মুহাম্মদ আব্দুস সালাম ।।
রমযানুল কারিম আল্লাহ তাআলার এক অনন্য উপহার। এ মাস কে তিনি মহিমান্বিত করেছেন সিয়াম, কেয়াম, কোরআন ও লাইলাতুল কদর দ্বারা। রমযান মানে তার রহমত ও বরকতের ফল্গুধারা, মাগফেরাত ও নাজাতের স্বর্গীয় বার্তা। রমযান মানে তাকওয়া ও ত্যাগের অনুশীলন এবং ইবাদাত ও নেক আমলের ভরা বসন্ত। এই বরকত ও এই বসন্তে মানুষ যেন সমৃদ্ধ ও সুশোভিত হয় সেই লক্ষ্যে প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের তাৎপর্য, বিধান, আদাব ও ফযিলত সম্পর্কিত হাদিস ও সুন্নাহর এক অনুপম উপঢৌকন এই উম্মাহকে দিয়ে গিয়েছেন। এখানে তারই ছোট্ট একটি অংশ তুলে ধরা হল।
রোযা ইসলামের অন্যতম রোকন ও ফরয
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যেন তোমরা মুত্তাকী হও। সূরা বাকারা, আয়াত,১৮৩
১ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি, এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। সালাত কায়েম করা। যাকাত দেওয়া। হজ করা।রমযানের রোযা রাখা। সহিহ বুখারি, হাদিস ৮, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬
২ হযরত তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, এক আরব বেদুইন এলোমেলো চুলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে বলুন, আল্লাহ আমার উপর সালাত বিষয়ক কি ফরয করেছেন? তিনি বললেন, পাঁচ সালাত। তবে তুমি যদি কিছু নফল আদায় কর -তা ভিন্ন কথা-। সে বলল, বলুন, আল্লাহ আমার উপর রোযা বিষয়ক কি ফরয করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রমযান মাসের রোযা। তবে তুমি যদি কিছু নফল রোযা রাখ -তা ভিন্ন কথা-। এরপর সে বলল, বলুন, আল্লাহ আমার উপর কি পরিমাণ যাকাত ফরয করেছেন? বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের বিধান জানিয়ে দিলেন। তারপর আরব বেদুইন টি বলল, ওই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আল্লাহ আমার উপর যা ফরয করেছেন আমি তাতে কিছু বাড়াবো না এবং কমাবোও না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করল কিংবা বলেছেন সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করল। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৮৯১, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১
রোযার বিধান ও পদ্ধতিতে ধারাবাহিকতা
৩ হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, কুরাইশগণ জাহেলি যুগে আশুরার দিনে রোযা রাখত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও পরে এই রোযা পালনের নির্দেশ দেন। অবশেষে রমযানের রোযা ফরয হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যার ইচ্ছা সে আশুরার রোযা রাখবে আর যার ইচ্ছা সে রাখবে না। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৮৮৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১২৫
৪ হযরত বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিগণের কেউ রোযা রেখে ইফতারের সময় ইফতার না করে যদি ঘুমিয়ে পড়তেন তাহলে রাতে ও পরের দিন কিছুই খেতে পারতেন না। কায়েস বিন সিরমা আনসারি রা. রোযাদার ছিলেন। ইফতারের সময় হলে স্ত্রীর নিকট এসে বললেন, তোমার কাছে খাবার আছে কি? স্ত্রী বললেন, না ; তবে আমি যাচ্ছি, দেখি আপনার জন্য কিছু তালাশ করে আনি। তিনি দিনে কাজ করতেন তাই ঘুমে তার দুচোখ বুজে গেল। অতপর তার স্ত্রী এসে তাকে দেখে বললেন, হায়, তুমি বঞ্চিত হয়ে গেলে ! পরের দিন দুপুর হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। ঘটনাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উল্লেখ করা হলে কোরআনের এই আয়াত অবতীর্ণ হল- সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী-মিলন হালাল করা হয়েছে। -সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৭- এতে সাহাবিগণ খুবই আনন্দিত হলেন। তারপর অবতীর্ণ হল, তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না রাতের কাল রেখা থেকে -ভোরের- সাদা রেখা তোমাদের নিকট স্পষ্ট ভাবে প্রতিভাত হয়। সূরা বাকারা, আয়াত, ১৮৭ সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯১৫
চাঁদ দেখে রোযা শুরু ও শেষ করা
৫ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -অথবা বললেন আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখবে এবং চাঁদ দেখে ইফতার -রোযা শেষ- করবে। যদি আকাশ মেঘঢাকা থাকে তাহলে শাবানের গণনা ত্রিশে পূর্ণ করবে। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯০৯, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৮০
৬ হযরত কুরাইব রহ. থেকে বর্ণিত যে, উম্মুল ফযল বিনতে হারেস তাকে সিরিয়ায় মুয়াবিয়ার নিকট পাঠালেন। কুরাইব বলেন, আমি সিরিয়ায় পৌঁছে তার প্রয়োজনীয় কাজটি সমাধা করে নিলাম। আমার সিরিয়ায় থাকা অবস্থায় রমযানের চাঁদ দেখা গেল। জুমার দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখলাম। এরপর রমযানের শেষ ভাগে মদিনায় ফিরলাম। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস চাঁদ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন ও আলোচনা করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন দিন চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম, আমরা তো জুমার দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছি। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নিজে দেখেছ কি? আমি বললাম, আমি দেখেছি এবং লোকেরাও দেখেছে। তারা রোযা রেখেছে এবং মুয়াবিয়াও রোযা রেখেছেন। তিনি বললেন, আমরা কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছি। আমরা চাঁদ দেখা পর্যন্ত রোযা রাখবো। অথবা ত্রিশ দিন পূর্ণ করবো। আমি বললাম, মুয়াবিয়ার চাঁদ দেখা এবং রোযা রাখা আপনার জন্য কি যথেষ্ট নয়? তিনি বললেন, না যথেষ্ট নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এরূপ করবার জন্য নির্দেশ করেছেন। সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৮৭, সুনানে তিরমিযি, হাদিস ৬৯৩
এক দুদিন পূর্ব থেকে রোযা আরম্ভ না করা
৭ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কেউ রমযানের এক কিংবা দুই দিন আগ থেকে রোযা রাখা শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এই সময়ে রোযা রেখে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে সেদিন রোযা রাখতে পারবে। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯১৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৮২
সফরে রোযার বিধান
৮ হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, হামযা বিন আমর আসলামি অধিক রোযা পালনে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আমি সফরেও কি রোযা রাখতে পারি? তিনি বললেন, তুমি ইচ্ছে করলে রাখতে পার আবার ইচ্ছে করলে নাও রাখতে পার। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৪৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১২১
৯ হযরত আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফরে যেতাম। সফরে রোযাদার অরোযাদারকে এবং অরোযাদার রোযাদারকে দোষারোপ করত না। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৪৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১১৮
রমযানের ফযিলত ও আদাব
১০ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রমযান মাস এলে জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলবন্দি করা হয়। সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৯৯, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৭৯
১১ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রমযান আরম্ভ হলে রহমতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়। সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৭৯
১২ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন রমযানের প্রথম রাত আগমন করে তখন ……….। এরপর এক ঘোষক ঘোষণা করেন, হে কল্যাণ-প্রার্থী অগ্রসর হও। হে অকল্যাণের পথিক থেমে যাও।আর আল্লাহ অসংখ্য লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। সহিহ ইবনে খুযাইমা, হাদিস ১৮৮৪, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৩৯৪৫
১৩ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রমযানের রোযা রাখবে তার পূর্বের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৮
১৪ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, রোযা ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি আমলই তার নিজের জন্য। কিন্তু রোযা আমার জন্য। তাই আমিই তার প্রতিদান দেব। রোযা ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন রোযার দিনে অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে লড়াই-ঝগড়া করে তাহলে সে যেন বলে, আমি রোযাদার। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তার শপথ, অবশ্যই রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের গন্ধের চেয়েও বেশি সুগন্ধময়। রোযাদারের জন্য রয়েছে দুটি খুশি যা তাকে খুশি করে। যখন সে ইফতার করে সে খুশি হয় এবং যখন রবের সাথে সাক্ষাত করবে তখন রোযার বিনিময়ে আনন্দিত হবে। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯০৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৫১
১৫ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রোযা ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মতো কাজ করবে না। যদি কেউ তার সাথে লড়াই-ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয় তাহলে সে যেন দুইবার বলে আমি রোযাদার। ওই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের গন্ধের চেয়েও উৎকৃষ্ট। -আল্লাহ বলেন- ‘সে আমার জন্য পানাহার ও কামাচার পরিত্যাগ করে। রোযা আমারই জন্য। তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব।’ আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশগুণ। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৮৯৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৫১
১৬ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, পাঁচ -ওয়াক্ত- সালাত, এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং এক রমযান থেকে অপর রমযান মধ্যবর্তী সময়ের -গুনাহের -জন্য কাফফারা হয়ে যায়। যদি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে। সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৩
১৭ হযরত সাহল রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাতে রাইয়ান নামক একটি দরজা আছে। এই দরজা দিয়ে রোযাদাররা প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া অন্য কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। ঘোষণা হবে, রোযাদাররা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা ছাড়া আর কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। যেন এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৮৯৬, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৫২
১৮ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারি মহিলাকে বললেন -বর্ণনাকারী বলেন, ইবনে আব্বাস তার নাম উল্লেখ করেছিলেন ; কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছি- আমাদের সাথে হজ করতে তোমার বাধা কিসের? মহিলাটি বলল, পানি বহনের জন্য আমাদের দুটি উট রয়েছে। আমার ছেলে ও তার পিতা একটিতে চড়ে হজে গিয়েছেন। আর অপরটি আমাদের পানি বহনের জন্য রেখে গিয়েছেন। তিনি বললেন, রমযান মাস এলে তুমি উমরা কর। কারণ এ মাসের উমরা একটি হজের সমান। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৭৮২, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১২৫৬
১৯ হযরত আমর বিন মুর্রাহ আলজুহানি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, যদি আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। আর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, যাকাত দেই, রমযানে রোযা রাখি ও কেয়াম করি তাহলে আপনি আমাকে কাদের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন? তিনি বললেন, সিদ্দীক ও শহীদদের অন্তর্ভুক্ত। সহিহ ইবনে খুযাইমা, হাদিস ২২১২, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৩৪৩৮
২০ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল করা বর্জন করেনি তার এই পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯০৩
২১ হযরত আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা রাখবে আল্লাহ তার মুখমন্ডল কে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে নেবেন। সহিহ বুখারি, হাদিস ২৮৪০, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৫৩
২২ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ওই ব্যক্তির নাক ধুলোমলিন হোক, যার সামনে আমার নাম উল্লেখ করা হলো অথচ সে আমার উপর দরূদ পড়ল না। ওই ব্যক্তির নাক ধুলোমলিন হোক, যার জীবনে রমযান মাস আসল ; কিন্তু তাকে ক্ষমা-প্রাপ্ত না করেই তা অতিবাহিত হয়ে গেল। আর সে ব্যক্তির নাকও ধুলোমলিন হোক যে পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল ; কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না। সুনানে তিরমিযি, হাদিস ৩৫৪৫, ইমাম তিরমিযি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান গরীব।
২৩ হযরত হুজাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন ওমর রা. বললেন, ফেতনা সম্পর্কিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসটি কার জানা আছে? হুজাইফা বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, পরিবার, ধন-সম্পদ ও প্রতিবেশী মানুষের জন্য ফেতনা। আর নামায, রোযা ও সদকা তার কাফফারা হয়ে যায়। ওমর রা. বললেন, এই ফেতনা সম্পর্কে আমি জিজ্ঞেস করছি না। আমি তো জিজ্ঞেস করছি……. সহিহ বুখারি, হাদিস ১৮৯৫, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৪
রমযানে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা ও দান করা
২৪ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধন-সম্পদ ব্যয় করার ক্ষেত্রে সকলের চেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। রমযানে জিবরাঈল যখন তার সাথে সাক্ষাত করতেন তখন তিনি আরও অধিক দান করতেন। রমযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরাতেই জিবরাঈল তার সাথে একবার সাক্ষাৎ করতেন আর একে অপরকে কোরআন শোনাতেন। জিবরাইল যখন তার সাথে সাক্ষাত করতেন তখন তিনি রহমত সহ প্রেরিত বায়ুর চেয়েও অধিক ধন সম্পদ দান করতেন। সহিহ বুখারি, হাদিস ৬, সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩০৮
রোযার কাফফারা
২৫ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমার কি হয়েছে? সে বলল, আমি রোযা-অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আযাদ করার জন্য কোন গোলাম পাবে ? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কি একাধারে দুই মাস রোযা রাখতে পারবে? সে বলল, না। তারপর তিনি বললেন, ষাট জন মিসকীন কে খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেমে গেলেন। আমরাও এই অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক আরাক খেজুর পেশ করা হল। অারাক মানে ঝুড়ি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোথায় প্রশ্নকারী? সে বলল, আমি। তিনি বললেন, এগুলো নিয়ে সদকা করে দাও। তখন লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল আমার চেয়েও বেশি অভাবগ্রস্থকে সদকা করব ? আল্লাহর শপথ, মদিনার উভয় প্রান্তের মাঝে আমার পরিবারের চেয়ে বেশি অভাবগ্রস্থ কেউ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে উঠলেন এবং তার দাঁত দেখা গেল। এরপর তিনি বললেন, এগুলো তোমার পরিবারকে খাওয়াও। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৩৬, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১১১
রোযার কাজা
২৬ হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রোযার কাজা জিম্মায় রেখে যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় তাহলে তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে তা আদায় করবে। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৫২, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৪৭
সেহরি ও ইফতার
২৭ হযরত আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সেহরি খাও। কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯২৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৯৫
২৮ হযরত আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাদের ও কিতাবীদের রোযার মধ্যে পার্থক্য হল সেহরি খাওয়া। সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৯৬
২৯ হযরত যায়েদ বিন সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সেহরি করেছি। অতপর তিনি নামাযের জন্য দাঁড়ালেন। বর্ণনাকারী জিজ্ঞেস করলেন, সেহরি ও নামাযের মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন পঞ্চাশ আয়াত -তেলাওয়াতের সময়- পরিমাণ। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯২১, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৯৭
৩০ হযরত সাহল বিন সাদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, লোকেরা যতদিন -সময় হওয়া মাত্র- দ্রুত ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৯৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৯৮
৩১ হযরত ইবনে আবি আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তিনি রোযা রাখলেন। এমনকি সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলো। তখন এক ব্যক্তিকে বললেন, বাহন থেকে নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। লোকটি বলল, আপনি যদি -পূর্ণ সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত- অপেক্ষা করতেন। তিনি পুনরায় বললেন, নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। যখন তুমি এদিক -পূর্ব দিক– থেকে রাতের আগমন দেখতে পাবে তখন রোযাদার ইফতার করবে। সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৫৮, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১০১
তারাবিহ
৩২ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় কেয়াম করবে -তারাবিহ পড়বে- তার পূর্ববর্তী গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহিহ বুখারি, হাদিস ২০০৮, সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৫৯
৩৩ হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গভীর রাতে বের হয়ে মসজিদে সালাত আদায় করেন। কিছু সংখ্যক পুরুষও তার পেছনে সালাত আদায় করে। সকালে লোকেরা এ সম্পর্কে আলোচনা করে। ফলে -দ্বিতীয় রাতে- অধিক সংখ্যায় লোক সমবেত হয়। তিনি সালাত আদায় করেন। লোকেরাও তার সাথে সালাত আদায় করে। -পরের দিন- সকালে তারা এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করলে তৃতীয় রাতে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেন। লোকেরাও তার সাথে সালাত আদায় করে। চতুর্থ রাতে মসজিদে মুসল্লির সংকুলান হল না। কিন্তু তিনি রাতে বের না হয় ফযরের সালাতে বেরিয়ে আসলেন এবং সালাত শেষে লোকদের দিকে ফিরে তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়ার পর বললেন, শোনো, তোমাদের অবস্থান আমার অজানা ছিল না ; কিন্তু আমি এই সালাত তোমাদের উপর ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। যা আদায় করতে তোমরা অক্ষম হয়ে পড়বে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল হয়ে গেল। আর ব্যাপারটি এভাবেই থেকে গেল। সহিহ বুখারি, হাদিস ২০১২
রমযানের শেষ দশক, লাইলাতুল কদর ও এতেকাফ
৩৪ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় রোযা রাখবে তার পূর্ববর্তী গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কদরের রাতে ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় কেয়াম করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহিহ বুখারি, হাদিস ২০১৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস৭৬০
৩৫ হযরত আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রমযানের মধ্যম দশকে এতেকাফ করি। তিনি বিশ তারিখ সকালে বের হয়ে আমাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে। পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে তা সন্ধান করো। আমি দেখতে পেয়েছি যে, আমি কাদাপানিতে সেজদা করছি।
অতএব যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এতেকাফ করেছে সে যেন ফিরে আসে- মসজিদ থেকে বের না হয়- । আমরা সকলে ফিরে আসলাম -থেকে গেলাম-। আমরা আকাশে হালকা মেঘ-খন্ডও দেখিনি। পরে মেঘ দেখা গেল এবং এমন জোরে বৃষ্টি হল যে, খেজুরের শাখায় তৈরি মসজিদের ছাদ দিয়ে পানি পড়তে লাগল। নামায শুরু করা হলো। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কাদাপানিতে সেজদা করতে দেখলাম এবং পরে তার কপালে কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। সহিহ বুখারি, হাদিস ২০১৮, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬৭
৩৬ হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন এবং বলতেন তোমরা রমযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। সহিহ বুখারি, হাদিস ২০২০
৩৭ হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। তার ইন্তেকাল পর্যন্ত এই নিয়মই ছিল। তারপর তার সহধর্মিনীগন এতেকাফ করতেন। সহিহ বুখারি, হাদিস ২০২৬, সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৭২
৩৮ হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রমযানের শেষ দশক আসতো তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমর বেঁধে নিতেন। -বেশি বেশি এবাদতের প্রস্তুতি নিতেন -এবং রাতে জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। সহিহ বুখারি, হাদিস ২০২৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস১১৭৪
রোযাদারকে ইফতার করানোর সাওয়াব
৩৯ হযরত যায়েদ বিন খালেদ জুহানি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ যদি কোন রোযাদারকে ইফতার করায় তার জন্য রোযাদারের অনুরূপ সাওয়াব হবে। কিন্তু রোযাদারের সাওয়াবেও কিছু হ্রাস করা হবে না। সুনানে তিরমিযি, হাদিস ৮০৭, ইমাম তিরমিযি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান সহিহ।
শাওয়ালের ছয় রোযা
৪০ হযরত আবু আইয়ুব আনসারি রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি রমযানে রোযা রাখল। অতপর শাওয়াল মাসের ছয় দিন কে তার অনুগামী করল তাহলে সে যেন সারা বছর রোযা রাখল। সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬৪
















