করোনা ভাইরাস: দেশে এক লাফে সুস্থতার সংখ্যা ১৭ হাজার থেকে বেড়ে ৩৪ হাজার

স্বাস্থ্য অধিদফতর

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: গতকালের আগ পর্যন্ত দেশে কভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৭৩০। গতকাল সংখ্যাটি এক লাফে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশে কভিড-১৯ সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ২৭। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে সুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১৫ হাজার ২৯৭ জন।

একদিনে এত বেশিসংখ্যক রোগী সুস্থ হওয়ার ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এতদিন কেবল বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হওয়া রোগীদের তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছিল। এখন পর্যন্ত যারা বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন, তাদের ‘আনুমানিক সংখ্যা’ যোগ করা হয়েছে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়।

সুস্থ রোগী বেড়ে যাওয়ায় বড় উল্লম্ফন হয়েছে সুস্থতার হারেও। ১৪ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে সংক্রমিত কভিড-১৯ রোগীদের মধ্যে সুস্থতার হার ছিল ২১ দশমিক ৪ শতাংশ। গতকাল তা ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হিসাবে, সারা দেশে যতটা কভিড-১৯ রোগী আছে, তার প্রায় ৭০ শতাংশই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। রোগী সুস্থ হওয়ার তালিকারও সিংহভাগ দখল করে আছে ঢাকা। গতকাল পর্যন্ত ঢাকায় সুস্থ হয়েছেন ২৩ হাজার ৩৬১ জন। সুস্থ রোগীর তালিকায় ঢাকার পরই অবস্থান করছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৭০৭। একইভাবে রংপুর বিভাগে ১ হাজার ২৩৭ জন, সিলেটে ৯৬২, ময়মনসিংহে ৯৭৭, রাজশাহীতে ৭৮০, খুলনায় ৬০৩ ও বরিশাল বিভাগে গতকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪০০ জন করোনা রোগী।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শততম দিন ছিল গতকাল। এদিন নতুন করে ৩ হাজার ৯৯ জন করোনাভাইরাসে শনাক্ত হওয়ার তথ্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তাদের শনাক্তের জন্য সব মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৩৮টি নমুনা। গত ২৪ ঘণ্টায় কভিড-১৯ শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৬১ শতাংশ।

শততম দিনে এসে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বারো শ ছাড়িয়ে গেল। গতকালের অনলাইন বুলেটিনে নতুন করে আরো ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৯ জনে। দেশে শনাক্ত বিবেচনায় করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের ৩২ জন পুরুষ, ছয়জন নারী। ১৮ জনই ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ জন, সিলেটে ছয়জন, বরিশালে একজন ও রংপুর বিভাগে আরো একজনের মৃত্যু হয়।

গতকাল ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের মধ্যে ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিলেন আরো তিনজন। একইভাবে ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৫ জন এবং ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে মৃত্যু হয় আরো পাঁচজনের।

পূর্ববর্তি সংবাদকলম্বাস সম্পর্কে অজানা কয়েকটি তথ্য
পরবর্তি সংবাদকরোনার ধাক্কা: কর্মীদের বেতন কমালো তিনটি ব্যাংক