ইসলাম টাইমস ডেস্ক: করোনাভাইরাস আক্রান্ত এক অন্তঃস্বত্ত্বা নারী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর মা ও নবজাতককে বাসায় পাঠানো হয়েছে। সাতদিন পর নবজাতকের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হবে। নবজাতক সুস্থ থাকলেও মায়ের স্বাস্থ্যের ধীরে ধীরে অবনতি হচ্ছে। নবজাতকও ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি এখনও। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে সতর্কতার সঙ্গে মা নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন। তবে নবজাতকের মুখে বা গায়ে মায়ের চুম্বন দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বংশাল থানা পুলিশ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত অন্তঃস্বত্বা নারী কামরুন্নাহারের স্বামী মো. জাহিদুর রহমানের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। কারণ কামরুন্নাহারকে গত ৬ মে আমরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তাকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও গাইনী বিভাগে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমরা নিয়েছিলাম। সেখানে চিকিৎসা শেষে আমরা তাকে বাসায় রেখেছিলাম। নিয়মিত খোঁজখবর রেখেছি আমরা। ১১ মে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে জাহিদুর রহমান আমাকে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী কামরুন্নাহার প্রসব ব্যথা ওঠার কথা। তিনি আরও জানান, স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করেও কোনও অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করতে পারেননি। এরপর আমরা তাকে সুরক্ষা দিয়ে আমাদের গাড়িতে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কামরুন্নাহার পুত্র সন্তান জন্ম দেন। নবজাতক সুস্থ রয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বংশালে কসাইটুলীর বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে।
মা করোনা আক্রান্ত হলেও নবজাতককে মা থেকে আলাদা না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) এর অন্যতম উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতকে মায়ের সঙ্গেই রাখতে হবে। মায়ের উষ্ণতা ও স্পর্শ নবজাতকের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই আলাদা করার দরকার নেই। তবে মা আলিঙ্গন ও বুকের দুধ দেওয়ার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। করোনা আক্রান্ত মা তার নবজাতককে মুখে, চোখে চুমু খাবেন না, বুকের দুধ দেওয়ার সময় মা আগে মাস্ক পরে নেবেন এবং নবজাতকের মুখে পাতলা কাপড় দিয়ে নেবেন। সতর্ক হয়ে হাঁচি কাশি দেবেন।’
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গবেষণা করে দেখেছে, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত মায়েদের থেকে সন্তানদের আলাদা করে রাখলে যতটা লাভ তার চেয়ে ক্ষতি বেশি। তাই নবজাতক তার মায়ের সঙ্গেই রাখার পরামর্শ দিয়েছেেএসব সংস্থার বিশেষজ্ঞরা।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, ‘করোনাভাইরাস আতঙ্কে মায়ের দুধ খাওয়ানো বা মায়ের ত্বকের স্পর্শ (ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার) থেকে শিশুকে বঞ্চিত করা যাবে না। এমনকি মা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলেও কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে শিশুর সংস্পর্শে আসতে পারবেন।

শিশুকে স্পর্শ করার আগে এবং শিশুকে দুধ খাওয়ানোর আগে ও পরে ভালো করে সাবান ও পানি দিয়ে (অন্তত বিশ সেকেন্ড), অথবা অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ডরাব দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে তাকে।
সবসময় মাস্ক পরতে হবে বিশেষত, শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর সময়। শ্বাস- প্রশ্বাস বিষয়ক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
আর পরিবারের অন্য সদস্যদের যেসব জায়গা আক্রান্ত মায়ের সংস্পর্শে এসেছে সেসব স্থান নিয়মিতভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে।’
করোনাভাইরাস আক্রান্ত সদ্য মা হওয়া কামরুন্নাহারের ভাই মাইনউদ্দিন মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেছেন, চিকিৎসকরা আমাদের নিয়মকানুন বলে দিয়েছেন। আমরা সেগুলো অনুসরণ করছি। মা আগের চেয়ে ভালো আছে। জ্বর নেই বর্তমানে। হাসপাতালে অনেক করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী থাকায় আমরা চিকিৎসককে অনুরোধ করে তাদের বাসায় নিয়ে এসেছি। চিকিৎসক আমাদের সোমবার সন্ধ্যায় ছাড়পত্র দিয়েছেন।’
কামরুন্নাহারের স্বামী জাহিদুর রহমান একটি কাগজেরর দোকানে চাকরি করেন। তাদের ছয় বছর বয়সী আরেকটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর।
নবজাতকের জন্মের পর বংশলা থানা পুলিশ পরিবারটিকে প্রতিদিন খোঁজখবর রাখছে। প্রয়োজনীয় বাজার সদাই করে দিয়েছে
















