করোনাকালে সরকারের ব্যাংক ঋণের রেকর্ড

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ বা ধার করার লক্ষ্য ধরেছিল সরকার।

পরে তা বাড়িয়ে ৭২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে এই বিশাল লক্ষ্যকেও ছাড়িয়ে প্রায় লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে সরকারের ধার।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এত বেশি ঋণ নেয়নি সরকার।

অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, এই অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে বলে তার মনে হচ্ছে।

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে রাজস্ব আদায় কমায় সরকারের এছাড়া আর কোনো উপায়ও দেখছেন না আরেক বিশ্লেষক এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

করোনাভাইরাস মহামারীতে বিশ্বেসহ দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৩১ মে পর্যন্ত অর্থাৎ ১১ মাসে (জুলাই-মে) সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৯৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ায় এ খাত থেকে ঋণ পাওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ১৯ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকার নিয়েছিল মাত্র ৯২৬ কোটি টাকা।

তার আগের বছর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকার যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল, পরিশোধ করেছিল তার চেয়ে ১৮ হাজার ২৯ কোটি টাকা বেশি।

তার আগের অর্থবছরে নিয়েছিল মাত্র ৪ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছর সরকারের ঋণ কমেছিল ৬ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর  বলেন, সরকারের রাজস্ব আয় কমেছে। আবার করের হার বৃদ্ধি এবং আইনকানুন কঠোর করায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে গেছে। সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যও কমিয়ে এনেছে।

“ফলে সরকারের এখন একটাই পথ ব্যাংক ঋণ। আর সেটাই করছে। এছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই। দেশ চালাতে হলে এটা করতেই হবে।”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য ধরেছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আদায়ে ধীরগতির কারণে তা কমিয়ে ৩ লাখ ৫০০ কোটি টাকা করা হয়।

গত এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি আদায় হয়েছে, যা ওই সময়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬২ হাজার কোটি টাকা কম।

আহসান মনসুর বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে আয়কর, আমদানি শুল্ক, ভ্যাট-কোনো খাতেই এখন কর আদায় হচ্ছে না। আমি হিসাব করে দেখেছি, অর্থবছর শেষে সংশোধিত লক্ষ্যের চেয়েও প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার মতো রাজস্ব কম আদায় হবে।”

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে ৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৫ শতাংশ কম।

এ জন্য চলতি অর্থবছরের সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ২৭ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১২ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

এর ফলে খরচ মেটাতে সরকার পুরোপুরি ব্যাংক ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, বলেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান মনসুর।

পূর্ববর্তি সংবাদসৎ কর্মকর্তা ভোক্তা অধিকারের শাহরিয়ার: আল্লাহর দয়ায় অবশেষে করোনামুক্ত
পরবর্তি সংবাদপিরোজপুরে নবী ও ইসলাম নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তি, গ্রেফতার ১