মাওলানা জাহিদুল আলম ।।
মানুষের নাম খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সন্তান নিয়ে একটি দম্পতির জল্পনাকল্পনার বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে তার নাম। শরীয়তের দৃষ্টিতেও নামকরণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।হযরত আদম আ.কে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম তাঁকে বিভিন্ন জিনিসের নাম শিক্ষা দিয়েছেন।তারপর ফেরেশতাদের সামনে সেগুলো রেখে তাদেরকে সেগুলোর নাম বলার নির্দেশ করেছিলেন।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,(অনুবাদ)”আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন , তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করে বললেন, ‘ এগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও ’। (সুরা বাকারা,৩১)
হাদীস শরীফে সুন্দর নাম রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।কারণ কিয়ামতের দিন মানুষকে তার নাম ধরে ডাকা হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের নামে এবং তোমাদের পিতাদের নামে।অতএব, তোমাদের নামগুলো সুন্দর করে রাখো।(আবু দাউদ,৪৯৪৮)
সন্তানের নামকরণের সময়কাল:
হযরত আয়েশা রা.হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মের সপ্তম দিনে হযরত হাসান রা. ও হুসাইন রা.এর আকীকা করলেন এবং তাদের দুইজনের নাম রাখলেন।(ইবনে হিব্বান) মুসলিম
নামের শ্রেণী বিভাগ: মুসলিম নাম সাধারণত পাঁচ ভাগে বিভক্ত। ১.কুনিয়াত(উপনাম) আরবে কুনিয়াত রাখার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। সাধারণত সন্তানের নামের আগে “আবু” বা “উম্মু”যোগ করে নাম রাখাকে কুনিয়াত বলা হয়।যেমন-আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম,উম্মে হারাম রা.। ২.নসব(বংশসুচক নাম) পিতা বা পূর্ব-পুরুষের নামের পূর্বে ইবনে বা বিনতে যোগ করে নাম রাখা।ইবনে মাসউদ রা.ইবনে উমর রা. ৩.ইসম(নাম) মুল নামটিকে ইসম বলা হয়।যেমন-আব্দুল্লাহ,আব্দুর রহমান ইত্যাদি। ৪.নিসবত(সম্মন্ধসুচক নাম) বংশ, গোত্র,পেশা, বাসস্থান, জন্মস্থান ইত্যাদির বিশেষণ যোগে নামকে নিসবত বলা হয়।যেমন-বুখারী,বুখারা এলাকার দিকে,তিরমীযী তিরমীয শহরের দিকে,তাবারী,তাবারিস্তানের দিকে সম্মন্ধযুক্ত। ৫.লক্বব(উপাধি)সুমহান অবদান বা গুণের কারণে যে বিশেষণে ভূষিত করা হয়।যেমন-মুসা কালীমুল্লাহ,ইবরাহীম খলীলুল্লাহ। ইমামে আযম,মুফতীয়ে আযম ইত্যাদি।(ইসলামে শিশুদের আধুনিক নামকরণ-মাওলানা ফজলুর রহমান আশরাফী,এমদাদিয়া বুক হাউস।)
পূর্বের নাম পরিবর্তন: অনেকের ধারণা,নাম একবার রাখলে আর পরিবর্তন করা যায় না।বিষয়টি সঠিক নয়।নাম যদি সুন্দর ও অর্থবহ না হয় তাহলে তা পরিবর্তন করে ভালো ইসলামী নাম রাখা যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্দর ও অর্থবহ নাম পছন্দ করতেন।নাম অর্থহীন হলে অনেক সময় তা পরিবর্তন করে দিতেন। এক সাহাবী বলেন,হুনাইনের যুদ্ধে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম।তিনি আমার নাম জিজ্ঞেস করলে বললাম,গুরাব(কাক)।তিনি বললেন,না,তুমি মুসলিম।”(আদাবুল মুফরাদ,৮৩১)
আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় নাম: ইবনে উমর রা.হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালার কাছে তোমাদের নামগুলোর মধ্যে প্রিয়তম হল, আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান”।(সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৪৮০/২১৩২,কিতাবুল আদব) আল্লাহর নিকট অপছন্দনীয় নাম: আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে লোকের নাম মালিকুল আমলাক (রাজাধিরাজ) রাখা হয়েছে, আল্লাহর কাছে সেটি সর্বনিকৃষ্ট নাম। (মুসলিম,৫৫০৩,আদাবুল মুফরাদ, ৮২৪) তাই আসুন! সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখার ব্যাপারে যত্নবান হই।
নামের জন্য বাজারে এখন সুন্দর সুন্দর বই পাওয়া যায়। ইসলামে শিশুদের আধুনিক নামকরণ-মাওলানা ফজলুর রহমান আশরাফী,এমদাদিয়া বুক হাউস, বইটি নাম রাখা ও নামের অর্থ জানার জন্য এমন একটি ভালো বই।
















