বাজেটে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও জনবান্ধব সংশোধনী আনতে জমিয়তের আহ্বান

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’ শিরোনাম দিয়ে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হলেও প্রকৃত অর্থে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক সঙ্কট উত্তরণ এবং সুষম অর্থব্যবস্থাপনার কোন দিক-নির্দেশনা নেই বলে উল্লেখ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

আজ (১২ জুন) নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন এবং মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, নতুন বাজেটে মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন যাত্রাকে আরো ব্যয়বহুল ও সঙ্কটময় করে তুলবে। বিলাসী ব্যয় নিরুৎসাহিতকরণের আবরণে সর্বস্তরের মানুষের জীবন যাপনে অপরিহার্য ও ব্যাপক ব্যবহৃত বেশ কিছু খাতে কর বৃদ্ধি ও বিস্তৃত করা হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার আবরণে শিল্পতিপতিদের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জমিয়তের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রস্তাবিত মোট বাজেটের প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগই ঋণ নির্ভর। এতে করে সরকারের ব্যাংক নির্ভরতা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের উপর জাতীয় ঋণের বোঝা ভয়াবহ রূপ নিবে।

জমিয়ত শীর্ষ নেতৃদ্বয় বলেন, প্রস্তাবিত এই বাজেট সংশোধন ছাড়া পাশ হলে একদিকে সাধারণ মানুষের জীবন-যাপনের ব্যয় বাড়বে, অন্যদিকে বড়লোকদের আরো ধনবান হওয়ার পথ সহজ হবে। দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনারোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ না থাকায় অর্থনৈতিক বৈষম্য ও ধনী-গরীবের ব্যবধান আরো বাড়বে। তাছাড়া ব্যাপক ব্যাংক ঋণ ও প্রণোদনার কারণে ব্যাংকিং খাতকে আরো রুগ্ন করে তুলবে। বাজেটে কালো টাকা সাদা করার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, এতে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে।

জমিয়ত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মহাসচিব বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা আনয়নের কার্যকর প্রতিশ্রুতি, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা, দুর্নীতির পথ কঠোরভাবে রুদ্ধ করার যৌক্তিক উপায়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং সর্বসাধারণের নিত্য ব্যবহার্য পণ্যে বাড়তি করোরোপ না করা’সহ জনবান্ধব সংশোধনী আনতে আমরা সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

পূর্ববর্তি সংবাদপ্রস্তাবিত বাজেটে কলরেট বৃদ্ধি: যা বলছেন আলেম অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা
পরবর্তি সংবাদব্যাংকে টাকা আছে, ঋণ নিলে কোনো সমস্যা হবে না: গভর্নর