ওয়াশিংট ডিসি থেকে ন্যাশনাল গার্ড প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বিক্ষোভকারীদের এতদিন সমানে গালাগাল আর গভর্নরদের হুমকি-ধামকি দিলেও কিছুটা পিছু হটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে প্রতিদিনই বিক্ষোভ হলেও ট্রাম্পের এখনকার দাবি সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে। তাই খোদ রাজধানী ওয়াশিংট ডিসি থেকে ন্যাশনাল গার্ড প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এদিকে, ফ্লয়েড হত্যার জেরে মিনিয়াপোলিসের পুলিশ বিভাগকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শহরটির কাউন্সিলরা। সংস্কার হবে নিউইয়র্ক পুলিশেরও।

বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে নতুন মাত্রা জুগিয়েছে চিকিৎসাকর্মীদের এ ক্ষোভ। করোনায় টালমাটাল যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের নির্মমতায় কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে হাসপাতাল ছেড়ে নিউইয়র্কের রাস্তায় নামেন ডাক্তার-নার্সরা।

বিক্ষুদ্ধ এক আন্দোলকারী বলেন, ‘কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক এবং গরিব রোগীদের চিকিৎসায় কেমন বৈষম্য হয় এটা সবারই জানা। এটা বন্ধ করতে হবে।’

‘আমি খুবই গর্বিত যে আমি ভালো একটা উদ্যোগের অংশ হতে পারছি, আশা করছি ভালো কিছু হবে।’

উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রে লাখো মানুষের এমন প্রতিবাদ দেখেছে লস অ্যাঞ্জলেস।

হোয়াইট হাউসের সামনেও প্রতিবাদী হাজারো জনতা। ওয়াশিংটন ডিসির সড়ক থেকে ন্যাশনাল গার্ডকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ভার্জিনিয়ায় বিক্ষুদ্ধ আন্দোলকারীরা উপড়ে ফেলেন সাবেক সিনেটর উইলিয়ামস কার্টার ভিকহ্যামের ভাস্কর্য।

চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এবার আরেক কৃষ্ণাঙ্গকে আহত করায় অভিযোগ গঠন হয়েছে ভার্জিনিয়ার এক পুলিশের বিরুদ্ধে। ফ্লোয়েডকে নিপীড়নে জড়িত মিনিয়াপোলিসের পুলিশ বিভাগকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শহরটির কাউন্সিলরা। সংস্কার হবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগেরও।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল দে ব্লাসিও বলেন, ‘কৃষ্ণাঙ্গ, লাতিনো এবং এশীয় ককাস বারবার এ বাহিনীর সংষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলো। আমাদের মূল ফোকাস হলো, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে তারুণ্যনির্ভর এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত করা।’

বর্ণবাদ বিরোধী বড় প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেষ্টার ও নটিংহামে। মার্কিন দূতাবাস ঘেরাওকালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে।

ইংল্যান্ডের ব্রিসটলে, বিক্ষুদ্ধ আন্দোলনকারীরা উপড়ে ফেলেন সপ্তদশ শতাব্দীর দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কোলস্টোনের ভাস্কর্য। অবশ্য, টুইটে পুলিশের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, স্পেন এবং ইতালিতেও প্রতিবাদে যোগ দেন হাজারো মানুষ। বর্ণবাদ ইস্যুতে উত্তপ্ত করোনায় বিপর্যস্ত লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলও।

পূর্ববর্তি সংবাদবেনাপোলে ফেনসিডিলের চালান আটকের সময় বিজিবির ওপর হামলা
পরবর্তি সংবাদআল্লামা আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, গুজব না ছড়ানোর আহ্বান