তারিক মুজিব ।।
প্রতিটি মানুষকে আল্লাহ তাআলা দ্বীন ইসলাম পালনের স্বাভাবিক বুঝ দিয়েই সৃষ্টি করেন। কিন্তু মানুষ পরিবেশ, প্রতিবেশের প্রভাবে এবং নানা পারিপার্শিকতায় দ্বীন থেকে গাফেল হয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়। হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম এরশাদ করেছেন, كل مولود يولد علي الاسلام فابواه يهودانه او ينصرانه او يمجسانه অর্থাৎ, প্রতিটি মানব শিশুকে মুসলমান বানিয়েই দুনিয়াতে পাঠানো হয়। অতপর পরিবেশের কারণে সে শিশুটি তার পিতা মাতার ধর্মমত গ্রহণ করে।
মানুষের দ্বীন পালনের এই বুঝকে কুরআনে ফিতরাত বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- فطرة الله التي فطر الناس عليها অর্থাৎ- সকল মানুষকে আল্লাহ ফিতরাতের ওপর সৃষ্টি করেন। অতপর নানা কারণে মানুষ দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে সরে গেলেও তার মাঝে দ্বীন কবুলের যোগ্যতা বাকী থাকে। হিদায়াতের কোনো উপলক্ষ পেলেই সে তা গ্রহণ করে। এ কারণেই যুগে যুগে পথহারা মানুষ ঈমানের পথে, সত্য সুন্দরের পথে ফিরে আসে।
কুরআন ও হাদিসের বাণী চিরন্তন। চিরসত্য। নিউইয়র্কের নাস্তিক্যতাবাদী চেতনার বাংলাদেশি সাংবাদিক তাসেরের ধর্মে প্রত্যার্পনের ঘটনায় এ সত্য নতুনভাবে উপলব্ধ হলো। টাইম টেলিভিশনের ভিডিও সাক্ষাতকারে সাংবাদিক তাসের শুনিয়েছেন তার ধর্মে প্রত্যার্পনের গল্প।
সাংবাদিক তাসের মাহমুদ নিউইয়র্ক প্রবাসী। বয়স তার ছেষট্টি। সম্প্রতি তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। ডাক্তার জানিয়েছেন তিনি ধুমপান না করার কারণে এ যাত্রায় বেঁচে গেছেন।
তবে পাশাপাশি করোনা থেকে বেঁচে যাওয়াটাকে আল্লাহর রহমত হিসেবে আখ্যায়িত করছেন একসময়ের নাস্তিকতায় বিশ্বাসী সাংবাদিক তাসের মাহমুদ। এবং সুস্থ হয়েই তিনি ধর্মে মনোনিবেশ করেন।
আগে নিজেকে বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে বিজ্ঞানবাদী হতে গিয়ে নানা প্ররোচনায় তিনি ধর্ম থেকেই দূরে সরে পড়েন।
নিজের ধর্মে ফেরার গল্প বলতে গিয়ে সাংবাদিক তাসের জানান- আমি যখন করোনা থেকে কিছুটা সুস্থ হলাম তখন আমার চিকিৎসায় নিয়োজিত একজন ফিলিস্তিনি নার্স আমাকে জানালেন- অঅবসাদগ্রস্ত অবস্থায় আমি জোরে জোরে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করছিলাম।
ভিডিও সাক্ষাতকারে সাংবাদিক তাসের মাহমুদ তার ধর্মে ফেরার গল্প শোনাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি নার্সের কাছে নিজের অচেতন অবস্থান কথা জানতে পেরে আমার উপলব্ধি হলো-আমাকে আমার আদিরূপেই ফিরতে হবে। ধর্ম পালনেই আমাদের প্রকৃত মুক্তি।
তাসেরের ভাষ্যমতে তিনি এখন নিয়মিত নামায পড়ছেন এবং অন্যান্য ইবাদত করে যাচ্ছেন।
সাংবাদিক তাসের মাহমুদের গল্পটি একটি ঘটনা মাত্র। আদতে এমন ঘটনা প্রত্যহই ঘটছে। আমাদের সমাজের চারপাশে। বিপথে চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে মানুষ একসময় আত্মার ডাক শুনতে পায়। যেখানে প্রোথিত দ্বীন আল ইসলাম। তবে এ তাওফিক শুধু তাদেরই লাভ হয় মহান রব যাদের ব্যাপারে কল্যাণের ফায়সালা করেন।
















