ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভারতে করোনা সংক্রমণের পর থেকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা এবং ইসলামফোবিয়া। করোনাকে কেন্দ্র করে অনাহক দেশটিতে নানাভাবে মুসলমারদেরকে আক্রমণ করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মুসলমানদের ধর্মীয় উদারতায় করোনা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগে করোনা চিকিৎসায় সুস্থ হওয়া মুসলিমদের রক্তের প্লাজমা ব্যাবহার করা হয়েছে। এবার কলকাতার একটি মসজিদ দিয়েছে করোনা আক্রান্তদের কোয়ারান্টাইনের জন্য জায়গা।
কলকাতায় ক্রমশই বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্তু সন্দেহজনক আক্রান্তদের আলাদা করে রাখার জন্য শহরে সেই তুলনায় নেই পর্যাপ্ত পরিমান কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। কারণ জায়গার অভাব।
একাধিক জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দারাই এই সেন্টার তৈরিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন অবস্থায় এগিয়ে এল কলকাতার গার্ডেন রিচ এলাকার জামিয়া মসজিদ গাউসিয়া, যা স্থানীয়দের কাছে বেঙ্গলি বাজার মসজিদ নামেই পরিচিত।
কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরির জন্য প্রায় ৬ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে তৈরি ওই মসজিদের চতুর্থতলা (থার্ড ফ্লোর) ছেড়ে দেওয়ার কথা জানাল মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহম্মদ মুসলিম রাজভি। ইতিমধ্যে কলকাতা পৌরসভার কাছে প্রস্তাবও পাঠিয়েছে তারা।
মাওলানা মোহম্মদ মুসলিম রাজভি জানান, শহরে করোনার সংখ্যা বাড়ার ফলে সরকার কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরির জন্য জায়গার সন্ধান করছে। তখন আমরা ভাবলাম যে আমাদের মসজিদের চতুর্থতলাটি কেন দেওয়া হবে না। এরপরই মসজিদে ৬ হাজার বর্গফুটের পুরো চতুর্থতলাই খালি করে দেওয়া হয়েছে। আরও বেশি জায়গার প্রয়োজন হলে সেই ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে মসজিদের অন্য দুইটি তলা এবং স্থানীয় স্কুলগুলিও খালি করে দেওয়া হবে। কলকাতা পুরসভা এই জায়গাগুলোকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসাবে ব্যবহার করতে পারে। আমরা আমাদের সাধ্য মতো প্রচেষ্টা চালিয়েছি।
তিনি আরও জানান, এখানে এই ধরনের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি করতে গেলে বাধা আসতে পারে-এই আশঙ্কা থেকেই আমি বেঙ্গলি বাজার, আয়রন গেট রোড এবং বিচলি ঘাট রোড’র বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেছিলাম। এই অঞ্চলের বাসিন্দারাই মূলত এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসে। যদিও করোনা ও লকডাউনের আবহে আপাতত মসজিদে জমায়েত নিষিদ্ধ আছে। প্রত্যেকেই এখন বাড়ি থেকেই নামাজ আদায় করছেন। এরপরই স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে মসজিদ কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে আমাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
















