণা করছি। তার সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের বাইরে ৯৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা অধিদফতর। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৬ জন কারারক্ষী ও ১৪ জন বন্দি, সিলেট বিভাগে একজন কারারক্ষী ও একজন হিসাব রক্ষক, রংপুরে ৮ জন (তাদের পরিচয় জানানো হয়নি), বরিশালে একজন কারারক্ষী এবং চট্টগ্রামে ১০ জন কারারক্ষী ও ২২ জন বন্দি রয়েছেন।
















