ইসলাম টাইমস ডেস্ক: জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর পর জানা গেল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার ছেলে আনন্দ জামানকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া গণমাধ্যমকে জানান, ড. আনিসুজ্জামানের ছেলে আনন্দ জামান তাকে জানিয়েছেন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে একবার তার বাবার শরীর থেকে করোনা সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে মৃত্যুর পর আরও একবার নমুনা সংগ্রহ করেন চিকিৎসকরা। পরীক্ষার পর রাত সাড়ে ৯টায় তাকে জানানো হয়েছে ড. আনিসুজ্জামান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করানোর জন্য তাকে (বিপ্লব বড়ুয়া) ফোন দিয়েছিলেন আনন্দ।
গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে জানার জন্য চেষ্টা করেও আনন্দ জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আর বেসামরিক বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।
ড. আনিসুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসে সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। মহাখালীর ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে (সাবেক আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল) ২৭ এপ্রিল থেকে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৯ মে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। ইউনিভার্সেল হাসপাতাল থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল নেওয়ার সময় ওই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান হার্ট, কিডনিসহ বেশ কিছু রোগে ভুগছিলেন। পরে তার স্মৃতিভ্রষ্টতা দেখা দেয়।
আরো পড়ুন: মারা গেছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
বৃহস্পতিবার দুপুরে আনন্দ জামান ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে জানান, সকাল থেকেই তার পিতা ড. আনিসুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। দুপুরে তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করতে থাকেন। সিএমএইচের চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তবে ওই স্ট্যাটাসে ড. আনিসুজ্জামানের করোনা পরীক্ষার কথা জানাননি তিনি।
এছাড়াও এ ঘটনার পর ড. আনিসুজ্জামানের পরিবার সদস্যদের নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি। তিনি যেসব হাসপাতালে ছিলেন সেগুলোর চিকিৎসক, নার্সসহ সেবাসংশ্লিষ্টরাও এখন কোয়ারেন্টিনে যাবেন কিনা বা তাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: বিটি।
















