শ্রীমঙ্গলে মা-মেয়ে খুনের রহস্য উন্মোচন, ঘাতক স্বামী গ্রেফতার

শ্রীমঙ্গলে মা ও মেয়েকে নিজ ঘরে খুনের আসামী ঘাতক আজগর আলী গ্রেফতার। ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মা ও মেয়েকে নিজ ঘরে খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মেয়ের স্বামী ঘাতক আজগর আলী খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

উপজেলার ৬নং আশিদ্রোন ইউনিয়নের পূর্ব জামসী গ্রামে গত বৃহষ্পতিবার রাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মা জায়েদা বেগম (৫৫) ও মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার (২৫)।

শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পর তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশের একটি চৌকস দল শনিবার রাতে সিন্দুরখান ইউনিয়ন থেকে আজগর আলীকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি খুনের দায় প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে স্বীকার করে জানান, দেড় বছর ধরে তার স্ত্রীকে আটকে রেখেছে শাশুড়ি।

তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বউ-শাশুড়ি দুজনকেই খুন করেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি তার শ্বাশুড়ির ঘরের পিছনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে

পাইপ দিয়ে প্রথমে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাশুড়িকে বুকে ও পেটে আঘাত করে খুন করেন। এ সময় মায়ের চিৎকার শুনে তার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের ঘুম ভেঙে যায়।

উঠে মাকে খুন করতে দেখে ফেলেন। এ সময় তিনি স্বামীকে বাধা দেন এবং মাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন। খুনের ঘটনার সাক্ষী না রাখতে স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারকেও নির্মমভাবে খুন করেন আজগর আলী।

দুজনকে খুন করে ঘরের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পালিয়ে গিয়ে রাতের মধ্যেই পাশ্ববর্তী সিন্দুরখান ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে দুই শিশু ছেলেকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘটনা জানাজানি হলে তিনি ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এ ব্যাপারে আশরাফুজ্জামান আরও জানান, ঘটনার সময় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সুযোগে ঘাতক একাই মা-মেয়েকে হত্যা করেছে এবং এ ঘটনার দায় স্বীকার করে মৌলভীবাজার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত থেকে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, খুনের ঘটনার পর নিহত জাহেদা বেগমের ছেলে ওয়াহিদ মিয়া গণমাধ্যম ও পুলিশকে জানিয়েছিলেন- তার বোনের স্বামীর সঙ্গে গত দেড় বছর ধরে তাদের পারিবারিক কলহ চলছিল। এ সূত্র ধরেই পুলিশ শেষ পর্যন্ত খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুছ ছালেক জানান, খুব শিগগিরই আসামির দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই করে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হবে।

আরো পড়ুন: শ্রীমঙ্গলে দুর্বৃত্তের হাতে নিজ ঘরেই খুন হলেন মা ও মেয়ে

পূর্ববর্তি সংবাদদাওয়াত দেওয়ার কুরআনি পদ্ধতি
পরবর্তি সংবাদশ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা প্রত্যাহার করতে হবে: নেজামে ইসলাম পার্টি