প্রস্তাবিত বাজেটে কলরেট বৃদ্ধি: যা বলছেন আলেম অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা

ওলিউর রহমান ।।

আরও একদফা মোবাইল ফোন সেবার ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। চলতি বাজেটে সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে মূসক এবং সারচার্জ। এতে প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে সরকারের কাছে কর হিসেবে যাবে ২৫ টাকারও বেশি। আগে যা ছিল ২২ টাকার মতো। মোবাইল ফোনের বাড়তি এই কর বহন করবে না টেলিযোগাযোগ কোম্পানি। ফলে জনগণের পকেট থেকে তা কাটা হবে।

টেলিযোগাযোগ এখন অতীব প্রয়োজনীয় বিষয়। বিশ্বের প্রতিটি মানুষই টেলিযোগাযোগের আওতাভূক্ত। বর্তমান মানুষের স্বাভাবিক জীবন এই জরুরী প্রযুক্তি ছাড়া কল্পনা করা যায় না। ফলে কলরেট বাড়ানোর দুর্ভোগ দেশের প্রতিটি মানুষকেই পোহাতে হয়।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংস্থার পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেটের চুল ছেঁড়া বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা, সমালোচনা হচ্ছে। তবে কলরেট বাড়ানোর বিষয়ে সবাই জোর দিয়ে কথা বলছেন। প্রত্যেকের মুখে মুখে এখন কলরেট বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা।

কলরেট বৃদ্ধির বিষয়টিকে সর্বগ্রাসী দুর্ভোগ হিসেবে মন্তব্য করলেন রাজধানীর বাইতুল উলূম ঢালকানগর মাদরাসার মুহাদ্দিস এবং অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ মুফতি শাব্বির আহমদ।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের নানাদিক নিয়ে নানামুখী বিশ্লেষণ করা যায়। বিশেষজ্ঞগণ তা করছেনও। তবে স্বাভাবিক একটি বিষয় হলো, বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর প্রতিবছর ট্যাক্সের পরিমাণ বাড়ানোই হচ্ছে। সব বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ প্রভাব সরাসরি জনগণের ওপর না পড়লেও জনগণ এর ভোগান্তিমুক্ত নয়। অপ্রয়োজনীয় সকল বৃদ্ধি নিয়েই কথা বলা প্রয়োজন। তবে যে সকল ট্যাক্সবৃদ্ধির প্রত্যক্ষ প্রভাব সরাসরি জনগণের ওপর পড়ে কলরেট বৃদ্ধি তার অন্যতম। তাই এটি বাতিলের বা সংশোধনের দাবি উঠানো যায়।

এদিকে করোনাকালীন বাজেটে কলরেট বৃদ্ধি এবং ইন্টারনেট পরিসেবার খরচ বাড়িয়ে দেওয়াকে সরকারের স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত বললেন অপর অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ এবং রাজধানীর মালিবাগ মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি আবদুল্লাহ মাছুম।

তিনি বলেন, একদিকে সরকার করোনাকালে মানুষকে ঘরে থেকে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ফোনের মাধ্যমে সারতে বলছে, অপরদিকে ফোনের কলরেট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে।

মুফতি আবদুল্লাহ মাছুম বলেন, কলরেট বাড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তি দেখানো হয়েছে, মানুষ যেন ফোনে কম কথা বলে, শিক্ষার্থীরা যেন ফোন ব্যবহার কম করে। আসলে এটা একটা অগ্রহনযোগ্য কথা। অপ্রয়োজনীয়তা রোধ করতে গিয়ে মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগকে বাধাগ্রস্থ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এই কলরেট বৃদ্ধি বাতিলের যে আওয়াজ উঠেছে তার সাথে সংহতি জানিয়ে সরকারের উচিত এই প্রস্তাবকে উইথড্র করা।

পূর্ববর্তি সংবাদকরোনা-বিক্ষোভের মাঝেই নির্বাচনী প্রচারে নামছেন ট্রাম্প
পরবর্তি সংবাদবাজেটে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও জনবান্ধব সংশোধনী আনতে জমিয়তের আহ্বান