আম্মাজান আয়েশা রাযি. : ইলমি কারনামার এক ঝলক

ইবরাহিম দুওয়াইরি ।।

‘এই উম্মতের নারীদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী হলেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা রাযিআল্লাহু আনহা’। আম্মাজানের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে ই’লামুল মুআক্কিয়ীনে ইমাম ইবনুল জাওযি বলেছেন এ কথা। একই রকম বক্তব্য আছে সিয়ারু আলামিন নুবালাতে। ইমাম যাহাবি আরও আগবাড়িয়ে বলেছেন, মানবজাতির ইতিহাসেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানের অধিকারী নারী হলেন আম্মাজান আয়েশা রাযি.।

তাবাকাতে ইবনু সা’দে আছে- ‘প্রথম দুই খলিফার আমলেই হযরত আয়েশা রাযি. নিজস্ব ফতোয়া প্রদানে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। উমর রাযি. এবং উসমান রাযি. ছাড়াও বড় বড় সাহাবায়ে কেরাম সমস্যাপূর্ণ কোনো বিষয়ে আয়েশা রাযি.-এর মত জানতে লোক পাঠাতেন।

দীর্ঘ সময়জুড়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংশ্রব এবং নৈকট্যের কারণে আম্মাজান আয়েশা রাযি.-এর জ্ঞান অনেক সমৃদ্ধ ছিল। রাসূল থেকে তার বর্ণিত হাদিসগুলোর অধিকাংশ ফিকহি আহকাম সম্পর্কিত।

ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশি হাকিম নিসাপুরী সূত্রে বর্ণনা করেছেন, শরিয়তের এক চতুর্থাংশ ইলম আম্মাজান হযরত আয়েশা রাযি. মারফত হাসিল করা গেছে। কেবল মাত্র বুখারী, মুসলিমেই দুইশত সত্তরের বেশি হাদিস আম্মাজান হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে। শায়খ সাঈদ ফায়্যায দাখিল ‘মাওসুআতু ফিকহি আয়েশা’ নামক কয়েক খণ্ডের বিশাল কলেবরের এক গ্রন্থে আম্মাজান থেকে বর্ণিত হাদিস এবং ফিকহী মতামত সংকলন করেছেন।

শায়খ সাঈদ দাখিল বলেন, কোনো বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের পারস্পরিক মত পার্থক্য হলে আম্মাজানের মতামতকে চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করা হতো। কেননা তিনি রাসূলের সাথে একই ছাদের নিচে দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন। আয়েশা রাযি. কে খেলাফতের প্রারম্ভিক যুগের বিশিষ্ট সাত ফকীহের অন্যতম মনে করা হয়।

আম্মাজান হযরত আয়েশা রাযি. নিজে ফতোয়া প্রদানের পাশাপাশি কোনো বিষয়ে অপরাপর সাহাবাদের প্রদত্ত ফতোয়ার ব্যাপারেও নিজের মতামত প্রকাশ করতেন। এক্ষেত্রে নিজ পিতা এবং প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক এবং পরবর্তী খলিফা উমর রাযি.-এর বিভিন্ন ফতোয়ার ব্যাপারেও তিনি ইসতিদরাক করেন। ‘ইসতিদরাকু আয়েশা’ নামে ইমাম যারকাশি রহ.-এর পৃথক একটি সংকলনও আছে।

নিজে গভীর ইলম অর্জনের পাশাপাশি অনেক বিদ্বান ব্যক্তি তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব, উরওয়া ইবন যুবাইরসহ মদীনার বিখ্যাত সাত ফকীহ হিসেবে খ্যাত প্রত্যেকেই হযরত আয়েশা রাযি. থেকে ইলম অর্জন করেছেন।

অনুবাদ: ওলিউর রহমান।