মক্কা বিজয়: হিন্দু লেখকের কলমে

ড. রামেশ কুমার ভানকানি ।। 

চৌদ্দশ বছর আগে বিশ রমযান পৃথিবীর ইতিহাসে একটি ঘটনা ঘটেছে, যার নজির পৃথিবীর ইতিহাসে পাওয়া যায় না।  এদিন মক্কা মুকাররমা, যেখান থেকে মুসলমানদেরকে অসহায় অবস্থায় একদিন দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল, সেখানে ৮ বছর পর কী প্রভাব প্রতিপত্তি নিয়েই না মুসলমানগণ প্রবেশ করেছিলেন।

মক্কার তেরো বছরে কাফেররা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কতভাবেই না শারীরিক মানসিক নির্যাতন করেছিল। তায়েফে  নির্যাতন, মক্কায় তিনবছর বন্দী জীবন, হত্যার ষড়যন্ত্র, সবশেষে অশ্রুভেজা চোখে জন্মভূমি ত্যাগ। মক্কা বিজয়ের দিনটা ছিল ওসব কিছুর প্রতিশোধের মোক্ষম সময়।  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইচ্ছে করলেই পারতেন কাফেরদের  রক্তে মক্কা নগরী ভাসিয়ে দিতে।  তার জন্য সুযোগ ছিল, মক্কার তেরো বছরের নিপীড়ন ও মদিনায় আসার পরও মক্কার কাফেরদের যেসব ষড়যন্ত্র অব্যাহত ছিল, এর পূর্ণ প্রতিশোধ নিতে। কিন্তু না, তিনি তা করেননি৷ তিনি মানুষকে ক্ষমা করার এমন এক  দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যা আজও পৃথিবীকে পথ দেখায়। এই বরকতময় রমযান মাসে আমাদের উচিত মক্কা বিজয়ে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষাকে নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করা।

মক্কা বিজয়ের প্রথম শিক্ষা, জীবনে মানুষকে অনেক বিপদ আপদ এর সম্মুখীন হতে হয় । কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা করে কেউ যদি সঠিক নিয়মে চেষ্টা প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে তাহলে তার জীবনে সফলতা আসবেই।

মক্কা বিজয় থেকে দ্বিতীয় যে শিক্ষা আমরা পাই তাহল যদি আপনি সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হন তাহলে মানুষ যতই বিরোধিতা করুক, আপনার চলার পথে যতই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করুক আল্লাহর মদদ আপনার শামিলে হাল হবেই।

মক্কা বিজয়ের তৃতীয় শিক্ষা উত্তম আখলাক ও  ক্ষমার শিক্ষা। ইতিহাস বলে, দুনিয়ায় কত কত দেশবিজেতা অতিবাহিত হয়েছেন যারা বিজয় লাভ করে রক্তের নদী প্রবাহিত করেছিলেন। শত্রুর ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কাবাসীকে ক্ষমা করে গোটা বিশ্বকে এই কথা শিখালেন যে, যদি কেউ নিজের আমিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহর ওয়াস্তে দুশমনদেরকে ক্ষমা করে দেয় তাহলে প্রকৃতপক্ষে সে চিরদিনের মতোই শত্রুতার দরজা বন্ধ করে দেয়।

সূত্র : উর্দূ দৈনিক জং 

পূর্ববর্তি সংবাদকরোনায় মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে
পরবর্তি সংবাদরংপুরে করোনা থেকে সুস্থ হলেন সাত পুলিশসহ আরও ১৫ জন